তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে প্যারামাউন্ড কোল্ড ষ্টোরেজে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

এস,এম,মনির হোসেন জীবন :রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার প্যারামাউন্ড কোল্ড ষ্টোরেজে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মজুদ ও বাজারজাত করণের অভিযোগে ৬ জনকে ১৭ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং বিপুল পরিমাণ নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন প্রকারের খেজুর জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

এসময় আনুমানিক ২১,২৬০ কেজি পরিমাণ ভেজাল, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করতঃ ধ্বংস করা হয়।
র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাজহারুল ইসলাম এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

র‌্যাব-২ এর এএসপি (মিডিয়া) আবদুল্লাহ আল মামুন আজ বুধবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বিভিন্ন জাতের ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, নষ্ট খেজুর মজুদ এবং বাজারজাত করে আসছিল।
পরে এমন গোয়েন্দা নজরদারীর ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুর ১২ টা থেকে শুরু করে রাত ১১ টা পর্যন্ত একটানা চলে।
র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা এলাকার প্যারামাউন্ড কোল্ড ষ্টোরেজ লিঃ এ র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধির সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালত সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাজহারুল ইসলাম এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
অভিযানকালে তারা কোল্ড ষ্টোরেজে রক্ষিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্যের গুণগত মান যাচাইকালে নষ্ট, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর মজুদ ও বাজারজাতকরণের অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠানের মালিককে মোট ১৭ লক্ষ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।
র‌্যাব-২ সুুএে জানা যায়, তার মধ্যে রয়েছে – মোঃ হাসনাইন (৩৮), মালিক, মেসার্স সাকিব ট্রেডিং, মিরপুর-১১, ঢাকা’কে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, মোঃ আরিফুল ইসলাম (৪২), মালিক, মদিনা ফুডস শপ, বনানী,ঢাকা’কে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, তারিক আল দীন (৩৮), মালিক, এলডুরাডু এন্টারপ্রাইজ, পূর্ব তেজতুরী বাজার, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা’কে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, মোঃ

কামরুজ্জামান (৩৫), মালিক, কামরুজ্জামান এন্টারপ্রাইজ, শ্রীপুর, গাজীপুর’কে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা, মোঃ গোলাম মোস্তফা (৪৩), মালিক, সোর্স ডিস্ট্রিবিউশন, দক্ষিণখান, ঢাকা’কে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা
ও মোঃ জাবের (৩০), মালিক, উত্তরা ফুডস, রাজলক্ষী, ঢাকা ’কে ২ লক্ষ টাকা
জরিমানাসহ ১৭ লক্ষ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

র‌্যাব আরও জানান, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করাকালে আনুমানিক ২১,২৬০ কেজি পরিমাণ ভেজাল, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর জব্দ করতঃ ধ্বংস করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বেশিরভাগ খেজুরের প্যাকেট/কার্টুনে আমদানীকারকের বিস্তারিত তথ্য নেই। এছাড়া মেয়াদোর্ত্তীনের তারিখ আলাদাভাবে পেষ্টিং করে নতুন ভাবে কার্টুনে বসানো হয়। বেশ কিছু কার্টুনে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্নের তারিখ নেই।
আসামীরা প্রত্যেকেই স্বীকার করে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নষ্ট ভোগ্যপণ্য আমদানি করে তা খোলাবাজারে সরবরাহ/বিক্রয় করে আসছিল।

মূলত পবিত্র মাহে রমজান’কে টার্গেট করে তারা কম দামে ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ, নষ্ট ও মানহীন খেজুর বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে উক্ত কোল্ড ষ্টোরেজে মজুদ করেছে এবং অধিক মুনাফালোভী এই চক্র মানহীন এসব খেজুর খুচরা বাজারে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। ফলে সাধারণ জনগণের স্বাসত্যঝুঁকি বৃদ্ধিসহ খাদ্যের সঠিক পুষ্টিমান থেকেও বঞ্চিত হচছে।
এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবসতা প্রক্রিয়াধীন আছে।