ক্লাবে আলো নিভিয়ে পরিমনিকে মারধর।

চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এবার জানা গেল ৯ জুন রাতে বোট ক্লাবের আলো নিভিয়ে অভিনেত্রীকে মারধর করা হয়েছে।

পরীমনি অবশ্য আলো নেভানোর কথা তার অভিযোগে উল্লেখ না করলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে এর আগে ক্লাবের ভেতর নায়িকাকে গালাগালের যে একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছিল, সেখানে অন্ধকার দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। ক্লাবের বারজুড়ে অন্ধকার হয়ে যায়। এরপর শোনা যায় অশোভনীয় গালাগাল। পুরুষ ও নারী কণ্ঠের চিৎকার। এর মধ্যেই ঠাসঠাস শব্দ। যেন কেউ কারো গায়ে হাত তুলছে। ব্যথা পেয়ে শব্দ করছে কেউ। বেশ কয়েক মিনিট এভাবেই মারধরের ঘটনা ঘটে।

যখন বিদ্যুৎ আসে তখন প্রায় অচেতন ছিলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। এক পর্যায়ে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি ও ক্লাবের নিরাপত্তাকর্মীর সহযোগিতায় বের করা হয় তাকে।

অনেকেই জানিয়েছেন, রাত ১২টার দিকে ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য (বর্তমানে বহিষ্কৃত) নাসির উদ্দিন মাহমুদ, পরীমনি ও তাদের সঙ্গীদের বসে থাকতে দেখেছেন। তার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার শেষে পরীমনিকে বেশ অসুস্থ দেখাচ্ছিল। তার গাল দুটি লাল হয়ে ছিল। এক পর্যায়ে ক্লাব থেকে বের হন নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

গত ৯ জুন মধ্যরাতে সাভারে অবস্থিত ঢাকা বোট ক্লাবে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ঘটনার চার দিন পর রোববার রাত ৮টার দিকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে এবং রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘটনা প্রকাশ করেন নায়িকা পরীমনি।

সোমবার সকালে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করেন তিনি। ওই দিনই প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে মাদক ও ইয়াবা জব্দ করা হয়।