বিআরটি প্রকল্পে হরিলুট চলছেঃ মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

এস, এম, মনির হোসেন জীবনঃ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর শিববাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২১ কিলোমিটার অংশে চলমান ‘বাস র্যাপিড ট্রানজিট- বিআরটি প্রকল্প কাজের ধীরগতির কারণে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে গাজীপুর সিটি মেয়র মো.জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন,প্রকল্পে হরিলুট চলছে।

বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে বিকল্প কোন রাস্তার চিন্তা করা হয় নাই উল্লেখ করে গাসিক মেয়র বলেন, ইঞ্জিনিয়াররা ভুল ডিজাইন দিয়েছেন। আজ তাদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে গাজীপুর ও বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলার মানুষকে। তিনি বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে কোন ফুটপাতের জায়গা রাখা হয় নাই, সড়কের দুই পাশের এলাকার পানি কিভাবে নিষ্কাষণ হবে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়নি, ভুল ডিজাইনে ফ্লাই ওভার ব্রিজ করা হচ্ছে। যেখানে ১০ লেনের সড়ক প্রয়োজন সেখানে মাত্র ৪ লেন দিয়ে কী হবে ?

মেয়র আজ শনিবার দুপুরে মহাসড়ক পরিদর্শনে এলে স্থানীয় চেরাগ আলী মার্কেট এলাকায় সাংবাদিকরা তার মুখোমুখি হন। বিআরটি প্রকল্পের ধীরগতি ও মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সাংবাদিকরা মেয়রকে প্রশ্ন করলে তিনি প্রকল্পের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং অচিরেই এর একটি সমাধান হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গাসিক মেয়র প্রকল্পের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, বলা হচ্ছে ৩০ ভাগ লেসে কাজ দেওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজে গড়িমসি করছে। অথচ প্রকল্পের ব্যয় দুই হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। লেস হলে টাকা মাইনাস হবে, কিন্তু প্লাস হবে কেন ? প্রকল্পে হরিলুট চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এসব টাকা আমাদের ঋণের টাকা, এই ঋণ আমাদেরকে পরিশোধ করতে হবে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে দুর্ভোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে যানজট নতুন কিছু নয়। প্রকল্পের আগেও নিয়মিত যানজট ছিল। প্রকল্পের কারণে এখন হয়তো যানজট একটু বেশি হচ্ছে। প্রকল্প চলাকালীন এই দুর্ভোগ সকলকে মেনে নিতে হবে। তবু আমরা চেষ্টা করছি দুর্ভোগ কমানোর জন্য। প্রকল্প সমাপ্ত হলে মানুষের কষ্ট আর থাকবে না। সকলকে সহযোগিতা ও ধৈয্য ধারণের জন্যও তিনি অনুরোধ জানান।

মেয়র মহাসড়ক পরিদর্শণকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সচিব ও নির্বাহী পরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-জিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ-দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ, টংগী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো, শাহ আলম এবং জিএমপি ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।