খিলক্ষেতে ডিবি’র সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত ।। আটক- ২

এস, এম, মনির হোসেন জীবন :রাজধানীর খিলক্ষেতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হচেছ- রাসেল ও এনামুল। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢাকা) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনায় আরও দু’জন আহত হয়েছেন। তারা হলেেন- সিএনজি অটোরিকশার ড্রাইভার নয়ন ও ইয়ামিন। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, মাদক ও হত্যা মামলা রয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে খিলক্ষেত ৩০০ ফিট এলাকায় বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সিএনজি অটোরিকশা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি একটি ম্যাগাজিন, কাঠের বাটযুক্ত একটি পুরানো ধারালো ছুরি, দু’টি টাইগার বাম, একটি সবুজ রঙের গামছা, নয়টি স্মার্ট এবং বাটন মোবাইল, ১৬ পিস ইয়াবা, একটি লাইটার এবং নগদ ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে।

এদিকে, আজ মঙ্গলবার সকালে ডিবি’র গুলশান বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিবি পুলিশ সুএে জানা যায়, পুলিশের একটি দল কাওলা হয়ে পূর্বাচলগামী ফ্লাইওভারের প্রবেশমুখে এবং অপর দলটি পূর্বগামী ফ্লাইওভারের মাঝে অবস্থান নিয়ে তল্লাশি করছিল। সোমবার রাত ২টা থেকে ২টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান এবং এডিসি গোলাম সাকলায়েনের নেতৃত্বে একাধিক টিম এবং খিলক্ষেত থানা পুলিশের সমন্বিত করে কাওলা থেকে বিশ্ব রোডের দিকে একটা সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশা কয়েকজন লোক নিয়ে যাচ্ছিল। চেকপোস্টে অটোরিকশাটিকে থামতে বলা হলে তারা ৩০০ ফিট ফ্লাইওভারের ওপর দিয়ে পূর্বাচলের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। ডিবি পুলিশের দলটি ব্রিজের মাঝে থাকা দ্বিতীয় দলকে ওয়ারলেস দ্বারা সতর্ক করলে তারা তাদের মাইক্রোবাসকে আড়াআড়ি দাঁড় করিয়ে দেয় এবং প্রথম দলটি সিএনজি অটোরিকশাকে ধাওয়া করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ব্যারিকেডে দু’জন সন্ত্রাসী অটোরিকশা থেকে নেমে দৌড়ে সামনে যেতে থাকে এবং পুলিশের মাইক্রোবাস আড়াআড়ি দেখে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ডিবি পুলিশের একটি মাইক্রোবাসের বাম দিকের কাঁচ ভেঙে যায়। নিজেদের জীবন, সরকারি অস্ত্র ও অন্যান্য মালামাল রক্ষার্থে আক্রান্ত মাইক্রোবাসটি থেকে ডিবি পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় সন্ত্রাসী এবং পুলিশের মধ্যে
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গোলাগুলি হয়। একটা পর্যায়ে গুলি থেমে গেলে সবুজ রঙের সিএনজি অটোরিকশাটিকে (নাম্বার ঢাকা থ ১১- ৭৯৪৫) ফ্লাইওভারের সঙ্গে ধাক্কা লাগা অবস্থায় পাওয়া যায়। এটির ড্রাইভারের সিট এবং পেছনের সিট থেকে দু’জন সন্ত্রাসীকে জীবিত অবস্থায় গ্রেফতার করে ডিবি। কিছুটা দূরে আরও দুই জন সন্ত্রাসীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লাইওভারের ওপরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের দু’জনকে দ্রুত খিলক্ষেত থানা পুলিশের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র, একটি পুরাতন কিন্তু ধারালো ছুরি, মোবাইল, গামছা ও মলম উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ও আহত দু’জন হচছে – সিএনজি অটোরিকশার ড্রাইভার নয়ন ও ইয়ামিন।

গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, গতকাল তারা টঙ্গীর মধুমিতায় একত্রিত হয়ে প্রথমে আব্দুল্লাহপুর খন্দকার পেট্রল পাম্পে আসে। সেখান থেকে উপযুক্ত ‘মক্কেল’ না পেয়ে বিমানবন্দর হয়ে কাওলার দিকে আসতে থাকে। উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার অভ্যন্তরে যাতায়াতকারী একক ব্যক্তি যার কাছে মূল্যবান সামগ্রী এবং টাকাপয়সা থাকে তাকে সিএনজিতে তুলে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেওয়া।

ডিসি মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গ্রেফতার হওয়া নয়ন এবং ইয়ামিন মূলত গামছা এবং মলম দিয়েই তারা মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিতো। ভিকটিম জোরাজুরি করলে তাকে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে ফেলে দেওয়া হতো। পুলিশ বা অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপের দ্বারা আক্রান্ত হলে নিজেদের রক্ষা করার জন্যই তারা সিএনজিতে আগ্নেয়াস্ত্র এবং ছুরি বহন করতো।

গ্রেফতারকৃত এবং নিহত আসামিরা ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা এবং মাদকের একাধিক মামলার আসামি। তারা সবাই মাদকাসক্ত।
এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
বলেও জানিয়েছে পুলিশ।