জামিননামা জালিয়াতের ঘটনায় ৩০ জন কারাগারে

বগুড়াঃ  আগাম জামিননামা জালিয়াতি করে তৈরির ঘটনায় বগুড়া যুবলীগ নেতা ও নবনির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলামসহ ৩০ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুরে আমিনুল ইসলামসহ ১৬ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন করলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বুধবার (৩ মার্চ) একই ঘটনায় আরও ১৪ জনের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত। বগুড়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রিট বেগম আসমা মাহমুদ এই আদেশ দেন বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল মান্নাফ।

বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- বগুড়া পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম, আবদুল আলিম, আনোয়ার মণ্ডল, মোহাম্মদ বাদল, সেলিম, কিবরিয়া, রাশেদুল, সাদ্দাম, মাহমুদ, রতন, সেলিম রেজা, রুহুল আমিন, জাহিদুর রহমান, নুর আলম মণ্ডল, বিপুল ও সুমন প্রামাণিক। এছাড়াও বগুড়া সদরও উপজেলার গোদারপাড়া এলাকার লিটন প্রামাণিক, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ জাকির, মোহাম্মদ তানভির, মোহাম্মদ আবদুল গণি, রাসেল মণ্ডল, আসাদুজ্জামান মনা, খোকন, শিপন, আল আমিন, দীপ্ত, মিরাজ, হেলাল ও রাব্বী।

বগুড়ায় মোটরমালিক গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১০ ফেব্রুয়ারি পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে একটিতে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম মোহনের ছোট ভাই মশিউল আলম দীপন বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে ৩৩ জনের নামোল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৩৩ আসামির মধ্যে ৩০ জনের হাইকোর্টের জামিননামার ভুয়া নথি তৈরি করা হয়।

ভুয়া জামিননামার বিষয়টি গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধরা পড়ার পরপরই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ আসামিদের সাতদিনের মধ্যে গ্রেফতারের আদেশ দেন। বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এই নির্দেশ দেওয়া ছাড়াও বিষয়টি তদন্ত করতে বগুড়ার মুখ্য বিচারিক হাকিমকেও নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। এরই একপর্যায়ে আসামিরা আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করেন।