হা-মীম গ্রুপের স্টাফদের মারধর! গ্রেফতার -৫

নজর প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে সাংবাদিক পরিচয়ে হামীম গ্রুপের কর্মী বহনকারী বাস আটকিয়ে পোশাক কারখানার স্টাফদের মারধর, গাড়ীর গ্লাস ভাংচুর, ও চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচ জনকে আটক করেছে উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ।
(২২ এপ্রিল) বৃহস্পতিবার ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে আব্দুল্লাহপুর বেড়িবাধ সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আটককৃতরা বিভিন্ন অনলাইনের কার্ড ব্যবহার করতো এবং সাংবাদিক পরিচয়ে ঘুরে বেড়াতো বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, ফারুক আহমেদ(৪৬), ঝরনা আক্তার মিতু ওরফে ঝর্ণা(৩০), সাখাওয়াত হোসেন সাগর(৩২),ওয়াজিউল্লাহ খোকন(৩১) ও মো. বিপ্লব(৩০)। এ ছাড়া সুমি চৌধুরী ও মো. ইফতেখার নামের তাদের দুই সহযোগী পলাতক রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তারা সাংবাদিক পরিচয়ধারী দুর্বৃত্ত। ঘটনার সময় কথিত সাংবাদিকদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি নিয়ে চালক কৌশলে পালিয়ে যায়।

থানা পুলিশ ও হা-মীম গ্রুপেরর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড এর স্টাফদের সাথে কথা বলে জানা যায়,হামীম গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড থেকে আলম এন্টারপ্রাইজ পরিবহনের ঢাকা মেট্রো ব- ১১-৫৭৭১ নম্বরের একটি বাসে তারা তেজগাঁওয়ের প্রধান কার্যালয়ে ফিরছিলেন। বাসটি আবদুল্লাহপুর ব্রিজ পার হওয়ার পর একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে বিকট শব্দে হর্ন দিয়ে ওভারটেক করতে চাইছিল। সেটিকে ওভারটেক করার মতো জায়গা দিতে সামান্য দেরি হয় বাসচালকের। এরপর মাইক্রোবাসটি বেপরোয়া গতিতে বাসের সামনে চলে আসে এবং রাস্তার মাঝখানে থেমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তখন গাড়ি থেকে নেমে আসা কয়েকজন নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে হুমকি ধমকি দিয়ে বাসের হেলপারকে বেদম মারধর করে। এ সময় বাসে থাকা হা-মীম গ্রুপের কর্মীরা নেমে বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। আহতদের টঙ্গীর আহসানউল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে
আহত বিল্লাল হোসেন(৩৮)বলেন, আমরা টঙ্গীর ক্রিয়েটিভ কালেকশন লিমিটেড থেকে বাসে করে তেজগাঁওয়ের হেড অফিসে যাচ্ছিলাম। পথে আব্দুল্লাহপুরে আসা মাত্রই একটি মাইক্রোবাস আমাদের বাসের সামনে এসে ব্রেক করে বলতে থাকে যে, সাইড দিলি না কেন? তোদের বাসে অবৈধ মালামাল আছে। টাকা না দিলে তোদের খবর খারাপ করে দিব।তিনি বলেন, এই বলিয়া বাসের হেলপারকে টেনে হেচড়ে আব্দুল্লাহপুর বেড়ীবাঁধের উপর নিয়ে মারধর শুরু করে দেয়। পরে যারা ছাড়াইতে গেছে তাদেরকেও মারধর করা হয়।

অপর একজন বলেন, ওই মাইক্রোবাসে ৮ জন ছিল। তাদের মধ্যে ঝর্ণা নামের একজন নারী সাংবাদিক হেলপারের শার্টের কলার ধরে বলে- ‘আমি ধরছি এবার তোরা মার।’ এ সময় কয়েকজন হেলপারকে ধরে মারধর করতে থাকে, একজন মোবাইলে ক্যামেরা করতে থাকে ও আরেকজন ক্যামেরা নিয়ে ভিডিও করতে থাকে। এ সময় ওই নারীর ভয়ে হেলপারকে তাদের কাছ থেকে ছাড়ানোর সাহসও পায়নি কেউ।
এদিকে আটক হওয়া কথিত সাংবাদিক ঝরনা আক্তার মিতু ওরফে ঝর্ণা বলেন, ওই বাসে থাকা লোকজন তার গলার চেইন ছিড়ে নিয়ে গেছে। তার জামাকাপড় টেনে ছিড়ে ফেলেছে।
মামলার বাদী হামীম গ্রুপের কর্মচারী বিল্লাল হোসেন এজাহারে উল্লেখ করেন, নামধারী সাংবাদিকরা তাদেরকে মারধর করে ২১ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনতা পাঁচ জনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। কিন্তু ইফতেখার ও সুমি নামের আরো দুই জন কৌশলে মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে থানা পুলিশ জানায়, পলাতক এজাহার ভুক্ত ইফতেখার ও সুমিকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তাপস কুমার দাস বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া কথিত সাংবাদিকরা উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে পাবলিকের সাথে মারামারি করছিল। আবার লাইভ করতেছি, লাইভ করতেছি বলে ক্যামেরা ও মোবাইল ধরে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। তখন সেখানে ২০০/২৫০ জনগণ জমে গেছিলো। তারাই তাদেরকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
তিনি বলেন, সাংবাদিক পরিচয়ে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে জনমনে ভীতি ত্রাস সৃষ্টি করে গাড়ী ভাংচুর করে চাঁদা দাবি ও মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর-২০(৪)২১।