হিজড়াদের সাথে যাত্রী ও হকারদের সংঘর্ষ, আহত ১০

মোঃ রিপন মিয়া (সাভার) :ঢাকার সাভারে গণপরিবহনে এক শিক্ষার্থী যাত্রীর কাছে দাবিকৃত চাঁদার টাকা না পেয়ে তাকে মারধর ও লাঞ্চিত করায় তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) সদস্যদের সাথে বাসযাত্রী ও হকার্সদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এতে আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন। শনিবার দুপুরে সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সুমি নামের আহত এক হিজড়াকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দুপুরে ঢাকা থেকে সাভারগামী একটি যাত্রী বাহী বাসে দুই হিজড়া সদস্য টাকা উত্তোলন করতে উঠে। এসময় আমির হোসেন নামের শিক্ষার্থীর কাছে দুই হিজড়া সাহায্য হিসেবে ১০ টাকা দাবী করেন। এসময় তিনি ৫ টাকা দিলে হিজড়া সদস্যরা টাকা না নিয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগাল দেয়। এ ঘটনায় অন্যান্য বাস যাত্রীরা একত্রিত হয়ে ওই দুই হিজড়াকে মারধর করে বাস থেকে নামিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ১০/১২জন হিজড়া একত্রিত হয়ে ফুুটপাতের একটি হকারের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এসময় অন্য হকার বাঁধা দিলে তাদের উপরও চড়াও হয় এবং একজন হকারকে মারতে মারতে জামাকাপড় ছিড়ে ফেলে হিজড়রা। এসময় হিজরাদের কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে সকল হকার মিলে হিজড়াদের উপর ইট-পাটকেল মারলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তন ১০ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সুমি নামের এক হিজড়াকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সাভার উপজেলা হকার্স লীগের সাধারন সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির মোল্লা বলেন, দুপুরে বাস যাত্রীদের সাথে সংঘর্ষের পর দলবদ্ধভাবে প্রায় ১৫/২০ জন হিজড়া হকারদের উপর চড়াও হয় এবং ব্যবসায়ীর দোকান ভাংচুর ও হকারদের মারধর করে ৪ জন হকারের কাছ থেকে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন সাভার বাজার বাস স্টান্ডের উভয় পাশে থাকা প্রায় ২ হাজার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে হিজড়ারা। দিনের পর দিন এভাবে তাদের অত্যাচার চললেও কোন মহল থেকেই এর প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

সাভার বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম জানান, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে চলাচলরত প্রতিটি গণপরিবহনে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে হিজরারা। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে হেনস্থা করা হয়। অনেকটা আত্মমানসম্মানের ভয়েই হিজরাদের চাঁদা দিতে বাধ্য হন তারা।

সাভার মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হিজড়াদের সাথে সংঘর্ষের খবরে পুলিশ তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।