উত্তরায় পুলিশ হেফাজতে রিমান্ডে আসামির মৃত্যু।। পুলিশের দাবি আত্নহত্যা

এস,এম,মনির হোসেন জীবনঃ রাজধানীর উত্তরায় পুলিশ হেফাজতে মোঃ লিটন (৪৫) নামে এক মাদক মামলার রিমান্ডে থাকা আসামীর মৃত্যু হয়েছে। তবে, পুলিশ বলছে, ওই আসামী নিজে আত্মহত্যা করেছেন।

বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তাপস কুমার দাস আজ রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ডিএমপির উত্তরা পূর্ব থানার হাজত থেকে সোমবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে ওই আসামিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য তাকে টঙ্গীস্হ শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোমবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানা হাজতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, নিহত আসামি মোঃ লিটন (৪৫) বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার পাল্লাপাড়া গ্রামের সোলেমান প্রামাণিকের ছেলে।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তাপস কুমার দাস বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার ভেতরে হাজতে লিটন কম্বল নিয়ে ঘুমিয়ে ছিল। পরবর্তীতে লম্বালম্বি ছিঁড়ে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। যা আমরা সিসি ক্যামেরা চেক করে দেখতে পেয়েছি।

এখানে কারও কোন অবহেলা পাওয়া যায়নি। পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহত লিটনের মরদেহ টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতাল রিপোর্ট করা হবে।

এ ঘটনায় কোন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে এডিসি তাপস দাস বলেন, একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তাঁর মরদেহ সেখানেই ময়নাতদন্ত করা হবে।

মাদক ব্যবসায়ী মো লিটনকে দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে আনা হয়েছিল। সোমবার রাত ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। এবিষয়ে উত্তরা জোনের পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, একাধিক মাদক মামলার আসামী মোঃ লিটনকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উত্তরা পূর্ব থানায় রিমান্ডে আনা হলে সোমবার ( ৩ আগষ্ট) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হাজতে থাকা কম্বল ভেন্টিলেটরের সাথে গলায় ফাস নিয়ে আত্মহত্যা করে।

সিসি টিভি ফুটেজ দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা। এঘটনায় বিমান বন্দর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তাপস কুমার দাসকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ কমিটির বাকী দুইজন হলেন- উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাইফুল ইসলাম ও উওরা পূর্ব জোনের (এসি) পেট্রোল কাজী নূরে আলম । তারা আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এবিষয়ে রিপোর্ট দিবেন।

এঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আজ সকালে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হবে। গাজীপুর জেলার টঙ্গী জোনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাব্বির আহামেদ সাংবাদিকদের জানান, ফোজধারী কার্যবিধি অনুযায়ী অস্বাভাবিক/অপমৃত্যু হলে একজন ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা, ও হাসপাতাল কতৃপক্ষের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয় সেই হিসাবে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। প্রতিবেদন প্রস্তুত করে যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে প্রেরন করা হয়।