আশুলিয়া ও গাইবান্ধা থেকে আন্তঃজেলা বাস ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার

এস, এম,মনির হোসেন জীবন- সম্প্রতি রংপুর জেলার পীরগঞ্জ এলাকায় হানিফ পরিবহনের বাস চালক মনজুর হোসেন (৫৫) কে হত্যাসহ বাস ডাকাতির সাথে জড়িত সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা বাস ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব।

গ্রেফতারকৃতরা হচেছ – শ্রী নয়ন চন্দ্র রায় (২২), পিতা- শ্রী সুশীল চন্দ্র রায়, জেলা-গাইবান্ধা, মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ওরফে লালু (২২), পিতা- মৃত রাজ্জাক আলী, জেলা- গাইবান্ধা, মোঃ ওমর ফারুক (১৯), পিতা- মোঃ আনোয়ার, জেলা- গাইবান্ধা, মোঃ ফিরোজ কবির (২০), পিতা- মোঃ আবু বকর, জেলা- গাইবান্ধা, আবু সাঈদ মোল্লা (২৫), পিতা- মোঃ আব্দুর রউফ, জেলা- গাইবান্ধা এবং শাকিল মিয়া (২৬), জেলাঃ গাইবাদ্ধা।

শনিবার র‍্যাব-১ ও ১৩ এর পৃথক দল রাজধানীর অদূরে আশুলিয়া ও গাইবান্ধা গোপনে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে।

র‍্যাব জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাস চালক মনজুর হোসেন (৫৫)কে হত্যাসহ ডাকাতির সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

এ সময় ধৃত ব্যক্তিদের নিকট থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ ৫ টি ছুরি, লুটকৃত ১টি মোবাইল ফোন এবং তাদের ব্যবহৃত ৫ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

রোববার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্হ র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাবের) আইনও গনমাধ্যম শাখার মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন।

এসময় র‍্যাবের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্হিত ছিলেন।

তিনি জানান, গত ৩১ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে হানিফ পরিবহণের একটি নন এসি বাস (ঢাকা মেট্রো-গ-১৫-৩৮১০) রাজধানী ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে গাবতলী ছেড়ে যায়। বাসটি রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সাভারে পেঁৗছালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাকাত দলের ৩ জন (মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ওরফে লালু, আবু সাঈদ মোল্লা ও নবীনগর পেঁৗছালে ডাকাত দলের আরো ৩ শ্রী নয়ন চন্দ্র রায়, মোঃ ওমর ফারুক ও মোঃ ফিরোজ কবির যাত্রীবেশে বাসে ওঠে। অতঃপর বাসটি আনুমানিক আড়াইটার দিকে গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বিটিসি মোড় অতিক্রম করার পর বাসে যাত্রীবেশে থাকা ডাকাত দলের সদস্যরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করে। তারা প্রথমে বাসের চালক মনজুর হোসেনকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় চালক বাসটি ঘুরিয়ে আনার চেষ্টা করলে তারা আবার চালকের কাঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ডাকাত দলের সদস্য মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ওরফে লালু বাসটি চালাতে থাকে এবং ডাকাত দলের অন্যান্য সদস্যরা বাসে লুটপাট করতে করতে রংপুরের শটিবাড়ীস্থ ভাবনা ফিলিং স্টেশনে ইউটার্ন করে পূনরায় উল্টো পথে রওয়ানা করে। পলাশবাড়ী পেঁৗছার আগে ডাকাতেরা ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পীরগঞ্জের চম্পাগঞ্জ হাইস্কুলের সামনে রাত আনুমানিক ৩ টার দিকে যাত্রীসহ বাসটি রেখে পালিয়ে যায়।

র‍্যাব জানিয়েছে, এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা যাত্রীদের মুঠোফোন এবং নগদ আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় বাসের চালক মনজুর হোসেনকে নিকটস্থ পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ধৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য।
এই সংঘবদ্ধ ডাকাত দলটির সদস্য ১০/১২ জন। ধৃত আসামী নয়ন চন্দ্র রায় এই ডাকাত দলের মূল হোতা। সে
এই ডাকাত দলটিকে নিয়ন্ত্রন করত। এই ডাকাত দলের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত উত্তরবঙ্গগামী বাসে সাধারণ
যাত্রীবেশে উঠে ডাকাতি করে আসছিল। তারা গত ডিসেম্বর ২০২০ হতে এখন পর্যন্ত ৭/৮ টি বাসে ডাকাতি
করেছে বলে জানায়।

র‍্যাবের গনমাধ্যম শাখার প্রধান বলেন, ইতোপূর্বে এই ডাকাত চক্রটি পলাশবাড়ী থেকে পীরগঞ্জ ৪৮ কিলোমিটার এলাকা গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ রত্না স্পেশাল, ০১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ সটিবাড়ি স্পেশাল, ১২ জানুয়ারি ২০২১ তারিখ সৈকত পরিবহন, ০৮ মার্চ ২০২১ তারিখ শ্যামলী পরিবহন, ০৪ এপ্রিল ২০২১ তারিখ জায়দা পরিবহন এবং ১৯ আগস্ট ২০২১ ডিপজল পরিবহনে ডাকাতি করেছে বলে স্বীকার করেছে। সাধারণত তারা পলাশবাড়ি থেকে পীরগঞ্জ মহাসড়কের নির্জন এলাকা বাস ডাকাতির জন্য বেছে নেয়। ডাকাতি করার পর তারা পুনরায় আশুলিয়ায় ফিরে আসে।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আল মঈন
বলেন, এ ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার মোঃ পইমুল ইসলাম বাদী হয়ে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু করে যার নম্বর-০৪ তারিখ-০১/০৯/২০২১ ইং ধারা- ৩৯৬/৩৯৭ পেনাল কোড।

ধৃত আসামী নয়ন চন্দ্র রায়’কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, সে উক্ত অপরাধী চক্রের মূল হোতা। চক্রের
সদস্যরা আশুলিয়ায় বিভিন্ন গার্মেন্টসে খন্ডকালীন চাকুরী, ক্ষুদ্র ব্যবসা অটো চালক ইত্যাদি পেশায় জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃত শাকিলসহ আরও কয়েকজন সদস্য গাইবান্ধার বিভিন্ন পেশায় জড়িত। ধৃত আসামী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ওরফে লালু পেশায় একজন ট্রাক চালক। সে তার অন্যান্য সহযোগীদের সাথে বাস ডাকাতি করার সময় বাসের চালকের পরিবর্তে নিজে বাস চালিয়ে তাদের গন্তব্যে নিয়ে যেত। গ্রেফতারকৃত শাকিল ডাকাতি স্থলে উপস্থিত থেকে তথ্য ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করে। গ্রেফতারকৃত অন্যান্য সদস্যরা স্বশরীলে ডাকাতিতে অংশগ্রহণ করে। গ্রেফতারকৃতরা একে অপরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন বাসে সাধারণ যাত্রীবেশে উঠে ডাকাতি করে আসছিল বলে স্বীকার করে।

এবিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।