দাওয়াত না দেওয়ায় আ.লীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ২

জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিএম তালেব হোসেন ও পুলিশ জানায়, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন নিয়ে বুধবার বিকেলে মাধবদীর রমনী কমিউনিটি সেন্টারে মাধবদী থানা আওয়ামী লীগের কার্যকরী কমিটির মিটিং চলছিল। মিটিং চলাকালে মাধবদী পৌরমেয়র হাজী মোশারফ হোসেন মানিক মিটিংয়ে উপস্থিত হয়।

বুধবার (১৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাধবদী পৌরসভার সামনে এ ঘটনা ঘটে।  ওই মিটিংয়ে মেয়রকে কেন দাওয়াত দেওয়া হয়নি তা নিয়ে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে সেখান থেকে মেয়র চলে যায়। মেয়র ও তার সমর্থকরা যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ মেয়র সমর্থকদের কটুক্তি করেন। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই প্রতিবাদে পৌরসভার সাবেক কমিশনার আনোয়ার হোসেন ও তার ভাই পৌরসভার সাবেক কমিশনার, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জাকারিয়া ও তাদের সমর্থকরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি পৌরসভা সংলগ্ন রাধুনী রেসটুরেন্টের সামনে এলে দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে পৌরসভার সাবেক কমিশনার, থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. জাকারিয়া ও আবু কালাম নামে দুই জন গুলিবিদ্ধসহ ৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহতদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরিবিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিম আল ইসলাম বলেন, আহত দুই জনের এক জনের ডান পায়ে ও অপরজনের বাম পায়ে ফাটা দেখা গেছে। গুলিবিদ্ধ কিনা পরীক্ষার পর বলা যাবে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বাংলানিউজকে বলেন, মিটিংয়ে দাওয়াত দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পৌরমেয়রের সঙ্গে আনোয়ার কমিশনারসহ স্থানীয় নেতাদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরেই এ ঘটনা ঘটে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইনামুল হক সাগর বলেন, খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ও সংঘাত এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তদন্তের পর আহতের সঠিক সংখ্যা বলা যাবে।