প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মানবিক আবেদন “শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী গ্রুপের”

সাকিবুল ইসলাম সুজন(সিটি রিপোর্টার):অবসরের পর ১৫ বছরের বদলে ৮ বছর পর পেনশন পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়ে অনেক দিন থেকে আন্দোলন করে আসছে “শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী গ্রুপ” নামে একটি সংগঠন।

রোববার (২৭ জুন) প্রধানমন্ত্রী বরাবর তার কার্যালয়ে একটি মানবিক আবেদন জমা দেন শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী সংগঠনটি।
শতভাগ পেনশন সমর্পণ কারীদের পেনশন পুনঃস্থাপনের সময় সীমা ১৫ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করার জন্য সংগঠনের সদস্য সচিব মোঃ সোহরাব হোসেন খান(অবঃ ডিজিএম, সোনালী ব্যাংক) সাক্ষরিত মানবিক এ আবেদন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেন সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম(পরিচালক, ডিএই) এবং সদস্য মোঃ বজলুল হক রানা(অবঃ পরিচালক, বিপিডিবি)।

আরও যারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তারা হলেন,মোঃ মাহফুজুর রহমান(অবঃ যুগ্মসচিব), সদস্য মীর সেলিম(অবঃ উপ-পরিচালক, বিপিডিবি), সদস্য ডা. মঈন আহমেদ(অবঃ চিকিৎসক, সচিবালয়) এবং সদস্য ড.মোঃ আখতারুজ্জামান হামিদী(অবঃ যুগ্মসচিব)।

নজরুল ইসলাম বলেন বর্তমান সরকার ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীদের অবসরের ১৫ বছর পেনশন পুনঃস্থাপন করা হয়।

আমরা এ সময়কাল ৮ বছরে পুনঃস্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। কারন অবসরের পর ১৫ বছর পর আমাদের বয়স হবে ৭৫ বছর যেখানে আমাদের দেশের গড় আয়ু ৭২ বছর সেখানে ৭৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থেকে পেনশন পুনঃস্থাপনের সুফল ভোগ করা সম্ভব নয়। তাই বেঁচে থেকে পেনশন ভোগ করার জন্য ৮ বছরে পেনশন পুনঃস্থাপনের আবেদন করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
সোহরাব হোসেন খান বলেন আমরা গত ১৪ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেছি আমাদের সংবাদ দেশের শীর্ষ স্থানীয় অনেক গুলো পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে প্রচার করা হয়। আমরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর মানবিক আবেদন এর সাথে এগুলোর কপি ও জমা দিয়েছি।

ড. হামিদী জানান মানবতার মা এর নিকট যৌক্তিক মানবিক আবেদন করেছি, অনেক দিন থেকে আমরা চেষ্টা করতেছি আশা করি ইনশাআল্লাহ তিনি সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমাদের এ আবেদন অনুমোদন করবেন।

মীর সেলিম বলেন শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী আমাদের অনেক সহকর্মী বেঁচে নেই অনেকে বিদ্যাশ্রমে আছে অনেকে ঠিকমত বাজার করে খেতে পারে না অর্থাভাবে, অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষে আমাদের ১৫ বছরের পরিবর্তে ৮ বছরে পেনশন পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা করে দিবেন।

মোঃ বজলুল হক রানা বলেন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা জনগণের যে সেবা দিয়েছেন তার বিনিময়ে হলেও এ সুবিধা পেতে পারি। তাই আমরা মমতাময়ী মানবতার মা প্রধানমন্ত্রীর কাছে মানবিক আবেদন জানাই আমাদের যেন পুনঃপেনশন ১৫ বছরের পরিবর্তে ৮ বছরে করে দেয়।
মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীগন একই সাথে রাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকও বটে।

তাদের আর্থিক, সামাজিক সুরক্ষা দেয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব এবং মানবিক ইচ্ছা। মুজিব বর্ষে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকার নানামুখী কল্যাণকর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাই তারাও আশায় আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের কথা বিবেচনা করবেন এবং ১৫ বছরের পরিবর্তে ৮ বছরে পেনশন পুনঃস্থাপন করবেন।

ডাঃ মঈন আহমেদ বলেন তারা অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেছেন রাষ্ট্রের প্রবীণ নাগরিকের দিকে তাকিয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের এই মানবিক আবেদন মেনে নিবেন। তারা আশা করছেন এই মুজিববর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় প্রার্থিত ঘোষণাটি দেবেন।