পিয়াসার আরো দু্ই সহযোগী গ্রেফতার

 এস, এম, মনির হোসেন জীবন– রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় রাতের বেলায় নামিদামি মডেলদের নিয়ে পার্টি ও বিদেশে প্লেজার ট্যুরের আয়োজক শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসানকে (৩১) ও তার একসহযোগীকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আটক মিশুর সহযোগির নাম মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে (৩৯)। আজ বুধবার বিকেলে র‌্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

র‌্যাবের আইন ও গনমাধ্যম শাখার মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন সাংবাদিকদেরকে জানান, সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে জানা যায়। এরপরই র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) এবং তার সহযোগী মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে (৩৯) গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানান, এসময় তাদের নিকট থেকে ১টি অস্ত্র, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ইয়াবা ১৩ হাজার ৩০০ পিস, ১টি ফেরারি গাড়ি, সিসার সরঞ্জামাদি, ২টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ভারতীয় ৪৯ হাজার ৫০০ জালমুদ্রা উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়।

তাদের ক্লায়েন্ট কারা জানতে চাইলে খন্দকার আল মঈন বলেন, জিসান ও মিশুর প্রায় ৫০টির বেশি ক্লায়েন্ট রয়েছে। এছাড়াও বিদেশে যেমন দুবাইয়ে তাদের ক্লায়েন্ট রয়েছে। গ্রেফতার মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের সঙ্গে গ্রেফতার জিসান ও মিশুর সখ্য রয়েছে বলেও জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টির নামে মাদক বিক্রি ও সরবরাহ করতেন বিতর্কিত মডেল পিয়াসার সহযোগী মিশু হাসান। পার্টিতে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিতেনে তিনি।

মিশু হাসান আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলের সাবেক স্ত্রী ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার অন্যতম সহযোগী। র‌্যাব জানান, মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান (৩১) ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে (৩৯) নামে তার এক সহযোগীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য।

এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০/১২ জন বলে জানা গেছে। র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের সদস্য প্রায় ১০/১২ জন। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকা বিশেষ করে গুলশান, বারিধারা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পার্টি বা ডিজে পার্টির নামে মাদক সেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করে থাকে। পার্টিতে তারা অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকে। সূএে জানা যায়, ডিজে পার্টিতে অংশগ্রহণকারীরা সাধারণত উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্য।

প্রতিটি পার্টিতে ১৫-২০ জন অংশ নিতো। এছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করতো। একইভাবে উচ্চবিত্তের প্রবাসীদের জন্যেও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরণের পার্টি আয়োজন করতো। তারা ক্লায়েন্টদের গোপন ছবি ধারণ করে অপব্যবহার করতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে।

র‌্যাবের এই মুখপাত্র বলেন, পার্টি আয়োজনের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের চাহিদা বা পছন্দের গুরুত্ব দিয়ে পার্টি আয়োজন করতো তারা। গ্রেফতারকৃতরা তাদের এই অবৈধ আয় থেকে অর্থ নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যবসায় (গাড়ির ব্যবসা, আমদানি ও গরুর ফার্ম ইত্যাদি) বিনিয়োগ করেছে। এই ব্যবসায় তাদের গ্রুপের সদস্যদের অবৈধ আয়েরও বিনিয়োগ রয়েছে। জানা যায়, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান নামি-দামি ব্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ির ব্যবসা করে থাকে।

সে বিলাসবহুল গাড়ী আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। এছাড়া সে নিজেও দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করতো। ২টি রেঞ্জ রোভার, অ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন ও ফেরারিসহ ৫টি গাড়ি রয়েছে তার।

র‌্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ইতিপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেফতার হয়েছিল। তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন চিহ্নিত অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ আছে । এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।