নজর বিডি

নাগরিক ব্লগ

১৫-তে বিয়ে, ১৯-এ বিচ্ছেদ: সব বাধা জয় করে আমেনার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প

কৈশোরেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন আমেনা বেগম। অল্প বয়সে বিয়ে, মাতৃত্ব, এবং সংসার ভাঙনের ধাক্কা—সব মিলিয়ে শুরুটাই ছিল সংগ্রামে ভরা। তবে দমে না গিয়ে আজ তিনি একজন আত্মনির্ভরশীল পোশাক শ্রমিক।  অভাব আর সমাজের বাঁকা কথা পেছনে ফেলে তিনি এখন একাই বহন করছেন বৃদ্ধ বাবা ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছেলের দায়িত্ব। বগুড়ার এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম আমেনার। অভাবের কারণে পঞ্চম শ্রেণির গণ্ডি পেরোনোর আগেই থেমে যায় পড়াশোনা। ২০০৪ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। ২০০৭ সালে ১৮ বছর বয়সে জন্ম হয় ছেলের। কিন্তু স্বামীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে ১৯ বছর বয়সেই বিচ্ছেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি। বিচ্ছেদের পর দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে কাজের সন্ধানে ঢাকায় আসেন আমেনা। ২০১৬ সালে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই একটি পোশাক কারখানায় ৫ হাজার ৬০০ টাকা বেতনে হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রমে কাজ শিখে এক বছরের মাথায় তিনি দক্ষ মেশিন অপারেটর হয়ে ওঠেন। বর্তমানে ওভারটাইমসহ প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি, যা দিয়ে চলছে পুরো সংসার। নিজের অপূর্ণ স্বপ্নগুলো আমেনা বুনে দিয়েছেন ছেলে আমিনুর রহমান হৃদয়ের মধ্যে। বর্তমানে তার ছেলে উত্তরা এলাকার একটি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আমেনা বলেন, "ছেলের পড়াশোনার জন্য আমি পাঁচ টাকা খরচ করতেও ভাবি। ও ভালো কিছু করতে পারলেই আমার জীবন সার্থক।" ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ের চিন্তাও করেননি। শুধু ছেলেই নয়, নিজের কষ্টার্জিত টাকায় গ্রামে বাবার জন্য গরু কিনে দিয়েছেন, কিনেছেন জমিও। একসময় যে সমাজ তাকে নিয়ে বাঁকা কথা বলত, আজ সেই সমাজেই তিনি একজন সফল ও লড়াকু মা হিসেবে পরিচিত। নিজের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমেনা অন্য নারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "জীবনে একটা কিছু হারালেই সব শেষ হয়ে যায় না। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে।" আমেনার এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কর্মস্থলের নিরাপদ পরিবেশও বড় ভূমিকা রেখেছে। হপ লুন অ্যাপারেলস লিমিটেডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নারী কর্মীদের ক্ষমতায়ন ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করায় আমেনার মতো হাজারো নারী আজ সাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

১৫-তে বিয়ে, ১৯-এ বিচ্ছেদ: সব বাধা জয় করে আমেনার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প