পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার ৩ আসামী গ্রেফতার

এস, এম, মনির হোসেন জীবনঃ রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকান্ডের নির্দেশদাতা ও মূলহোতা পরিকল্পনাকারী লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ আউয়ালসহ তিন আসামীকে গ্রেফতার র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ।

আটককৃতরা হচেছ- নৃশংস হত্যাকান্ডের মূলহোতা, নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী এজাহারভূক্ত ১নং আসামী মোঃ আউয়াল (৫০), এজাহার নামীয় ১৯ নং আসামী মোঃ জহিরুল ইসলাম বাবু (২৭) ও হাসান (১৯)। বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ থেকে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫ টা পর্যন্ত চাঁদপুর, পটুয়াখালী ও ভৈরবে পৃথক তিনটি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

এবিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় রাজধানীর কারওয়ানবাজার র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফের আয়োজন করা হয়। র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১৬ মে পল্লবীতে নৃশংসভাবে সাহিনুদ্দিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর পল্লবীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী সুমন এমএ আউয়ালকে ফোন দেয়। ফোনে সুমন বলে, ‘স্যার ফিনিশ’। তিনি সাংবাদিকদেরকে জানান, চাঁদপুরের হাইমচর এলাকা থেকে হাসান (১৯),ভৈরব সদর এলাকা থেকে নৃশংস হত্যাকান্ডের মূলহোতা, নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী এজাহারভূক্ত ১নং আসামী মোঃ আউয়াল (৫০), ও বাউফল পটুয়াখালী থেকে এজাহার নামীয় ১৯ নং আসামী মোঃ জহিরুল ইসলাম বাবু (২৭)কে আটক করা হয়।

্যাব-৪ এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জিয়াউর রহমান চৌধুরী আজ বৃহস্পতিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গত ১৬ মে ২০২১ তারিখ রাজধানীর পল্লবীতে নিজ সন্তানের সামনে সাহিনুদ্দীন (৩৩), পিতা- মৃত জৈনুদ্দীন, পল্লবী, ঢাকা-কে সন্ত্রাসীরা চাপাতি, রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে উক্ত ঘটনায় নিহত সাহিনুদ্দীনের মাতা মোসাঃ আকলিমা রাজধানী পল্লবী থানায় ২০ জন আসামী এবং আরও ১৪-১৫ জন অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-৪১, তারিখঃ ১৭ মে ২০২১, ধারা-৩৪২, ৩০২, ১০৯, ৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০।

্যাব-৪ এর জানান, হত্যাকান্ডটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নৃশংস হত্যাকান্ডটি ব্যাপক সমালোচিত হয়। র্যাব বর্ণিত ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে ও জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

্যাবের এ কম’কতা আরও জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদর দপ্তর গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৪ এর একটি দল বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টার দিকে চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত হাসান (১৯), পিতা-নুরুজ্জামান, চাঁদপুরকে আটক করে।

এছাড়া একই দিন রাত ৩ টার দিকে ভৈরব সদর এলাকা থেকে নৃশংস হত্যাকান্ডের মূলহোতা, নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী এজাহারভূক্ত ১নং আসামী মোঃ আউয়াল (৫০), পিতা-মৃত মোঃ রশিদ মিয়াজী, কাফরুল, ঢাকাকে আটক করা হয়। অপর দিকে, বুধবার দিবাগত রাত ৫ টার দিকে বাউফল পটুয়াখালী থেকে এজাহার নামীয় ১৯ নং আসামী মোঃ জহিরুল ইসলাম বাবু (২৭), পিতা- আবদুল জব্বার মৃধা, বাউফল, পটুয়াখালী গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতদের হত্যাকান্ডের সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মূলত জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়।

ঘটনার ৪/৫ দিন পূর্বে দুপুর বেলা মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা ও মামলার ১নং আসামী গ্রেফতারকৃত আউয়াল এর কলাবাগান অফিসে সে, তাহের (২নং আসামী) এবং সুমন (৩ নং আসামী) হত্যাকান্ডের চুড়ান্ত পরিকল্পনা করে। মাঠ পযার্য়ে হত্যাকান্ড বাস্তবায়নের জন্য সুমনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুমনের নেতৃত্বে প্রায় ১০-১২ জন সক্রিয়ভাবে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে এবং এছাড়া সহযোগী হিসেবে আরো বেশ কয়েকজন যুক্ত ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা র্যাবকে আরও জানায় গত ১৫ মে ২০২১ তারিখ সুমন, বাবুসহ কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন শলা পরামর্শ করে।

পরবতীতে তারা উক্ত কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারীরা ১৬ মে ২০২১ তারিখ বিকালে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। অতঃপর ভিকটিম সাহিন সন্তানসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। মিমাংসার অজুহাতে পূর্বেই সাহিনকে আসতে বলা হয়েছিল। প্রথমে সুমন, মনির, মানিক, হাসান, ইকবাল, এবং মুরাদসহ ১০-১২ জন এলোপাথারিভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পযার্য়ক্রমে সাহিনকে আঘাত করতে থাকে এবং শেষ পর্যায়ে শরীরের উর্ধাংশে মনির এবং হাটু ও হাত পায়ে মানিক কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। ঘটনার সময় বাবুসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে লুকআউট ম্যান হিসেবে নজরদারী করে। হত্যাকান্ডটি ৫/৭ মিনিটের মধ্যে সংঘটিত হয়।

ঘটনা শেষে সুমন হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ১ নং আসামী মোঃ আউয়াল’কে মোবাইলে ফোন করে জানায় “স্যার ফিনিস” এবং তাদের আরো অল্প কিছুক্ষণ কথা হয়। অতঃপর হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা দেশের বিভিন্ন স্থানে গা ঢাকা দেয়। র্যাব-৪ সুএে জানা যায়, র্যাব প্রথম থেকে এই হত্যাকান্ডের আসামীদের গ্রেফতারে উদ্যোগী ছিল। গত ১৭ মে ২০২১ মামলার এজাহার নামীয় ১৩ নং আসামী দিপু (২৮), পিতা-আবুল হোসেন, নাগরপুর, টাঙ্গাইল’থেকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানায় সোপর্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত মূল আসামী মোঃ আউয়াল একজন আবাসন ও জমি ব্যবসায়ী। তার ছত্রছায়ায় সুমন সন্ত্রাসী গ্রুপ দ্বারা জমিদখল ও আধিপত্য বিস্তার করত।

গ্রেফতারকৃত আওয়াল থেকে তারা মাস ভিত্তিক ১০/১২ হাজার টাকা মাসোয়ারা পেত এবং ক্ষেত্র বিশেষ কাজ অনুয়ায়ী অতিরিক্ত টাকা পেত। এই সন্ত্রাসী দল সুমন এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রিক্সা টোকেন বাণিজ্য, মাদক, জুয়াসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালাত। এঘটনায় উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে (র‌্যাব)। এবিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।