বরিশালে একই পরিবারের ৭ সদস্যকে কুপিয়ে জখম

বরিশালঃবরিশাল নগরীতে সন্ত্রাসী নাছির গ্রুপের হামলায় একই পরিবারের সাতজন আহত হয়েছে। পরিকল্পিত হামলায় আহতদের মধ্যে দুই ভাইয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

গতকাল বিকেল ৩টায় নগরীর ২২ নং ওয়ার্ডের নবগ্রাম রোডের পিয়ন বাড়ি সংলগ্ন খান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা যায়, নগরীর পূর্ব বগুড়া রোডের আনোয়ারা মঞ্জিলের বাসিন্দা মৃতঃ আব্দুস ছাত্তারের পুত্র সুইডেন প্রবাসী নাসির আহম্মেদ (৪৫), তার স্ত্রী জোসনা বেগম (৪০), নাজমুল হক নোমান, মতিউর রহমান, মিরাজুল ইসলাম, রিয়াজুল ইসলামসহ ২০/২৫ জনের একটি বাহিনী খান বাড়িতে এসে দেশি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে ৭ জনকে আহত করে।

আহতরা হলেন ইঞ্জিঃ আমিনুল ইসলাম খান, মোজাম্মেল আলী খান, জসিম উদ্দিন খান, নাসির উদ্দিন খান, নুরুল ইসলাম, মারুফা ইসলাম রিতু ও এলিজা বেগম। আহতদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেছে। এদের মধ্যে ইঞ্জিঃ আমিনুল ইসলাম খান ও তার ভাইয়ের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছে।

সূত্র জানা যায়, হামলায় আহত ভুক্তভোগী ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের পৈত্রিক জমির সামনে নবগ্রাম রোডের প্রধান সড়কের পাশেই প্রায় সোয়া ১ শতাংশ (দৈর্ঘ্য ৪০ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট) জমির মালিক জেলা পরিষদ। বিগত দুই যুগ ধরে জেলা পরিষদের ওই সোয়া ১ শতাংশ জমি স্থানীয়দের চলাচল ও ফুটপাতের জন্য ব্যবহার হয়ে আসছে।

কিন্তু হঠাৎ করেই জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ ওই ফুটপাত সন্ত্রাসী নাছিরের কাছে লীজ দেয়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়ে এলাকাবাসীসহ ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের পরিবারের লোকজন। কারন যুগযুগ ধরে ফুটপাতের ওই জায়গা এলাকাবাসী এবং আহত আমিনুল ইসলামের পরিবারের লোকজনের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ছিল।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতায় নাছির ওই ফুটপাতের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মানের জন্য পাঁয়তারা চালায়। বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসী ও ইঞ্জিঃ আমিনুল ইসলামের পরিবারের তোপের মুখে সটকে পরে। পরে নাছির বিভিন্ন সময় ইঞ্জিঃ আমিনুল ইসলামকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী ভাড়া করে। সন্ত্রাসীদের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম কোতয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকারের দাবী জানিয়েছেন।

তখন বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের। এরপর থেকেই গা ঢাকা দেয় সন্ত্রাসী নাছির। পরবর্তীর সুযোগের অপেক্ষায় থাকা নাছির গতকাল হঠাৎ করে ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ইঞ্জিঃ আমিনুল ইসলাম খানের পরিবারের উপর হামলা চালায়। আহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়।

এদিকে একই পরিবারের ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করার খবর শুনে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।