লৌহজংয়ে আলুচাষীরা ব্যস্ত শেষমুহুর্তের পরিচর্যায়

ওয়াশীম ফারুক, মুন্সীগঞ্জ ( লৌহজং) ঃদেশের আলুর ভান্ডার হিসেবে খ্যাত মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় লৌহজং ও ব্যাপক ভাবে আলু চাষ হয়েছে এই বছর।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শরীফুল ইসলাম জানান চলতি বছরে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার ৮’শ ৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। তার মধ্যে লৌহজং উপজেলায় ৪ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয় এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার মেঃটন। যা বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গতবছর করোনাকালীন সময়ে আলুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। গত বছর আলুর দাম সর্বোচ্চ কেজিপ্রতি হয়েছিল ৫০ টাকা। যা কৃষকের বিগত দিনের লোকসান মিটাতে কিছুটা হলে ও সক্ষম হয়েছিলেন । তাই এবছর আলু চাষে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে । জেলার ৬ উপজেলার মধ্যে লৌহজং বাদে প্রায় সবকটি উপজেলায় আলু উত্তোলনের সময় হয়ে গিয়েছে।

কিন্তু লৌহজং উপজেলার বিভিন্ন এলকায় বর্ষার পানির সঠিক সময়ে নামতে না পারার কারণে আলু চাষে বিলম্বিত হয়েছিল ।তাই এখানের কৃষকরা কিছুটা চিন্তিত। সঠিক সময়ে চাষ না করার কারণে আলুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কিনা তাও সন্দেহ পোষণ করছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অনেকে জমিতে সেচ দিয়ে পানি দিচ্ছেন ।কেউ কেউ কীটনাশক ঔষধ আলু গাছের প্রয়োগ করছেন। শেষ মুহূর্তে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকের। গাওদিয়া ইউনিয়নের হাড়িদিয়া গ্রমের আলু চাষী মেরাজ হোসেন বলেন,” কয়েক বছর ধরে আমাদের এখানে আলু সঠিক সময়ে বপন করতে পারিছি না। নদী কাছে হওয়ার বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে বালি এসে পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া জমি থেকে বর্ষার পানি সরতে অনেক দেরি হয়ে যায় বিধায় তাই আমাদের আলুর বীজ বপন করতে অনেক দেরি হচ্ছে। সঠিক সময়ে আলুর বীজ বপন করতে পারলে ফলন আশানুরূপ হয়না বলে আমাদের লোকসানের মুখে পরতে হয়। ” আরেক চাষী মোঃ মিজান কাজি বলেন, “শেষ মুহূর্তে জমিতে পরিচর্যা করতেছি। এখন একটু বৃষ্টি হলে খুবই ভালো হতো। গরম পড়ে গেছে কিছু কিছু জমিতে নানা রকম রোগ বালাই দেখা দিচ্ছে। তবে আরও এক দেড় মাস আগে আলু চাষ করতে পারলে এই সমস্যাটা দেখা দিত না।”

খিদিরপাড়ার আলু চাষীরা জানান, বর্ষার পানি সঠিক সময়ে নেমে যেতো তাহলে সঠিক সময়ে আলু চাষ করতে পারতাম এবং সঠিক সময় আলু উত্তোলন করা যেত।সরকারের কাছে আমাদের দাবি মাইজগাঁও থেকে বালিগাঁও বাজার পর্যন্ত এই খালটিকে পূনঃখনন করা করা হোক।