জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাত গৃহীত

একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীসহ কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদে আজ সর্বসম্মতভাবে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের শুরুর দিনে নিয়ম অনুযায়ি স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেন।
মৃত্যুবরণকরীদের মধ্যে রয়েছেন একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩১ সিলেট-৩ আসনের সংসদ-সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ টি ইমাম), সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, সাবেক গণপরিষদ ও সংসদ-সদস্য তোয়াবুর রহিম, সাবেক সংসদ-সদস্য আঃ মজিদ মন্ডল, সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, অফিস সহায়ক মো. রুহুল আমিন এবং দৈনিকভিত্তিক বাৎসরিক অফিস সহায়ক মো. মিজানুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়া দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আতিকউল্লাহ খান মাসুদ, সিকদার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য পারভীন হক সিকদারের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার, ভাষাসৈনিক আলী তাহের মজুমদার, দেশের খ্যাতিমান কলামিস্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, প্রজন্ম ’৭১-এর সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শাহীন রেজা নুর, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর খ্যাতিমান ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ, শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান, হাইকোর্ট বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি এবং সাবেক আইন সচিব বিচারপতি মো. আব্দুল হাই, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের মা জাহান আরা চৌধুরী, দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর সহধর্মিণী ও তেজগাঁও কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মাহমুদা বেগম, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের প্রবীণ অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সংলাপকার ও গল্পকার এটিএম শামসুজ্জামান, বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্য পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান দিলু এবং মার্কিন মিশনারি ও নটর ডেম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ফাদার জেএস পিশোতোর মৃত্যুতে সংসদ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
সাথে সাথে প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশ-বিদেশে যে সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসন-পুলিশের সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মীগণ, ব্যবসায়ী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মৃত্যুতে জাতীয় সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
এছাড়া রাজশাহীর কাটাখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জন পীরগঞ্জবাসী, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্মরণে জাতীয় সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
মৃত্যুবরণকারীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি জাতীয় সংসদ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।

এর আগে চলতি সংসদের সদস্য মরহুম মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর জীবন কর্ম নিয়ে রেওয়াজ অনুযায়ি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও আলেচনায় অংশ নেন, রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন, সরকারি দলের শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, মোহাম্মদ ফারুক খান, নেসার আহমেদ, এনামুল হক, জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান রাঙ্গা, পীর ফজলুর রহমান, বিএনপির হারুনুর রশীদ,
এর পর শোক প্রস্তাবগুলো সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়। পরে সকলের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা ও মাগফিরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া।

সুত্রঃ বাসস।