অবশেষে রাহুমুক্ত হল দক্ষিনখানের ৪০ বছরের পুরোনো সড়ক

আমিনুল ইসলামঃ রাজধানীর দক্ষিনখান থানাধীন ডিএনসিসির নবগঠিত ৪৭নং ওয়ার্ডের মিজানের গ্রেজ হতে গনকবরস্থান পর্যন্ত রাস্তাটি অবশেষে অবমুক্ত হল। প্রায় চল্মিশ বছরের অধিক পুরোনো এ সড়কটি নিয়ে হঠাৎ জনৈক ইরানী রাস্তার মধ্যে জমি দাবী করলে এলাকাবাসীর সাথে বিরোধ সৃস্টি হয়।

এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা ঢাকা ১৮ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাবিব হাসানের হস্তক্ষেপে অবশেষে সমাধান হয়েছে। মাননীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা মোতাবেক গতকাল ২৩ জুন সম্মানিত কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার দ্বারা রাস্তা ও ইরানীর বাড়ি মেপে দেখা গেল নিয়ম অনুযায়ী ১৬ ফুট রাস্তার মধ্যে ইরানী বা পুর্ববর্তী মালিকগনের ৮ ফুট রাস্তা থাকার কথা থাকলেও তার আছে মাত্র ৩ ফুট। এলাকাবাসী হতে প্রাপ্ত তথ্য মতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল রাস্তাটি। রাস্তা দিয়ে গাড়ী তো দুরের কথা বাই সাইকেল ঠেলে নিয়ে যাওয়াও দুরহ হয়ে পেড়েছিল। প্রায়ই শোনা যেত রাস্তার পাশে কাচাঁ ড্রেনে শিশু বাচ্চা পড়ে গেছে বা কোন বাচ্চা স্কুলে যাবার পথে পা পিছলে পরে গিযে ঐদিনের স্কুল যাওয়া পন্ড।

ঝলমলে রাজধানীর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে এ যেন প্রদীপের নীচে অন্ধকারের মত। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, উক্ত এলাকার জনকল্যাণে কাজ করা একতা কমিউনিটি পুলিশিং আঞ্চলিক কমিটি ও দক্ষিন ফায়দাবাদ কল্যাণে সমিতির নেতৃবৃন্দ্র ও ডিএনসিসি ৪৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোতালেব মিয়া রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য প্রয়াত মাননীয় এমপি সাবেক স্বরাষ্ট, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুনের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হন। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাস্তাটি উন্নয়নের জন্য সরকারী বরাদ্ধ আসে। এক পর্যায়ে জনগনের কাঙ্খিত রাস্তাটির উন্নয়ন কাজ শুরু হয়।

বর্তমান সরকারের ব্যাপক উন্নয়নের ছোয়া অত্র এলাকায় পরতে শুরু করায় এলাকার জনগনের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করে। কিন্তু এ উৎসাহ বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। জনৈক মৃত আনোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে এসে রাস্তার কাজ প্রায় ছয় মাস থমকে যায়। এতে জনমনে ব্যাপব হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উক্ত এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতাহার হোসেন কতৃক দক্ষিনখান থানায় দাখিলকৃত জিডির তথ্যমতে মৃত আনোয়ার হোসেনের প্রাক্তন স্ত্রী তাহমিনা ইরানী (৫৫) ও তার বর্তমান স্বামী (৪৫) এবং ইরানীর ভাই অতুল (৩৫) রাস্তার মধ্যে তিন ফুট জমি পাবেন দাবী করে নির্মান কাজে বাধা প্রদান করেন।

এ সমস্যা নিয়ে এলাকায় কয়েকবার শালিশ বৈঠক হয় ও স্থানীয় সার্ভেয়ার দিয়ে রাস্তা ও জমি মাপা হয়। প্রতিবারই আলোচনা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে গত ১৮ জুন ডিএনসিসির ৪৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোতালেব মিয়া রাস্তার কাজ পরিদর্শনে আসেন এবং পূর্বের রাস্তার উপর যথানিয়মে রাস্তার উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য নির্দেশ দেন। কাউন্সিলর চলে যাবার পরপরই উক্ত ইরানী নিজশ্ব সাংবাদিকসহ কয়েকজনকে নিয়ে এসে রাস্তার ইট উপরে ফেলার চেষ্টা চালায়। এলাকার উপস্থিত লোকজন তাদের কাজ চ্যালেঞ্জ করে পুলিশকে ফোন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এলাকাবাসী ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ হাবিব হাসান এবং ওয়ার্ড কউন্সিলর মোঃ মোতালেব মিয়াকে অবহিত করেন।গত ২১ জুন ১৮ আসনের সংসদ সদসস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাস্তা ও জনৈক ইরানীর বাড়ি মাপার নির্দেশ দেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,  অপরাধ যেই করুক কোন ছাড় দেয়া হবে না।