আশুলিয়ায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ নেতা-ইউপি সদস্য সমর্থকদের সংঘর্ষ, গুলি

মোঃ রিপন মিয়া (আশুলিয়া)ঃ আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক ভূইয়া ও আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবীর সরকারের কর্মীদের মধ্যে গুলি বিনিময়, মোটর সাইকেল ভাঙচুর, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এঘটনায় আহত হয়েছে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষ আশুলিয়া থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। এক পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অপরপক্ষ ইউপি সদস্য সাদেক ভুইয়ার ছেলে মনির হোসেন থানায় অভিযোগ করতে এসে আটক হয়েছে​। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন ইপিজেডের এক্সপিরিয়েন্স ক্লোথিং লিমিডেট নামে একটি কারখানায় আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবীর হোসেন সরকার ঝুট ব্যবসা করে আসছিলো। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক ভূঁইয়ার ছেলে মনির হোসেনের ব্যাবসায়ীক চুক্তি হয়েছে বলে দাবী করেন মনির হোসেন। এ খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবীর হোসেন সরকার এর পক্ষে ২০ থেকে ২৫টি মোটর সাইকেলযোগে ৫০/৬০ জন কর্মী ডিইপিজেডের সামনে মহড়া দেয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক ভূঁইয়ার ছেলে মনির হোসেনের কর্মীদের উপর হামলা চালায় বলে জানা গেছে। খবর ভাদাইল এলাকার স্থানীয়দের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে যুবলীগ কর্মীদের প্রতিঘাত করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। হামলা শেষে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবীর হোসেন সরকারের কর্মীরা মোটরসাইকেল যোগে ভাদাইল এলাকা দিয়ে মহড়া দিয়ে ইউপি সদস্য সাদেক ভূঁইয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মনিরের কর্মীসহ স্থানীয়রা দেশিয় অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০/১৫ জন আহত হয় এবং ভাঙ্গচুর করা হয় অন্তত ৫/৭ টি মোটরসাইকেল। পরে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা সাদেক ভূঁইয়ার ছেলে মনির হোসেন ঘটনার পর থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করতে আসা মাত্রই তাকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটক হবার আগে মনির হোসেন দাবী করেন, সকালে ইপিজেড এলাকার সামনে যুবলীগের নেতৃত্বে তার লোকজনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা এক পর্যায়ে ভাদাইল এলাকায় তার বাড়িতে পৌছায়। এসময় হামলা থেকে বাঁচতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীদের ডাকলে স্থানীয়রা এসে হামলাকারীদের বেশ কিছু মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এসময় মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায় হামলাকরীরা।
এ বিষয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাজী আবু সাদেক ভূঁইয়া বলেন, আমার ছেলে মনির পুরাতন ইপিজেডের ভেতরে এক্সপেরিয়েন্স কারখানায় ঝুটের ব্যবসা করে। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবীর হোসেন সরকার বলেন, আমি দীঘদিন ধরে সেই কারখানার ঝুট বিক্রি করে আসছি। মঙ্গলবার ওই কারখানার মালামাল নামাতে গেলে মেম্বরের লোকজন আমার ছেলেদের ওপর অর্তকিত হামলা করে। আমি বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছি।

পুলিশ জানায়, পুরাতন ইপিজেডের এক্সপিরিয়েন্স ক্লোথিং লিমিডেট নামে কারখানায় আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহবায়ক কবীর হোসেন সরকার ঝুট ব্যবসা করে আসছে। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কারখানার সাথে স্থানীয় ইউপি মেম্বার সাদেক ভুইয়ার ছেলে মনির হোসেনের ব্যাবসায়ীক চুক্তি হয়েছে বলে দাবী করেন মনির হোসেন। খবর পেয়ে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল নিয়ে যুবলীগের নেতা কর্মীরা সকালে ভাদাইল এলাকা দিয়ে যাবার পথে তাদের ওপর হামলা চালায় মনিরের লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।