উত্তরখানে ভিটে বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও পথচারিদের অভিযোগ

নজর প্রতিবেদক: উত্তরখানে ভিটে বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও পথচারিদের অভিযোগ ।
রাজধানীার উত্তরখাঁন তেরমূখ ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে ভিটে বালুর জমজমাট ব্যবসা। চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরিয়তপুরের মেঘনা, পদ্মা নদীর চরাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে প্রতি ঘনস্কয়ার ফুট বালু মাত্র ৫০ পয়সা মূল্যে নদী পথে স্টীল বডি ট্রলারের মাধ্যমে বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়। উত্তরখাঁন তেরমূখ ব্রিজ সংলগ্ন বিআইডবিøউটি’র কন্সট্রাকশন কাজের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় জোর পূর্বক স্টীল বডি ট্রলার থামিয়ে ড্রেজার পাইপের মাধ্যমে রাস্তার পাশে ফসলি জমিতে বালু খালাস করা হয় ।

খালাস করা বালুর পানির সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে বালুর ছোট ছোট কনিকায় ভরে উঠেছে উত্তরখান তেরমূখ ব্রিজের প্রথম সেতুর কড়াইআডি খাল। ভরাটের কারনে খরা মৌসুমে প্রায় ১ হাজার হেক্টর ফসলি জমি উত্তরখাঁনে চাষাবাদহীন হয়ে পড়ে। যেকারনে তুরাগ ও বালু নামে দুটি নদী সংযোগকারি তেরমূখ ব্রিজ ও নদী দুটির দুই পাড়ে এবং মাঝে ছোট ছোট বালুর স্থরের জমাট দেখা দিয়েছে। উত্তরা থেকে গাজীপুর কালিগঞ্জের উলূখোলা যাতায়াতের একমাত্র সহজ রাস্তা এটি। ব্রিজ থেকে আব্দুল্লাহপুর মূখি এক কিলোমিটার পিছ ঢালাই রাস্তায় কয়েক স্তর বালুর আবরন পড়ে আছে। শীতের শুকনো এই মৌসুমে রাস্তাটিতে মাঝে মধ্যে মনে হয় মরুভূমির বালুর ঝড় হচ্ছে, যে কারনে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারি যান চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গাড়ী দেখলে ধূলোবালির ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে সাধারন মানুষ। কিন্ডারগার্ডেন স্কুলে ছাত্র পাঠানো যাবে কিনা সন্দেহে অভিবাবকবৃন্দ। ফল গাছের মুকুলে বালুর আবরনের অভিযোগ করছেন এলাকাবাসি। এ বিষয় নিয়ে স্থানরীয়দের অভিযোগও কম নয়। বিভিন্ন ফলজ ও ঔষধি কাছ গুলো মৃত প্রায়। এখনি ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশের ক্ষতি সাধন রোধ করা সম্ভব হবে না বলে জানান, এলাকার একাধিক ব্যক্তি।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উত্তরখাঁন তেরমূখ ব্রিজের এক কিলোমিটার আগ থেকে রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে বালু ব্যবসায়ীদের আঁখড়া। তারা তাদের ব্যক্তিগত এলাকা মনে করে যেভাবে ইচ্ছে বালু বিক্রি করছে। সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের বিবেকে কাজ করে না। বালুর ট্রাক থেকে বাতাসে বালুর কনা উড়ে পড়ছে মানুষের শরীর ও ঘরবাড়িতে। ট্রাকে বালু বহনের সময় বাতাসে যাতে বালু না ছড়িয়ে পড়ে, এজন্য তাবু দিয়ে বালু ঢাকার নিয়ম থাকলেও, নিয়ম না মানার অঙ্গিকার নিয়ে বসে আছে বালু ব্যবসায়ীরা।
এবিষয়ে বালু ব্যবসায়ী তুষার হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি মাঝে মধ্যে পানি দিয়ে রাস্তা ধুয়ে দেই। অপর এক ব্যবসায়ী রতন কাজী প্রতিবেদককে বলেন, আমি একা নই আরো চার জন ব্যবসায়ী আছে, সবার সাথে কথা বলে আপনার সাথে পরে কথা বলবো।
বিষয়টি নিয়ে ৪৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম মোল্লা’র ব্যবহারিক মোবাইলে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মজিদ জানান, আমি নতুন এসেছি, খোজ খবর নিয়ে পরে বলতে পারবো।