সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরু দেখতে আশুলিয়া আসছে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ

মোঃ রিপন মিয়া, স্টাফ রিপোর্টার:
দুই বছর বয়সী গরুটির নাম রাণী। প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দুই দাঁত উঠলেও তার উচ্চতা মাত্র ২০ ইঞ্চি। ওজন ২৬ কেজি। এরই মধ্যে দাম উঠেছে ছয় লাখ টাকা।

অন্যদিকে পৃথিবীর সবচেয়ে খর্বাকৃতির গরু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া ভারতের কেরালা রাজ্যে মানিকিয়াম জাতের গরুটি উচ্চতায় ২৪ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং ওজন ৪০ কেজি। সেই হিসাবে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট গরুর তকমা লাগতে যাচ্ছে রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আশুলিয়ার শিকড় এগ্রো ফার্মে বেড়ে ওঠা বিদেশি বক্সার ভুট্টি জাতের এই গরুটির গায়ে।

খামার কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দেশের প্রথম প্রাণী হিসেবে ‘গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ নাম উঠবে রাণীর। আর এর মাধ্যমে আরেকবার নতুনভাবে বাংলাদেশকে জানবে পুরো বিশ্ব।

মঙ্গলবার সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের চাড়িগ্রামে অবস্থিত শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, গিনেস বুকে রেকর্ড গড়তে পারে এমন তথ্যে রাণীকে দেখতে সেখানে ভিড় করেছে অনেক উৎসুক মানুষ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।

খামার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই বছরের রাণীর উচ্চতা ২০ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য ২৬ ইঞ্চি এবং ওজন ২৬ কেজি। ১১ মাস আগে নওগাঁর প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে রাণীকে আনা হয় এই খামারে। এরপর থেকেই লালনপালন করছেন তারা। আকারে বেশ ছোট হওয়ায় তাকে আলাদা রাখা হয়। সে খুব একটা খায় না। দিনে দুইবার সামান্য পরিমাণে ভুষি ও খড় খায়। বাইরে ঘুরতে পছন্দ করে এবং কোলে নিলে খুশি হয়।

শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক তানভির হাসান বলেন, ‘অনেক দিন যাবৎই আমরা রাণীকে পর্যবেক্ষণ করে দেখছিলাম বাড়ে কি না। রাণীর বয়স এখন দুই বছর। দুই দাঁত হয়ে গেছে। এরপরই ভেটেরিনারি ডাক্তার নিশ্চিত করেছেন- এটা পরিপূর্ণ। দুই দাঁত হয়ে গেলে বাড়ার আর সুযোগ থাকে না। এটা আর বাড়বে না।’

 

তিনি বলেন, ‘এরপরই আমরা গত ২ জুলাই গিনেস বুকে রানিকে পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গরু হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করার জন্য রাণীর ছবি, ফুটেজসহ সব তথ্য দিয়ে ইমেইল পাঠিয়েছি।’

 

তানভির জানান, গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ফিরতি ইমেইল পেয়েছি। তারা গিনেস বুকের ফরম পূরণ করে দিয়েছেন। তিন মাসের মধ্যেই তাদের দল আমাদের এখানে আসবে বলে জানিয়েছে।

খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সুফিয়ান বলেন, ‘শিকড় এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কর্ণধার হিসেবে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা গুগল সার্চ করে যেটা জেনেছি, বিশ্বের সবচেয়ে ছোট যে গরুটা আছে তার ওজন ৪০ কেজি। এটা ভারতের কেরালায় রয়েছে। ওইটার সঙ্গে যদি আমাদেরটার কম্পেয়ার (তুলনা) করি উচ্চতা, লম্বা এবং ওজন, সবদিক দিয়েই আমাদেরটা কম। সেটা মাথায় রেখেই আমরা গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘ওনারা (গিনেস বুক) অলরেডি আমাদের পজিটিভ রিপ্লাই দিয়েছেন। যেহেতু ওনাদের এটা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। তাই তারা ৯০ কার্যদিবসের মধ্যেই এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তবে আমি এ ব্যাপারে সরকারের সহায়তা চাইব। কারণ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে নাম লেখানো শুধু আমার প্রতিষ্ঠানের নয়, সরকারেরও গর্ব।’

 

এ বিষয়ে সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘গরুটির বিষয়ে আমরা শুরু থেকেই জানি। নিয়মিত খোঁজখবরও নেয়া হচ্ছে। আমাদের পরামর্শ মতেই ওনারা গরুটিকে দেখভাল করেছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘ভুট্টি জাতের গরুগুলো এমনিতেই ছোট সাইজের হয়। এ গরুটি ভুট্টি জাতের মধ্যে আরও ভুট্টি, মানে খুবই ছোট সাইজের। গরুটি বর্তমানে পুরোপুরি সুস্থ। এর উচ্চতা এবং ওজন বাড়ার সম্ভাবনা নেই।’