রাজধানীর শাহ আলী ও আশুলিয়া থেকে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্য গ্রেফতার

এস,এম, মনির হোসেন জীবন ঃরাজধানীর শাহ আলী ও আশুলিয়া পৃথক দুটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের দায়ে কিশোর গ্যাংয়ের ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

এসময় ধৃত আসামীদের নিকট থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, তিন টি চাকু, দুইটি চাপাতি, ৪১০ পিস ইয়াবা এবং নগদ-৩ হাজার ৬৫০ টাকা উদ্ধার মুলে জব্দ করা হয়।

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৪) এর
সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান
চৌধুরী আজ সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিওিতে র‍্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টা থেকে আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহ্ আলী থানার দিয়াবাড়ী ও ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ এবং এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে
কিশোর গ্যাংয়ের মোট ১৮ জন সদস্যকে গ্রেফতার করে।

এসময় তাদের নিকট থেকে ১ টি চাইনিজ কুড়াল, ৩ টি চাকু, ২ টি চাপাতি, ৪১০ পিস ইয়াবা এবং নগদ-৩৬৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৪ জানান, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে -মোঃ রাতুল আহমেদ (২৪), জেলা- ঢাকা। মোঃ আবু হাসনাথ রনি (২০), জেলা- মাগুরা। মোঃ সাগর (২২), জেলা- চাঁদপুর। মোঃ হৃদয় (১৯), জেলা- ঢাকা। মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৭), জেলা-ঢাকা। মোঃ সাকিব শেখ (১৭), জেলা- গোপালগঞ্জ। মোঃ জাহিদ (১৬), জেলা- ভোলা। মোঃ রাকিব হাওলাদার (১৭), জেলা- ঝালকাঠি। মোঃ সৌরভ (১৭), জেলা- মুন্সিগঞ্জ। মোঃ রাজন (১৬), জেলা- মুন্সিগঞ্জ।
মোঃ নয়ন হোসেন (১৮), জেলা- পটুয়াখালী। মোঃ সিরাজুল ইসলাম (২০), জেলা- বাগেরহাট। মোঃ রফিক (২১), জেলা- নেত্রকোনা। মোঃ শাকিব হাওলাদার (১৯), ভোলা। মোঃ মিলন (২২), জেলা- চাঁদপুর।
মোঃ আকাশ (১৯), জেলা- নেত্রকোনা। মোঃ রুবেল (২৮), জেলা- ঢাকা। মোঃ ইয়াসিন আরাফাত (১৯), জেলা- বরিশাল।

মোঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী জানান, প্রাপ্ত অভিযোগ এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত কিশোর অপরাধীরা মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই মেয়েদের ইভটিজিং এবং নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাটে পরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে সংঘাত সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল।

এলিট ফোস’ র‍্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) জানান, এছাড়াও ঐ এলাকায় কোনো অপরিচিত লোক গেলে জিম্মি করে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতো। এদের চলাফেরা ও গতি খুব দ্রুত। এরা কারো কাছ থেকে ছিনতাইয়ের পর দ্রুত সেই সামগ্রীটি পেছনে থাকা তাদের দলের অন্য সদস্যদের কাছে দিয়ে দেয়। ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহারের জন্য তারা সব সময় নিজেদের কাছে দেশীয় অস্ত্র রাখে। ছিনতাইকে কেন্দ্র করে এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রায়শই এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

এবিষয়ে গ্রেফতারকৃত কিশোর অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।