আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা তৌফিকসহ গ্রেফতার-৬

এস এম মনির হোসেন জীবনঃ রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাবের অভিযানে আলোচিত মাদক আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা তৌফিকসহ ৬ জনকে  বিপুল পরিমান মাদক,
বিদেশী অস্ত্র ও  বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ  গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।
এ চক্রটি উত্তরায় একটি বাইং হাউজের নামে বাসা ভাড়া করে গোপনে মাদক সেবন ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। এ চক্রে আরও ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে।
অভিযানকালে আইস, ইয়াবা, বিদেশী মদ, গাজা এবং ১৩টি বিদেশী অস্ত্র এবং রেপলিকা অস্ত্র ও অন্যান্য ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, বিপুল
পরিমান, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদিসহ ল্যাবরেটরি (মেথ ল্যাব) সরঞ্জামাদি
উদ্ধার করা হয়।
র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৩) এর এএসপি (মিডিয়া)  বীনা রানী দাস আজ  মাদক উদ্ধারের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এবিষয়ে আজ শুক্রবার  বিকেল
সাড়ে ৪ টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্হ র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে  এক প্রেস কনফারেন্স  আয়োজন করা হয়।
র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন
সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত।
প্রেস কনফারেন্সে র‌্যাবের অন্যান্য উর্ধত্ন কম’কতা’রা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান,  সাম্প্রতিক সময়ে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, একটি চক্র “মেথ ল্যাব” তৈরী করে ভেজাল আইস, ইয়াবার রং পরিবর্তন, ঝাক্কি মিক্স ওরফে ঝাক্কি ওরফে ককটেল মাদক তৈরী করছে। এসব অপরাধ দমনে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি ও ছায়াতদন্ত শুরু করে।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে অভিযান শুরু হয়ে  ভোর পর্যন্ত র‍্যাব-৩ এর আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার এলাকায় অভিযান চালিয়ে  আলোচিত মাদক আইস সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা মোঃ তৌফিক হোসাইন (৩৫) সহ তার ৬ জন সহযোগীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হচেছ- মোঃ তৌফিক হোসাইন(৩৫), পিতা-মোঃ আকরাম হোসেন, জেলা- শেরপুর,  মোঃ জামিরুল চৌধুরী ওরফে জুবেইন (৩৭), পিতা-মোঃ জহিরুল হক, জেলা-ঢাকা, মোঃ আরাফাত আবেদীন  ওরফে রুদ্র(৩৫), পিতা-মৃত জয়নাল আবেদীন, জেলা-চাদপুর, মোঃ রাকিব বাসার খান (৩০), পিতা-মৃত গোলাম মোহাম্মদ, জেলা-বাগেরহাট,  মোঃ সাইফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (২৭), পিতা-মোঃ শাহাবুদ্দিন, জেলা-ঢাকা, ও মোঃ খালেদ ইকবাল(৩৫), পিতা-মৃত নওশের আলম, জেলা-ঢাকা।
র‍্যাব জানান,  এসময় তাদের নিকট থেকে  আইস, ইয়াবা, বিদেশী মদ, গাজা এবং ১৩টি বিদেশী অস্ত্র এবং রেপলিকা অস্ত্র ও অন্যান্য ইলেকট্রিক শক যন্ত্র, বিপুল পরিমান, মাদক সেবনের সরঞ্জামাদিসহ ল্যাবরেটরি (মেথ ল্যাব) সরঞ্জামাদি উদ্ধার মুলে জব্দ করা হয়।
এই সংঘবদ্ধ চক্রটি সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরায় একটি “মেথ ল্যাব” তৈরীর চেষ্টা করছিল। এই মেথ ল্যাবটি মূলত গ্রেফতারকৃত আরাফাত রুদ্র  ওরফে ঝাক্কি রুদ্র ও তার কয়েকজন সহযোগীর সহায়তায় পরিচালিত করত।
তারা আইস ও ইয়াবার পরিক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যর্ক্রম পরিচালনা করছিল।
র‍্যাবের মূখপাএ কমান্ডার খন্দকার আল মঈন
জানান,  তারা বাজার থেকে বিভিন্ন ঔষধ ও কেমিক্যাল মাদকের সাথে মিশ্রণ করতো। এছাড়া  তারা পাতন পদ্ধতি ভেজাল দ্রব্য মিশিয়ে আইসের পরিমান বৃদ্ধি; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাকি দিতে ইয়াবার রং পরিবর্তন এবং “ঝাক্কি” তৈরী করত।
“ঝাক্কি” তৈরীতে তারা তরল পানীর সাথে ইয়াবা. ঘুমের ঔষুধ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় ঔষধের তরল মিশ্রণ করত বলে জানায়।
ভেজাল ও পরিশুদ্ধ উভয় প্রকার আইস সরবরাহ ও নিজেরাও সেবন করতো।
এছাড়া মাদক দ্রব্য সেবনের জন্য তারা উত্তরায় একটি বাইং হাউজের নামে বাসা ভাড়া করে গোপনে মাদক সেবন ও অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করত। যেখানে সেবনকারী সিন্ডিকেটের একই “রিং” বা পরিচিতরা আশা যাওয়া করতো। তারা অন লাইনে বিভিন্ন কনটেন্ট হতে মেথ ল্যাব সম্পর্কে জানতে পারে।
র‍্যাবের আইনও গণমাধ্যম শাখার  প্রধান বলেন, এ মাদক ব্যবসার মূলহোতা ও সমন্বয়কারী তৌফিক। অর্থ যোগানদাতা গ্রেফতারকৃত জুবেইন ও খালেদ। গ্রেফতারকৃত রুদ্র কেমিষ্ট হিসেবে “মেথ ল্যাব” পরিচালনা করতো। গ্রেফতারকৃত সবুজ সংগ্রহ সরবরাহকারী এবং তৌফিকসহ বাকিরা সকলেই মাদক বিপননের সাথে জড়িত ছিল। এ চক্রে আরও
১০-১৫ জন সদস্য রয়েছে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান,  গ্রেফতারকৃত জুবেইন লন্ডন থেকে  বিবিএ, গ্রেফতারকৃত তৌফিক বেসরকারী ইউনিভার্সিটি থেকে  বিবিএ, গ্রেফতারকৃত খালেদ বেসরকারী ইউনিভার্সিটি থেকে  এমবিএ, গ্রেফতারকৃত রুদ্র ও সাইফুল এইচএসসি পাশ করার পর ড্রপ আউট এবং গ্রেফতারকৃত খালেদ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩য় বর্ষে অধ্যায়নরত।
তিনি আরও বলেন, চক্রটি টেকনাফ, মিরপুর, গুলশান-বনানীর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আইস সংগ্রহ করে সেগুলো তাদের সার্কেলে সরবরাহ করতেন। এই একটি গ্রুপের বাইরে আরো কয়েকটি ক্লোজ গ্রুপ রয়েছে বলে জানতে পেরেছে তাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত হয়েছে।
তৌফিককে আমরা চক্রের মূল সমন্বয়ক হিসেবে পেয়েছি। আগে তারা ইয়াবা কারবারে জড়িত ছিলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই বছর ধরে নতুন মাদক আইস নিয়ে কাজ শুরু করেন। সময়ের প্রয়োজনে এখন ঝাক্কি প্রস্তুত করছিলেন তারা।
অস্ত্রের ব্যবহার প্রসঙ্গে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আটক জোবেইনের এইম গেমিংয়ের নেশা ছিল।  মাদকাসক্তের পর তারা এই অস্ত্র দিয়ে এইম গেমিংয়ের নামে জুয়াও খেলতেন। এছাড়া যারা মাদক গ্রহণের জন্য আসতো তাদের ভয়ভীতি পরিদর্শনের জন্য ব্যবহার করা হতো।
 গ্রেফতারকৃত রুদ্রের নামে ৩টি মাদক মামলা রয়েছে এবং জুবেইন এর নামে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে, র‍্যাব-৩ এর এএসপি  বীনা রানী দাস আজ শুক্রবার রাত পৌনে ৮ টায় দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, এবিষয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে  উওরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়েরের  প্রস্তুতি চলছে।