বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার জিয়ার দাফন সোমবার বনানীতে

মোঃ রিপন মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমানের দাফন হচ্ছে সোমবার রাজধানীর বনানী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে।

আজ রোববার মরহুমের দাফন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক স্বজন দেশের বাইরে থাকায় সোমবার মরহুমের মরদেহ দাফন করা হবে। এ জন্য মরহুমের মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমগারে রাখা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় দলীয় কার্যালয়, এর পর বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও নিজ এলাকা ধামরাইয়ের কালামপুর আতাউর রহমান খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মরহুমের মরদেহ সমাহিত করা হবে।

এর আগে শনিবার রাত ১০টায় তেজগাঁও ইম্পালস হাসপাতালে তিনি মারা যান। তিনি ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নেতা আতাউর রহমান খানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান রাজধানীর ধানমন্ডির বাসভবনে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর পর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তাকে ইম্পালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই শনিবার রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
মরহুমের ফুফাতো ভাই ধামরাইয়ের আমতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসীন খান নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের অনেক স্বজন দেশের দূরবর্তী স্থানে ও দেশের বাইরে রয়েছেন। তাই রোববার দাফন না করে সোমবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি পারিবারিকভাবে। আমরা রাতেই এ ব্যাপারে পারিবারিকভাবে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের ছেলে। তার বাবা আতাউর রহমান ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ও ১৯৮৪ সালে এরশাদ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার জিয়াউর রহমান খানের মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে সবাই মর্মাহত ও গভীরভাবে শোকাভিভূত হয়ে পড়েন। তিনি একজন শান্তিপ্রিয় রাজনীতিবিদ ছিলেন।

ব্যারিস্টার জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার রাতে শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ ছাড়া তার এ মৃত্যুতে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঢাকাজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ, সাবেক সংসদ সদস্য ও ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মালেক, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসম্পাদক লায়ন মীনা মালেক, ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেছ হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বিশিষ্ট শিল্পপতি তমিজ উদ্দিন ও ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদসহ সবস্তরের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন