বিদ‍্যালয়ের জমিদাতার স্বীকৃতি নিয়ে অপপ্রচার! প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নজর প্রতিবেদকঃ ফরিদপুরের মধুখালি উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের জাহাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে জমিদানকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উক্ত স্কুল মাঠে এক সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষকবৃন্দ।

ওই সংবাদ সম্মেলনে জাহাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা মরহুম হাজী এজাহার উদ্দিন মুন্সির পৌত্র মো. হাবিবুর রহমান মুন্সি বলেন, হাজীএজাহার উদ্দিন মুন্সি এই স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭২ সালে তার নিজ নামে থাকা ১৬ শতাংশ ও তার স্ত্রীর নামে থাকা ৯৫ শতাংশ এবং জনৈক মহিউদ্দিনের নিকট হতে ৯৮ শতাংশ ক্রয় করে সর্বসাকুল্যে ২ একর ৯ শতাংশ জমি দান করেন।

এছাড়া বাগানের বাঁশ বাড়ির ইট দিয়ে তিনি এলাকাবাসীর সহায়তায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত করে যান। সেসময়ে স্কুলের স্বার্থে মরহুম মহিউদ্দিন আহম্মেদের নিকট হতে জমি ক্রয় করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকালীন পরিচালনা কমিটির সদস্য কোরবান আলী বিশ্বাস ও আঃ জব্বার মোল্লা বলেন, টাকার যোগান না হওয়ায় আমরা লটারির আয়োজন করে দুই দফায় স্কুলের জমি কেনার জন্য টাকা সংগ্রহ করি। তখন মহিউদ্দিন আহমেদের নিকট হতে স্কুলের জন্য ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই জমি কিনি।

তবে জমি রেজিস্ট্রির খরচ কমানোর জন্য মহিউদ্দিনের নিকট হতে দানকৃত দলিল নেয়া হয়। বর্তমানে একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং ৪৬ বছর পরে এসে মহিউদ্দিন আহম্মেদকে দাতা সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে অপপ্রচার করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন রেখে বলা হয়, যদি মহিউদ্দিন আহমেদ জমি দান করতেন তবে তখনই কেন তিনি দাতা সদস্য হিসাবে দাবি করেননি বা তখনকার স্কুল কতৃপক্ষ তাকে দাতা সদস্য করেননি। কেন তার মৃত্যুর পর বিষয়টি তোলা হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র ঘোষ বলেন, জমিদাতা হিসেবে মরহুম মহিউদ্দিন আহমেদের নামভুক্তির জন্য কেউ লিখিত বা মৌখিক কোনপ্রকার আবেদন করেননি। সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা হাজী এজাহার উদ্দিন মুন্সির পৌত্র জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বর মশিউর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন- মহিউদ্দিন আহম্মেদ স্কুলের জন্য জমি দান করেননি শুধুমাত্র বিক্রয় করেছেন।

এছাড়া স্কুলের জন্য তার কোন অবদান নেই। জাহাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও জমিদাতা আমার দাদা হাজী এজাহার উদ্দিন মুন্সী। তিনি স্কুল ছাড়াও মসজিদ, মাদ্রাসা, ডাকঘর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্থানীয় হাট, ইউনিয়ন পরিষদ,কবরস্থান ও রাস্তায় জমি দান করেছেন এবং এগুলো প্রতিষ্ঠায় মেধা, শ্রম ও অর্থব্যয় করেছেন। জনগনের বিপদে পাশে দাড়িয়েছেন ও অর্থ সহায়তা করেছেন- যার সাক্ষী এলাকার জনগন।

সংবাদ সম্মেলনে জাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোল্যা ইসহাক হোসেন, প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, ইউপি সদস্য মো. আলী আকবর বিশ্বাস, ইউপি সদস্য শিবানন্দ বিশ্বাস, স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি আ. জব্বার মোল্যা, আলী আকবর মোল্যা, আজাদ রহমান টিক্কা, কেরামত আলী মোল্যা, সুলতান আহমেদ, হাজী কোরবান আলী বিশ্বাস, শফিকুল ইসলামসহ এলাকার জনগন উপস্থিত ছিলেন।