তুরাগের বালুর মাঠ বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রনে : দু’শ ঘর বাড়ি ও মালামাল আগুনে ভস্মীভূত

এস,এম,মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরের বালুর মাঠ বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স’র উত্তরা ও টঙ্গী থেকে মোট ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় আজ বুধবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আজ দুপুর পৌনে তিনটার দিকে পুরোপুরি ভাবে আগুন নির্বাপন করতে সক্ষম হয় বলে আজ বুধবার জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদরদপ্তরের ডিউটি অফিসার লিমা খানম।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উত্তরা স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম আজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আজ বুধবার দুপুর ১২টা ২ মিনিটের দিকে রাজধানীর উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টর ৫ নম্বর রোড তুরাগের বালুরমাঠ বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হয়। পরে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উত্তরা থেকে চারটি ও টঙ্গী থেকে দুইটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পরবর্তীতে ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ওই বস্তির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরবর্তীতে আজ দুপুর পৌনে তিনটার দিকে পুরোপুরি ভাবে আগুন নির্বাপন করে ফায়ার সার্ভিস। তবে, আগুনে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
বস্তিতে থাকা ময়লা আবর্জনা, ঝুটের কাপড়, অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ থেকে অগ্নিকান্ডের সুত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচেছ।

ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা আরও জানান, অগ্নিকান্ডের ফলে ওই বস্তির ছোট বড় রুম, বসত ঘর, বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্টান, চাল-ডাল, পেয়াজ, আসবারপত্র আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষ।
এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক বস্তিবাসি ও স্থানীয় লোকজন জানান, পুড়ে যাওয়া এ বিশাল বস্তি ও জমির মালিক হলো ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি মেম্বার হাজী মো: মোস্তফা জামান।

তিনিই এ বস্তি ঘরবাড়ি বানিয়ে ঘর ও রুম ভাড়া দিয়েছেন। এখানে রিকসা ওয়ালা, ফেরীওয়ালা, দিনমজুর ও নিন্ম আয়ের কয়েক হাজার মানুষ তাদের পরিবার নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছিল।

সুমি, রুমি ও জামাল নামে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা জানান,অগ্নিকান্ডের কারণে তাদের ঘরের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা এখন থাকবে কোথায় ? আর রোজার মধ্যে খাবে কি ? রাতের বেলায় তারা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নিবেন। এই বলে তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তারা জানান, এই বস্তির অনেক নারী উত্তরার বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গৃহপরিচালিকা ও ভুয়ার কাজ করে আসছিল।
একটি সুত্র জানান, আগুনে পুড়ে যাওয়া এ বিশাল বস্তিতে অবৈধ গ্যাস ও বিদুতের সংযোগ ছিল।