মিরপুরে অসাধু নেট ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব্যে হয়রানীর শিকার গ্রাহক সাধারন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে কিছু অসাধু নেট ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব্যে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেকে। সেই সাথে জিম্মি হয়ে পড়ছেন গ্রাহক সাধারন।কেননা নেট সংযোগ না নিলে মিলছে না ডিস সংযোগ। সংযোগ নিতে গেলে আবার গুনতে হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।

নানাভাবে হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ দেয়ার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় প্রতিকার মিলছে না ভুক্তভোগী গ্রাহকগদের।১০০ নম্বরে ফোন করেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলেও জানা যায়।কোন রুপ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই লাইসেন্স বিহীন প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন দেদারছে। বিটিআরসি’র পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান না হওয়ায় পাড়া মহল্লায় নামে বে নামে ব্যঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে উঠছে এসব অনুমোদনহীন ব্রডব্যান্ড ক্যাবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সরকার কর্তৃক নীতিমালা থাকলেও যথাযত কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনরুপ কাগজ পত্র ছাড়াই ব্যবসা করছেন তারা। আবার লাইসেন্সধারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনেককে নিয়মের বাহিরে এক থানা এলাকা পেরিয়ে অন্যথানা এলাকায় ব্যবসা করতে দেখা যাচ্ছে। তবে এনিয়ে কারো মাথা ব্যথা না থাকলেও এক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যনারটিকে বেশি ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। দলিও ব্যনারের দোহায় দিয়ে অনেকে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব না দিয়ে নিজ পকেট ভারি করতে মত্ব হয়ে ওঠেছেন।

ব্যবসা পরিচালনার স্বার্থে অনেকে আবার দল পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের খোলস পাল্টিয়ে হয়েছেন ক্ষমতাসিন দলের নেতা। শুধু মাত্র নিজ স্বার্থ হাসিলের লক্ষে দলটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা। অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরপুরে প্রায় শতাধিক অবৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে শুধু মাত্র মিরপুরের পল্লবীর ১১ নম্বরে প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী রয়েছে।যাদের বৈধ কোন কাগজ পত্র নেই, অনেকে আবার অন্যের ব্যবসার রিসেলার হয়ে ব্যবসা করছেন।

অনুমোদনহীন ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে সেকশন ১১ মধ্যে ১১/সি রোড ১০/১১তে এক বিহারি নেতার ভাই ছোটু, তার কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান নাই তারপরও সে বৈধ প্রতিষ্ঠান কে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করতে বাধা দিচ্ছে ডিস ব্যাবসায়ী বাদল (ফ্রেন্ডস ডিস) , মিল্লাত ক্যাম্প,মাদক ব্যবসায়ী মনু, জিয়া ১১/এ ব্লকে পেশী শক্তি ব্যাবহার করে ব্যাবসা পরিচালনা করছে, একই এলাকায় ডিস সোহেল ও গ্রাহক কে জিম্মি করে ব্যাবসা পরিচালনা করছে ১২/সি ব্লকে রোড ২০ দখল করে পরাগ ও প্রিন্স,ব্যাবসা করছে এবং অন্য কোনো ইন্টারনেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কে সংযোগ দিতে বাধা দিচ্ছে এবং গ্রাহকদের বাসায় গিয়ে গিয়ে হুমকি প্রদানের অভিযোগ আছে। ১১/সি এভিনিউ ৫ এনএ স্যাটেলাইট ক্যাবল নেটওয়ার্ক এলাকায় নুর আমিন ডিস ব্যাবসায়ী এলাকা দখল করে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সংযোগ প্রদান করতে পারছেনা এবং সংযোগ প্রদান করে গেলে সন্ত্রাসী বাহিনি দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয় গ্রাহক জিম্মি হয়ে টাকা দিয়েও কাঙিত সেবা পাচ্ছেন না। ১১/মদিনানগর মুজিবুর নামে ডিস ব্যাবসায়ী ইন্টারনেট না নিলে ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে । গ্রাহককে বাধ্য করে ইন্টারনেট সংযোগ নিতে। ১১/পলাশ নগর অনুপম স্যাটেলাইট নামক ডিশ সংযোগকারি প্রতিষ্ঠান বাধ্য করে গ্রাহকে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করছে অন্যথায় ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি প্রদান করেছ বলেও অভিযোগ রয়েছে। ১২/ই আশিক এলাকা দখল করে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে ,১২/ডি শ্যামল এলাকা দখল করে ইন্টারনেট সংযোগ দিচ্ছে,মিরপুর১০ মাল্টিলিংক নুর ইসলামসহ আরো অনেকে। সেকশন ১১ সি ব্লকে স্বপন নামের ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি জিপনেট সার্ভিস পয়েন্ট হিসেবে পরিচালিত। আপনি কোন দায়িত্বে আছেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ম্যনেজমেন্টে আছি, আমার আইডি কার্ডও আছে। লালমাটিয়া টেম্পু স্টান এলাকায় রাসেল হক নামের ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তিনি জানান,প্রতিষ্ঠানটি আমার বাবার নামে লাইসেন্স করা। আমি দেখা শুনা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ীর সাথে প্রতিবেদকের কথা হলে তিনি জানান, আমরা লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছি এবং রাজস্ব দিচ্ছি কিন্তু আমরা কেন বাধা গ্রস্ত হবো।এ বিষয়টি পরিত্রাণ পাবার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করি। আমরা যেন নির্বিঘেœ ব্যবসা করতে পারি বিটিআরসি’র দৃষ্টি আকর্ষন করছি যাতে অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয় সেই সাথে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। আইএসপি’র সাধারন সম্পাদক এমদাদুল হক জানান, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেলে আমরা সেটা বিটিআরসিকে অবগত করি তখন বিটিআরসি থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এলাকা দখল নিয়ে ব্যবসার ব্যপারেও একই ভাবে আমরা বিটিআরসিকে জানাই।আমাদের অভিযান পরিচালনার কোন ক্ষমতা নেই।

বিটিআরসি’র গনসংযোগ বিভাগ জানায়,অনুমোদনহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমরা অভিযান করে থাকি। পেশি শক্তির বিষয়ে পলিটিক্যাল ইস্যু গুলোকে আমরা নজরে আনবো। নেট সংযোগ না নিলে ডিস সংযোগ দেয়া হচ্ছে না কিছু এলাকায় এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমাদের অভিযোগের যে নম্বর রয়েছে, একশ নম্বরে যদি কেউ ফোন করে অভিযোগ দেয় তাহলে ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।