সাংবাদিক রোমানশাহ আলমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

 এম এ হানিফ রানা(গাজীপুর):সদ্য প্রয়াত গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি রোমান শাহ আলমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে।

আজ সোমবার গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে সাংবাদিক রোমান শাহ আলমের চিকিৎসায় অবহেলা ও হাসপাতালের নানান দূর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন বক্তাগন।

সাংবাদিকদের বক্তব্য তারা বলেন, ২৭ মার্চ রোমান শাহ আলম করোনা টেস্টের জন্য বিকাল ৫ টার দিকে স্বাস্থ্য সহকারী মামুনের নিকট স্যাম্পল প্রদান করেন। কিন্তু মামুন স্যাম্পল সংগ্রহ করে রিপোর্ট না দিয়ে তালবাহানা শুরু করে। তার জন্য ১০০০ টাকাও নেন বলে জানান। ২৮ ও ২৯ মার্চ মামুনকে ফোন দিলে সে রিপোর্ট দিবে বলে ছলের আছ্রয় নেন। ২৯ মার্চ সন্ধ্যার পর তার মোবাইল বন্ধ করে দেয়। পরে ৩১ মার্চ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দিলে ১ লা এপ্রিল রিপোর্ট দেয়া হয়। রিপোর্টে পজেটিভ আসে এবং শরীর খারাপের দিকে যাওয়ায় ঐ দিনই তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এবং পরের দিন অর্থাৎ ২ এপ্রিল অবস্থা আরো খারাপ হলে আইসিউতে নেয়া হয়। সবসময় অনান্য সাংবাদিকগন তার খোঁজখবর নিয়ে আসছিলো।

৪ এপ্রিল রোববার সন্ধায় ঝড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিভ্রাট দেখা দেয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অক্সিজেন কাজ করছিলো না তখন বিদ্যুৎ না থাকায়। এ সময় হাসপাতালের পরিচালকের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করলে বিষয়টি দেখছেন বলে জানান। তখন অক্সিজেন ৫৮ তে নেমে যায়। নির্ধারিত ইলেক্ট্রেশিয়ান অনেক খোজার পরও পাওয়া না গেলে এক নার্স অনেক চেষ্টা করে ১ ঘন্টা পরে অন্য এক ইলেক্ট্রেশিয়ানকে এনে জেনারেটর চালু করেন। এবং রোমান শাহ আলমের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ওনার চিকিৎসা চলাকালীন আবারো ৮ এপ্রিল রাতে ঝড় শুরু হলে পুনারায় আইসিওতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয়। অবশেষে তিনি রাত ১২ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। উপস্থিত লোকজন ২ টার পরে নিশ্চিত হোন সে মারা গেছে।

তারা বলেন মামুনের বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে তা ফেলে দেয়ার প্রমান আমাদের হাতে আছে। সে নিজেও এ বিষয় স্বীকার করেছে। নমুনা সংগ্রহ করে সে পুটার শাহজাহানের নিকট দেয়। কিন্তু শাহজাহান নমুনা হারিয়ে ফেলেছে বলে মামুন স্বীকার করে বলে জানান।

সকলের অভিমত নতুন করোনা রিপোর্ট হাতে আসতে দীর্ঘায়িত হওয়ার কারনেই এবং আইসিইউতে সমস্যার কারনেই রোমান শাহ আলমের মৃত্যুর কারন বলে তারা মনে করেন।
পরে মানববন্ধন শেষে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সাংবাদিক রোমান শাহ আলমের মৃত্যুর কারন সংক্রান্ত স্মারক লিপি প্রদান করা হয় এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বিশেষ বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের কার্যকরী সভাপতি মোঃ আকরাম হোসেন, গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ ফরিদ, কাজি মোঃ মকবুল হোসেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাব এবং অনান্য সাংবাদিকবৃন্দ।