বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শ

“আদর্শ” মানুষের ব্যক্তিত বহুগুনে বাড়িয়ে দেয়। নীতি হতে পারে ব্যাক্তি বা দশের স্বার্থে। মানুষের সামগ্রীক গুনাবলী যখন দেশ ও দশের স্বার্থে ব্যবহৃত হয়, তখন সেটি আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মতাদর্শগতভাবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতায় অবিচল ছিলেন বাংলার স্থপতি ও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পরাধীনতার শৃঙখল ভেঙ্গে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন তিনি । তার ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি আজ বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে বলছে, আমি বাঙালি, বাংলা আমার ভাষা। বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি।

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপাল গঞ্জের টুঙ্গি পাড়ায় তার জন্ম। রাজনীতির প্রাথমিক পর্যায়ে শেখ মুজিব ছিলেন তরুণ ছাত্রনেতা। জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন রাজনীতিতে। মানুষের অসহায়ত্বের কথা চিন্তা করে মেহনতি মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে জীবনের অধিকাংশ সময় পার করেছেন।
মেহনতি মানুষের কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারতেন না। জনগনের স্বাধিকার প্রতষ্ঠার লক্ষে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছয় দফা দাবির মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তোলেন। যাকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনা হিসেবে ঘোষণা করেছিল। বাংলার শ্রমজীবি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিটি আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন। যে কারনে বহুবার তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে । তার পরও তিনি নীতি ,আদর্শ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সরে দাড়াননি। সব ধরনের নির্যাতন উপেক্ষা করে সাধারন মানুষের দুঃখ দুর্দশা লাঘবে সর্বাত্মক লড়াই করেছেন। ছয় দফা দাবির কারনে আগরতলা মামলার প্রধান আসামী করা হয় শেখ মুজিবুর রহমানকে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের কারণে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় শৈরাচারী শাসক।

১৯৭০ সালে নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করা সত্যেও তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। পাকিস্তানের নতুন সরকার গঠন বিষয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ জুলফিকার আলী ভুট্টোর সাথে শেখ মুজিবের আলোচনা বিফলে যাওয়ায় ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকা শহরে গণহত্যা চালায়। একই রাতে তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় । বিগ্রেডিয়ার রহিমুদ্দিন খানের সামরিক আদালতে তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করলেও তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়। মাসব্যপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে “বাংলাদেশ” নামক স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে নিজ দেশে ফিরে এসে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট একদল উশৃঙ্খল সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সপরিবারে নৃশংস ভাবে নিহত হন। বাংলার মাটি থেকে শেখ মুজিবুর রহমান নাম টি মুছে ফেলতে চাইলেও তারা সক্ষম হয়নি বরং ইতিহাসের অধ্যায়ে স্বর্ণালি বর্ণে তার নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সাহিত্যে স্থান পেয়েছে তার আদর্শ। বাংলার সংস্কৃতিতে আজ তিনি চির অম্লান। ২০০৪  সালে বিবিসি কর্তৃক পরিচালিত জনমত জরিপে শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মোঃ আমিনুল ইসলাম।

নির্বাহী সম্পাদক

নজর বিডি ডট কম