তুরাগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের বাড়ি থেকে ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

এস, এম, মনির হোসেন জীবন: রাজধানীর তুরাগের চণ্ডাল ভোগ গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলের বাড়ি থেকে ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতের নাম মো, মনির হোসেন (৪৫)। তার বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় আকানিয়া গ্রামে। নিহত মনির উত্তরার বিডিআর মার্কেটে গাড়ির পার্সের ব্যবসা করতেন। এটি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু তা নিশ্চিত করতে পারেনি তুরাগ থানা পুলিশ। এসময় স্হানীয় এলাকাবাসি ও উ?সুক জনতা ঘটনাস্থলে প্রচন্ড ভীড় জমায়।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ( ডিএমপি) উওরা বিভাগের তুরাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ড, মনজুর মোর্শেদ, তুরাগ থানার ওসি ( তদন্ত ) শফি উল্লাহ, ওসি অপারেশন, মফিজুল ইসলাম, এসআই নাফিজ সহ অন্যান্য পুলিশের উধ্ব’তন কম’কতা’রা এসময় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে তুরাগ থানা পুলিশের প্ক্ষ থেকে বিষয়টি সিআইডিকে জানালো হলে সিআইডির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ক্রাইমসিন) ইউনিটের একটি দল আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন।

আজ মঙ্গলবার (১৫ জুন) বিকেল ৫ টার দিকে তুরাগের চন্ডালভোগ এলাকার মেইন রোড সংলগ্ন এক নম্বর বাড়ির একটি ভাড়াটিয়া দ্বিতীয় তলার বাসার ভেতর থেকে
অর্ধগলিত অবস্হায় রুমের দরজা ভেঙ্গে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ওই ভবন ও বাড়ির মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত মো, আবুল হাসেমের ছেলে মো. আমির হাসান ঘটনাস্হলে উপস্হিত সাংবাদিকদেরকে বলেন, আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির কাজের জন্য রাজমিস্ত্রি রুবেল ছাদে গেলে তিনি পচা গন্ধ পান। পরে তিনি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দ্বিতীয় তলা বাড়ির মনিরের রুমে অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে ওই রুমের দরজা ভেঙ্গে রুমে প্রবেশ করেন।

তিনি জানান, গত প্রায় দেড় মাস আগে আরিফ ও মনির আমার বাসাটি মাসিক চার হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছিল। গত ৪ /৫ দিন আগে আমার সাথে ভাড়াটিয়ার কথা হয়। তিনি তখন বলেন, ২/১ পর ভাড়ার টাকা পরিশোধ করবেন। তিনি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফরম পুরন করেনি। আমার কাছে তার জাতীয় পরিচয় পএ ও নেই। গত প্রায় ২ বছর আগে ও আরিফ (তিনি) আমার বাসায় ছিল বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। ওই সময় তার বেশ কয়েকজন কম’চারী ও ছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাদের রুমের ফ্লোরে অর্ধগলিত মরদেহটি পড়ে ছিল। মরদেহটির মাথা জাজিমের উপর এবং পা ফ্লোরে ছিল। মুখ মন্ডল, কালো, মেজেতে লাল রক্তে লেগে আগে। পা, উরু সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কালো রং দেখা গেছে। নগ্ন মরদেহটির পাশেই পরে ছিল তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং লুঙ্গি। এছাড়া রুমের ভেতরে অন্যান্য জিনিসপএ ছড়িয়ে পড়ে আছে। এক পাশে রুমের ভেতর দিয়ে ছিটকানি লাগানো আছে।
পরে ঘটনাটি তুরাগ থানা পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করলে নিহত ব্যবসায়ী মনিরের মেয়ে মিতু ও তার পরিবার মনিরের মরদেহ শনাক্ত করেন।
মিতু ঘটনাস্থলে উপস্হিত সাংবাদিকদের বলেন,আমার বাবার নাম মো, মনির হোসেন। চাঁদপুর জেলার কচুয়া থানাট আকানিয়া গ্রামে তাদের বাড়ি। তারা ৩ বোন। তার বাবা দুটি বিয়ে করেছেন। তিনি এ বাসায় থেকে উত্তরার বিডিআর মার্কেটে গাড়ির পার্সের খুচরা ব্যবসা করতেন।

নিহত মনিরের মেয়ে মিতু আরও জানান, আমার বাবার সাথে আমার ৪ দিন আগে আমার কথা হয়েছিল। এর পর গত ৩ দিন ধরে আমারা বাবার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এর পর থেকে আমরা আর তার খোজ পাইনি।

আজ মঙলবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র ক্রাইম সিন ইউনিট। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে তারা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন।

তুরাগ থানা পুলিশের এসআাই নাজির জানায়, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত তিন চার দিন পূর্বে হার্ট এ্যাটাক করে তিনি মারা গেছেন। তিনি একা থাকায় বিষয়টি কেউ টের পাননি। যার কারণে কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ায় মরদেহটি কিছুটা পচে গলে গেছে।

এ বিষয়ে তুরাগ থানার তদন্ত (ওসি) শফি উল্লাহ বলেন, মরদেহটি সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বুঝা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যাকান্ড।

তবে, তুরাগ থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইন সিন ইউনিট তদন্ত কাজ করছেন।

এদিকে, উওরা জোনের পুলিশের (এডিসি) ড, মনজুর মোর্শেদ বলেন, প্রাথমিক ভাবে নিহতের পরিচয় জানা গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মনির। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।

ডিএমপির তুরাগ থানা পুলিশ জানান, এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি চলছে।