খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান হানিফের

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি না করতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দু:স্থদের মাঝে খাদ্য এবং ঈদ উপহার বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতাই এখন সবচেয়ে জরুরি। অথচ বিএনপির কাছে তাঁর সুস্থতার চেয়ে অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করা মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করে তারা রাজনীতির পরিবেশ নষ্ট করতে চায়।
তিনি বলেন, যেখানে আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন হয় নাই, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার দরজা খুলে দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে বাসায় রাখার ও চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এর চেয়ে বড় মানবতা আর কি হতে পারে?
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এতদিন আমরা শুনেছিলাম যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানো জরুরি। এখন মির্জা ফখরুল বললেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে সরকার তাকে বিদেশ পাঠাচ্ছে না। তার মানে উন্নত চিকিৎসা নয়, রাজনীতি করার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবি, যেটা মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে প্রমাণিত।

‘আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে’ মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তব্যের জবাবে হানিফ বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি আওয়ামী লীগ করে না, এটা করেছেন আপনারা। ক্ষমতায় থাকাকালে একুশে আগস্টে গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করতে চেয়েছেন। আরো কত জঘন্য ঘটনা আপনারা ঘটিয়েছেন সেটা পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখুন। আপনারা যে জঘন্য কাজ করেছেন তার দায়ভার অবশ্যই নিতে হবে।

করোনাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে হানিফ বলেন, আমরা ১ কোটি ৯০ লাখ পরিবারকে সহায়তা দিয়েছি। ৫০ লাখ অসহায় মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে গতবছর ডিজিটাল মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। এবারও প্রায় ৪০ লাখ মানুষকে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হয়েছে। আমরা প্রমাণ করেছি, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। করোনায় কাজ করে আমাদের সিনিয়র নেতাসহ ৬শ’র বেশি নেতাকর্মী মারা গেছেন। জনগণের পাশে ছিলাম বলে আমরা আক্রান্ত হয়েছি।
ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি এবং সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান বক্তব্য রাখেন।

সুত্রঃবাসস।