কয়রায় বাধ বাধার যুদ্ধে অংশ নিলো ৫হাজারের বেশি মানুষ।

মুজাহিদুল ইসলাম (কয়রা)ঃ৪ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালীয়া বেড়িবাধঁ বাঁধা হবে। আগে থেকেই এমন ঘোষণা দেওয়া হয়েছিলো মাইকে এবং ফেইযবুকে।

যার কারণে রোববার (৩০ মে) ভোর ৬টায় দূর-দূরান্ত থেকে কেউ হেঁটে, কেউবা নৌকা-ট্রলারে করে নিজ নিজ দায়িত্বে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ নির্মাণের চলে এসেছেন।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব ও ভরা পূর্ণিমায় জোয়ারের পানি অস্বাভাবিক বাড়ায় খুলনার কয়রা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম।

সে বাঁধ মেরামত করছেন গ্রামবাসী।

রোববার কপোতাক্ষ নদে ভাটা চলাকালে দল-মত নির্বিশেষে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কপোতাক্ষ নদের মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালীয়া এলাকা থেকে লোকা পর্যন্ত ৫টি পয়েন্টের বেড়িবাধঁ মেরামত করছেন স্থানীয় মানুষ।
মহারাজপুর ইউনিয়ান ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান বলেন, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া এলাকা থেকে লোকা পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের ৫ টি পয়েন্ট ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। রোববার কয়রা সদর ইউনিয়ন, বাগালি ইউনিয়ন, মহারাজপুর ইউনিয়নের পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ সেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণের কাজ করেেছন।

করছেন।
সেচ্ছাসেবক তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ফলে কয়রা সদর ইউনিয়ন, বাগালি ইউনিয়ন, মহারাজপুর ইউনিয়নের প্রায় ৩০টির অধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। যার ফলে এসব গ্রামের পুকুর ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। রোববার ভোর থেকে মানুষ নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে সেচ্ছাশ্রমের বাঁধ মেরামাতে কাজ করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ নির্মাণে সিনথেটিক বস্তা, বাঁশ, পেরেক এবং দড়ি দিয়ে সহযোগিতা করছে।

মদিনাবাদ গ্রাম থেকে আসা ইমদাদুল হক বলেন, ৪ নম্বর মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালীয়া বেড়িবাধেঁর ভাঙন সবচেয়ে বড় ভাঙন। এখান থেকে সবচেয়ে বেশি নোনা পানি প্রবেশ করে গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দিশাহীন হাজার হাজার মানুষের কান্না, অসহায় আর্তনাদে ভারী হচ্ছে কয়রার বাতাস। এসব দুর্গত মানুষ দাবি জানাচ্ছেন দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধের।

গ্রামবাসীর বাঁধ মেরামতের সময় উপস্হীত ছিলেন,
জেলা আওয়ামিলীগের কোষাদক্ষ্য ইনঃ মাহবুবুল আলম,
উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম শফিকুল ইসলাম, কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজা, মহারাজপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন লাভলু
এবং ৪নং মহারাজপুর ইউনিয়ানের নৌকার মাঝি
আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ,
সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোকজন।