স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে করা হচেছ জেল ও জরিমানা

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : দেশে চলমান করোনার বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে রাজধানীসহ সারা দেশ জুড়ে তৎপর রয়েছে এলিট ফোর্স র‍্যাব, পুলিশসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজধানীর সড়ক মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ও চালকদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে অনুরোধের পাশাপাশি যারা মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।
এদিকে, র‍্যাবের মূথপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আজ জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতে কঠোর হচেছ এলিট ফোর্স র‍্যাব। যাদের মাস্ক নেই তাদেরকে মাস্ক প্রদান করা হচেছ।

এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করছে র‍্যাব।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বর এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত অভিযান চালায় র‍্যাব-৩ এর সহযোগিতায় একটি ভ্রাম্যমান আদালত। এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‍্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।
অভিযান শেষে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জানান, সরকারের নির্দেশনাগুলো বলবৎ করার লক্ষ্যে যারা মাস্ক পরিধান করছেন না এবং যারা বিনা কারণে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানকালে স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ২৫ জনকে ১২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা ও প্রায় ৮ শতাধিক মানুষের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।
মূলত জরিমানা করাই র‍্যাবের উদ্দেশ্য নয় জানিয়ে তিনি বলেন, র‍্যাবের উদ্দেশ্য হলো দেশে চলমান করোনা প্রতিরোধে মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা।

তিনি আরও জানান, গত সোমবার দুপুরে দুই ঘন্টা ব্যাপী রাজধানীর শাহবাগে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে স্বাস্থ্য বিধি না মানায় ২৫ জনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।এসময় ওই এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়।
এদিকে, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১০ এর (অধিনায়ক) এ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহ্ফুজুর রহমান আজ জানান, কোভিড-১৯ করোনা মোকাবেলায় জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষের‌্যাব-১০ নিয়মিত বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছিল। র‌্যাবের এ অভিযান দেশের সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে ।
এলক্ষে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু করে দুপুর ২ পর্যন্ত র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আক্তারুজ্জামান এর নেতৃত্বে এবং র‌্যাব-১০ এর সমন্বয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত দেশে করোনা কালিন সময়ে মাস্ক পরিধান না করার অপরাধে ১৩ জন ব্যক্তির কাছ থেকে এক হাজার টাকা প্রতীকি জরিমানা প্রদান করেন।
এ্যাডিশনাল ডিআইজি মাহ্ফুজুর রহমান আরও জানান, এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত জনমনে সচেতনাতা বৃদ্ধি লক্ষে সাধারন মানুষের মাঝে ৫শ মাস্ক বিতরণ করেন।
এছাড়া সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আক্তারুজ্জামান ও র‌্যাব-১০ যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাস্ক না পরার অপরাধে ৮ জন ব্যক্তির কাছ থেকে ৬৬০ টাকা প্রতী জরিমানা প্রদান করেন। এসময় ওই এলাকায় র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষে সাধারন মানুষের মাঝে ৫শ মাস্ক বিতরণ করেন। র‌্যাব-১০ এর পক্ষ থেকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রতীকি অর্থদন্ড ও ১৫০০ মাস্ক বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে সরকারি নির্দেশনা মানাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
এদিকে, র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আজ জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সচেতনতার জন্য র‍্যাবের পক্ষ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে মাস্ক, লিফলেট এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি র‍্যাবের টহল দল সাধারণ মানুষের মধ্যে মাস্ক বিতরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট বিতরণ করে যাচেছন।
সরকার যে নির্দেশনা দেবে, সেই সকল নির্দেশনা মেনে আমরা কাজ করবো জানিয়ে র‍্যাবের মূথপাত্র বলেন, লকডাউনের মধ্যেও মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আমরা জনগণকে সচেতন করে তুলতে কাজ করছি। যাদের মুস্ক নেই তাদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হচেছ।এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানাও করা হচেছ।
লকডাউনে যারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে অহেতুক ঘোরাঘুরি করছেন, তাদেরকে এবিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে, যেন তারা জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না আসার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।
এছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তাদের যেসব পেট্রোল ও টহল টিম থাকবে তারাই লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবে। আমরা সরকারী নির্দেশ মতে কাজ করে যাচিছ। এটা পর্যায়ক্রমে আগামী দিনে অব্যাহত থাকবে বলে জানান র‍্যাবের এ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এদিকে, রাজধানীতে ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশও বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে স্বাস্থ্য বিধি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অ্যাপ পরিচালিত রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকলেও চুক্তিতে রাজধানীতে যাত্রী পরিবহন করছে মোটরবাইক চালকরা। যার কারণে মোটরবাইকে দুজন যাত্রী থাকলে তাদের জেরা করা হচ্ছে। এমনকি যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউ বাইরে বের হলে তাদেরও জেরা-জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।
এছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা জেলা প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় বিভিন্ন সড়ক, টার্মিনাল ও বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন বলে বিভিন্ন তথ্য সুত্রে জানা গেছে।।