টঙ্গীতে কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানীর ১২ সদস্য র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

এস, এম, মনির হোসেন জীবন ঃরাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় দু’টি পরিবারের সদস্যদের নৃশংস হামলার সাথে জড়িত কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানী এর পৃষ্ঠপোষক বাপ্পী ওরফে লন্ডন বাপ্পি ও নীরব ওরফে ডন নীরবসহ ১২ জন সক্রিয় সদস্য অস্ত্রসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ।

এসময় ধৃত আসামীদের নিকট থেকে ১২ টি মোবাইল ফোন, নগদ ৬ হাজার ১৩০ টাকা
২ টি বিদেশী পিস্তল, ২ টি চাপাতি, ২ টি রামদা, ৩ টি লোহার রড এবং ১ টি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টা থেকে আজ রোববার সকাল পয’ন্ত টঙ্গী ও উত্তরার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক লন্ডন বাপ্পি (৩৫), তার একান্ত সহযোগী ডন নীরব (২৪)সহ মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে, র‍্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেঃ কর্ণেল মোঃ আব্দুল মোত্তাকিম আজ রোববার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে আজ রোববার বিকেল ৪ টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‍্যাব-১ এর পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এসময় র‌্যাবের বিভিন্ন পযার্য়ের অফিসারগন উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সংবাদ সম্মেলনের এসব কথা জানান।

তিনি জানান, গত ১ জুন ২০২১ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে কিশোর গ্যাং ডি কোম্পানীর কয়েকজন সদস্য টঙ্গী পূর্ব থানার আরিচপুর এলাকাস্থ ভূঁইয়া পাড়া জামে মসজিদের সামনে জনৈক মোঃ তুহিন আহম্মেদ এবং তুষার আহম্মেদ’কে দেশীয় অস্ত্র দ্বারা আঘাত করতঃ গুরুতর জখম করে। পরে এ ঘটনায় ভিকটিম মোঃ তুহিন আহম্মেদ বাদী হয়ে জিএমপি, টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলার দায়ের করেন, যার নম্বর-০২ তারিখ- ০২/০৬/২০২১ ইং ধারা- ১৪১/৩৪১/৩২৩/৩২৬/৩০৭ /৩৭৯/৫০৬ পেনাল কোড।

পরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার কারণে তারা বাদীর বাড়িঘর ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাংচুর করে ভীতির সঞ্চার করে।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদেরকে বলেন, এ ঘটনায় গত ৩ জুন ২০২১ ইং রাতে একই গ্রুপের কয়েকজন সদস্য টঙ্গী পূর্ব থানার আরিচপুর এলাকাস্থ একটি দর্জি দোকান ভাংচুর এবং চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করার ফলে জনৈক আব্দুল মালেকের ছেলে আরজু মিয়া (৩৪), সুজন মিয়া (২৪) এবং সুজনের স্ত্রী রুপালী (২১) গুরুতর
আহত হয়।

তিনি আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের এ নৃশংস হামলার বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয় এবং সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এ প্রেক্ষিতে কিশোর গ্যাং এর বিপদগামী সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব-১ সাস্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।

র‍্যাবের গনমাধ্যম শাখার মুখপাত্র বলেন,
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১ এর আভিযানিক দলটি শনিবার (৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১ টা থেকে সারারাত ব্যাপী টঙ্গী ও উত্তরার বিভিন্ন স্থানে অভিযান
চালিয়ে ডি কোম্পানী ওরফে ডেয়ারিং কোম্পানী’ কিশোর গ্যাং গ্রুপের পৃষ্ঠপোষক মোঃ রাজিব চৌধুরী বাপ্পি ওরফে লন্ডন বাপ্পি (৩৫), পিতা- আঃ মালেক, জেলা-গাজীপুর, মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দানকারী মোঃ মইন আহমেদ নীরব ওরফে ডন নীরব (২৪), পিতা- বোরহান উদ্দিন, জেলা-চাদপুর, মোঃ তানভীর হোসেন ওরফে ব্যাটারি তানভীর (২৪), পিতা- মোঃ ইসমাইল হোসেন, জেলা-চাঁদপুর, মোঃ পারভেজ ওরফে ছোট পারভেজ (১৯), পিতা- মোঃ ওসমান গনি,জেলা- ময়মনসিংহ, মোঃ তুহিন ওরফে তারকাটা তুহিন (২১), পিতা- মোঃ শাহ আলম, জেলা- বরিশাল, মোঃ রাজিব আহমেদ নীরব ওরফে টম নীরব (৩০), পিতা- মোঃ আলমগীর হোসেন, জেলা-খুলনা, মোঃ সাইফুল ইসলাম শাওন (২৩), পিতা- মোঃ শাহ আলম, জেলা- গাজীপুর, মোঃ রবিউল হাসান (২০), পিতা- হোচেন আলী,জেলা- বি-বাড়ীয়া, মোঃ শাকিল ওরফে বাঘা শাকিল (২৮), পিতা-মোঃ সামচুল আলম, জেলা-গাজীপুর, মোঃ ইয়াছিন আরাফাত ওরফে বিস্কুট ইয়াছিন (১৮), পিতা- মৃত আঃ ছাত্তার, জেলা – গাজীপুর, মোঃ মাহফুজুর রহমান ফাহিম (২২), পিতা- ইদ্রিস আলী, জেলা-গাজীপুর ও ইয়াছিন মিয়া ওরফে প্রিন্স ইয়াছিন (১৯), পিতা- মোঃ শাহাজাহান মিয়া, জেলা- ময়মনসিংহকে গ্রেফতার করে।

খন্দকার আল মঈন জানান, এসময় ধৃত আসামীদের নিকট হতে ১২ টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৬ হাজার ১৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ধৃত আসামীদের দেয়া তথ্যমতে র‍্যাব-১ এর আভিযানিক দল ধৃত আসামীদের টঙ্গির বাপ্পীর আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে ২ টি বিদেশী পিস্তল, ২ টি চাপাতি, ২ টি রামদা, ৩ টি লোহার রড এবং ১ টি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ডি কোম্পানী ওরফে ডেয়ারিং কোম্পানী’ কিশোর গ্যাং গ্রুপেরসক্রিয় সদস্য।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা মাদক সেবন, স্কুল-কলেজে বুলিং, র‍্যাগিং, ইভটিজিং, ছিনতাই, চাদাবাজি ডাকাতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও শেয়ারসহ নানাবিধ অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিল মর্মে স্বীকার করে।

এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসামীরা বর্ণিত হামলার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

বর্তমান সময়ে কিশোর গ্যাং তথা গ্যাং কালচার এবং উঠতি বয়সি ছেলেদের মাঝে ক্ষমতা বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক গ্রুপের সাথে অন্য গ্রুপের মারামারি করা বহুল আলোচিত ঘটনায় পরিনত হয়েছে।

এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।