পর্ণোগ্রাফি ভিডিও ও ব্ল্যাকমেইল প্রতারনা সংঘবদ্ব চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেফতার-৪

এস,এম,মনির হোসনে জীবন : রাজধানীতে পৃথক তিনটি স্থানে গোপনে অভিযান চালিয়ে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ পর্ণোগ্রাফি ভিডিও’র মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে প্রতারণা এবং ব্ল্যাকমেইল করা সংঘবদ্ব প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ ৪ জন গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৩) ।
আটককৃত ব্যক্তিরা হলো – কাজী কাদের নেওয়াজ ওরফে পাশা ভাই ওরফে আরিয়ান (২৬), জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিয়াম সাবের রাহাত ওরফে শান আহমেদ (২২), জেলা-কুষ্টিয়া, শান্ত আহমেদ ওরফে সিফাত আহমেদ (২২), জেলা-গাজীপুর ও মাসুম বিল্লাহ ওরফে শ্যামল (২৮), জেলা-পটুয়াখালী।
এলিট ফোর্স র‌্যাব-৩ এর সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ফারজানা হক আজ বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর সদস্যরা আজ বুধবার দুপুর পৌনে ৩ টার দিকে রাজধানীর উত্তরা, গুলশান ও রামপুরা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

অভিযানকালে এ চক্রের সদস্যদের নিকট থেকে ৪ টি মোবাইল ফোন, ৪ টি সিমকার্ড এবং ৯৮ পাতা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের স্কীনশর্ট উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক এএসপি ফারজানা হক জানান,সম্প্রতি র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, কতিপয় প্রতারক এবং কুরুচিপুর্ণ ব্যক্তিবর্গ অনলাইনে এসকর্ট সার্ভিস (অনলাইন যৌনব্যবসা) নামের অপকর্ম পরিচালনা করছে।

মোবাইল ও মেমোরী কার্ডে বিভিন্ন অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সংরক্ষিত রেখে বিভিন্ন সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেনামী আইডি খুলে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে অশ্লীল কথাবার্তা বিনিময়, কুরুচিপূর্ণ ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদানের মাধ্যমে যুব সমাজকে আকৃষ্ট করে তাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর পৃথক তিনটি স্থানে গোপনে অভিযান চালিয়ে পর্ণোগ্রাফি চক্রের মূলহোতাসহ চার সদস্যদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছে, ধৃত আসামীদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও তাদের ব্যবহৃত ফেইক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ ওয়েবসাইট কিংবা সিক্রেট ফেসবুক পেইজ খুলে রাজধানীতে অনলাইন এসকর্ট সার্ভিস (অনলাইন যৌনব্যবসা) নামের অপকর্ম পরিচালনা করতেন। অনৈতিক এই ব্যবসায়ীদের কবলে পড়ে সাধারণ জনগণ বিশেষ করে যুব সমাজের অধঃপতনসহ সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ডিজিটাল দেহ ব্যবসার অন্যতম নাম এসকর্ট সার্ভিস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় খুব সহজেই মানুষ অবৈধ যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছেন এবং তার পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই।

এ সব অবৈধ ব্যবসায়ীর হাত ধরেই অনলাইন দেহ ব্যবসা ব্যাপক বিস্তার লাভ করছে।
র‌্যাব আরও জানান, এ সংঘবদ্ব চক্রটি অনলাইনে কাস্টমারদের কাছ থেকে অর্ডার নিতেন, মেয়েদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং জায়গার ব্যবস্থা করে দিতেন। মেয়েদের বেশির ভাগই কলেজ/ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া তরুণী।
এবিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।