ট্রাইবুনালের ইতিহাসে খালাস পেলেন আব্দুল লতিফ

ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ৪২টি মামলায় রায় দিয়েছেন। এসব মামলায় রায়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন মোট ১১২ জন আসামি।

 এর মধ্যে ১১১ জন মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হয়েছেন। আর খালাস পেয়েছেন মাত্র একজন আসামি।খালাস পাওয়া একমাত্র আসামি হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের তোলালী গ্রামের মৃত হোসেন আলী মীর ওরফে হোসেন মুন্সীর ছেলে মো. আব্দুল লতিফ।

বৃহস্পতিবারের (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া ৪২তম রায়ে ৯ আসামির মধ্যে তিনি খালাস পেয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে তিনি প্রথম খালাস পেয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হককে চেয়ারম্যান, বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ একেএম জহির আহমেদকে সদস্য করে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দুই বছর পর ২০১২ সালের ২৩ মার্চ বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হয়। পরবর্তীসময়ে ট্রাইব্যুনাল-২ নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বিচার শেষে প্রথম রায় আসে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। ওইদিন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার ৪২তম রায় দেওয়া হলো।

গফরগাঁওয়ের মামলায় ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারজনকে হত্যা, নয়জনকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে তারা এসব অপরাধ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ অভিযোগ গঠন করেছিলেন আদালত। এর মধ্যে গ্রেফতার ছিলেন মো. খলিলুর রহমান মীর, মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, মো. আব্দুল্লাহ, মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী ও আব্দুল লতিফ।

পলাতক ছিলেন এএফএম ফয়জুল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, সিরাজুল ইসলাম তোতা, আলিম উদ্দিন খান ও নুরুল আমিন শাহজাহান।

বিচার চলাকালে মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার ও পলাতক থাকা অবস্থায় নুরুল আমিন শাজাহান মারা যান।

বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, এএফএম ফয়জুল্লাহ (পলাতক), আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলকে (পলাতক) আমৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়।

২০ বছর করে সাজা দেওয়া হয় মো. খলিলুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী, আলিম উদ্দিন খান (পলাতক) ও সিরাজুল ইসলাম তোতাকে। আর খালাস পান আব্দুল লতিফ।

আব্দুল লতিফের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, গফরগাওঁয়ের তোলালী গ্রামের মৃত হোসেন আলী মীর ওরফে হোসেন মুন্সীর ছেলে মো. আব্দুল লতিফ। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার জন্ম ১৯৫৯ সালে। তিনি ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান। আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠান।

‘তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি দারু খা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু ১৯৭২ সালে দারু খার ছেলে আফাজ উদ্দিন একটি মামলা করেছিলেন। ওই নথি উপস্থাপন করে বলেছি- মামলায় তার নাম ছিল না। এছাড়া নথি অনুসারে ৭১ সালে তার বয়স ছিল ১১ বছর। যেহেতু প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সেজন্য আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। এ আদেশ কারাগারে পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি মুক্তি পাবেন। ’