রাজধানীতে মানব পাচারকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

এস,এম, মনির হোসেন জীবন|ঃ রাজধানীর ডেমরা, কেরানীগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে নারী পাচারকারী সংঘবদ্ব চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।

এদের মধ্যে একজন নারীও আছেন। র্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস আজ মঙ্গলবার এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা হলেন- শংকর বিশ্বাস (২৫), শেখ হানিফ মিয়া (২৮) মো. জুয়েল হোসাইন (২৯) ও মোছা. শামীমা আক্তার (২১)।

এসময় তাদের নিকট থেকে মোবাইল ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়। র্যাব জানান, এক ভিক্টিমের মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিওিতে রোববার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাচারকারী চক্রের এক নারীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার শামীমা আক্তার ভিক্টিমের বান্ধবী। এ পাচারকারী চক্রের মূলহোতা দুবাইয়ে আছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনতেও কাজ করছে র্যাব।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস জানান, দুবাইয়ে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতনে সহজ-সরল ও সুন্দরী নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখাত একটি চক্র। রাজি হলে উল্টো চক্রের সদস্যরাই নিজ খরচে পাসপোর্ট ও ভিসা করে নারীদেরকে দুবাইয়ে নিয়ে যেত। তবে শর্ত থাকতো, পরিবারের সদ্যদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখতে হবে।

দুবাইয়ে গিয়ে এসব নারীকে জোড়পূর্বক অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করে চক্রটি। এ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব। তিনি জানান, শামীমার সঙ্গে দুবাই প্রবাসী অপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্ব ছিল। অপু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে বেড়াতে এলে সুমাইয়া (ছদ্মনাম) ও শামীমার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় দেখা করে। অপু তখন ভিক্টিমকে দুবাই শপিংমলে ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখান। অপুর প্রস্তাবে সুমাইয়া রাজি হলে অপু ভিক্টিমকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন।

্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, গোপনে শামীমা সুমাইয়ার পাসপোর্ট তৈরি করে দেন। এরপর অপু নারী পাচার চক্রের মূলহোতা দুবাই প্রবাসী মো. কামাল হোসাইনের (৩৮) মোবাইল নম্বর ভিক্টিম সুমাইয়াকে দেন। কামাল সুমাইয়াকে রাজধানীর পল্টন মেসার্স মেহরাব এয়ার ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল এজেন্টের টিকিট ম্যানেজার শেখ হানিফ মিয়ার (২৮) কাছে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেন। তিনি বলেন, গ্রেফতার জুয়েল হোসাইন দুবাই প্রবাসী।

তিনি শেখ হানিফ মিয়ার ঘনিষ্ট বন্ধু। দুবাই প্রবাসী চক্রের মূলহোতা কামাল জুয়েলেরও ঘনিষ্ট বন্ধু। ঘটনার সময় জুয়েল দুবাই ছিলেন। তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। কামাল দুবাই থেকে জুয়েলের মাধ্যমে সুমাইয়ার দুবাই যাওয়ার খরচ বাবদ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা হানিফের কাছে পাঠান। হানিফ ও তার কর্মচারী গ্রেফতার শংকর সুমাইয়ার তিন মাস মেয়াদি দুবাইয়ের টুরিস্ট ভিসা এবং বিমানের টিকিট করে দেন।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বীণা রাণী দাস বলেন, ‘এরপর কামাল সুমাইয়াকে জানান তার ভিসা ও টিকিট তৈরি হয়ে গেছে এবং ২৮ এপ্রিল দুপুরে হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

ভিক্টিম তার মা ও বোনকে কিছু না জানিয়ে গত ৩০ এপ্রিল রাতে দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা করেন। দুবাই বিমানবন্দরে পৌঁছলে কামাল সুমাইয়াকে তার বাসায় নিয়ে যান এবং তার পাসপোর্ট কেড়ে নেন। এরপর কামাল ভিক্টিমকে জোড়পূর্বক অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করেন। তিনি বলেন, ওই কাজে সুমাইয়া রাজি না হলে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করে।

ভিক্টিম শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার মায়ের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে উদ্ধারের আকুতি জানান। এরপর সুমাইয়ার মা র্যাব-৩ এ তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য অভিযোগ জানান। ভিক্টিম জানান, ওই চক্রের মূলহোতা কামাল ২২ বছর ধরে দুবাইয়ে বসবাস করেন। সুমাইয়া নামে দুবাইয়ে এক নারী সহযোগী রয়েছে কামালের। বীণা রাণী দাস আরও বলেন, অপু প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে গড়ে তোলেন। এরপর তাদেরকে উচ্চ বেতনে দুবাইয়ে চাকরির প্রলোভন দেখান।

ওই প্রলোভনে রাজি হলে কামাল নিজ খরচে বিভিন্ন মেয়েদের টুরিস্ট ভিসায় দুবাই নিয়ে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করেন। বর্তমানে সুমাইয়ার সঙ্গে তার মা যোগাযোগ করতে পারছেন না। এবিষয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃত আসামীদেরকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এ কর্মকর্তা।