বিমানবন্দর, ফার্মগেট ও রাজারবাগে ১৪ হাজার মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করলো ডিএমপি

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : করোনা মোকাবেলায় জনসাধারণকে সচেতন, অনুপ্রাণিত, মাস্ক পরতে ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করতে ‘মাস্ক পরার অভ্যেস, করোনামুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবং করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে আবারো মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
আজ রোববার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশব্যাপী আইজিপি’র নির্দেশক্রমে পুলিশের বিশেষ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিনে রাজধানীর বিমানবন্দর, ফার্মগেট ও রাজারবাগ পৃথক তিনটি এলাকায় ১৪ হাজার মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা ও তেজগাঁও বিভাগ।

আজ বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার বিমানবন্দর রেলস্টেশন গোলচত্বর এলাকায় ৫ হাজার মাস্ক বিতরণ এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ।
এসময় তিনি বিমানবন্দর গোলচত্বর, বিমানবন্দর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর রোডের বাসের যাত্রী, সাধারণ মানুষ ও শিশু,নারী-পুরুষ পথচারীদের মুখে মাস্ক পরিয়ে দেন।
মাস্ক বিতরখালে উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান সর্দার, (এডিসি) তাপস কুমার দাস, (এডিসি) মো: হাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারি পুলিশ কমিশনার (এসি) মো: রেজাউল করিম রেজা, বিমান বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বি এম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: কামাল উদ্দিন, পেট্রোল ইন্সপ্যাক্টর (পিআই) মনিরুল ইসলাম মনিরসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাস্ক বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডিসি মো: শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা আইজিপি স্যার ও ডিএমপি কমিশনার স্যারের নির্দেশে মাস্ক বিতরণ ও নতুন করে করোনার প্রকোপের কারনে সাধারন মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে মাস্ক বিতরন করছি। সেই সাথে সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দৈনন্দিন কাজ করতে আহবান করছি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা মাঠে আছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। যারা মাস্ক পরছে না,সাবাইকে অনুরোধ করে বলছি আপনারা মাস্ক পরেন, নিজে ভাল থাকেন, আপনার পরিবারকে ভালো রাখেন। আমরা মাস্ক বিতরনের মাধ্যমে এই ম্যাসেজটা দিচ্ছি, যে সচেতনতাই পারে একমাত্র মহামারি করোনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে।
অপর দিকে, আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ৫ হাজার মাস্ক বিতরণ এ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ।
এসময় তেজগাও বিভাগের পুলিশের বিভিন্ন স্তরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মাস্ক বিতরণ কালে উত্তরা বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশব্যাপী করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ পুলিশের মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম আজ রোববার থেকে শুরু হয়েছে। আমরা মূলত জণগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে মাস্ক বিতরণ করছি। অনেকেই যারা রাস্তায় মাস্ক ছাড়া চলাচল করছেন, তাদেরকে মাস্ক বিতরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠপর্যায়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ও জীবনধারা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মাঠে কাজ করছেন।
মানুষকে মাস্ক পরার অভ্যাস করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকেই ইতোমধ্যে টিকা নিয়েছেন। কিন্তু এরপরেও আমাদের সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। আমরা আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে মাস্ক বিতরণ করছি।
এ সময় পথচারীরা পুলিশের এ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন মাস্ক পরার অভ্যাসটা অনেকটা কমে গেছে। পুলিশ যদি এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখে তাহলে করোনা সংক্রমণ কিছুটা হলেও কমবে।
করোনা মোকাবিলায় শুরু থেকেই পুলিশ জনগণের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত পুলিশের ৮৭ জন সদস্য করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন আর আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি সদস্য। এবারও করোনার সংক্রমণরোধে মানুষের সঙ্গে কাজ করবে পুলিশ।
এদিকে, ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম (বার) এর নির্দেশে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর রাজারবাগ এলাকার জনসাধারণের মাঝে ৪ হাজার মাস্ক বিতরণ করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স) মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা। করোনা মোকাবেলায় জনসাধারণকে সচেতন, উদ্বুদ্ধ এবং অনুপ্রাণিত করার পদক্ষেপ হিসেবে মাস্ক বিতরণ করছে ডিএমপি। এসময় এডিসি (ফোর্স) মোঃ গোলাম সবুর সহ অন্যান্য অফিসারবৃন্দ মাস্ক বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, আগামী ২১ মার্চ থেকে ‌’মাস্ক পরার অভ্যেস, কোভিডমুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে দেশব্যাপী বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনুপ্রেরণা ও উদ্বুদ্ধ করবে পুলিশ।