দেশে সাম্প্রতিক হাম (Measles) প্রাদুর্ভাব এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য খাতের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, টিকা সরবরাহে ঘাটতি এবং জাতীয় ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হওয়ায় দেশে “ইমিউনিটি গ্যাপ” তৈরি হয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এক বিশ্লেষণধর্মী লেখায় দাবি করেছেন, পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক জোট ‘গ্যাভি’ (GAVI) থেকে “ভ্যাকসিন হিরো” সম্মাননা লাভ করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে শিশু টিকাদানের হার উচ্চ পর্যায়ে ছিল।তার দাবি, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টরের বিভিন্ন কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্তের ফলে টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রচলিত টিকা সংগ্রহ পদ্ধতি থেকে সরে আসার উদ্যোগ, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব এবং মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বদলির কারণে টিকাদান হার কমে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফের সাম্প্রতিক তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে হাম প্রাদুর্ভাবের পেছনে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হওয়া, জাতীয় ক্যাম্পেইন বিলম্বিত হওয়া এবং টিকার ঘাটতি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু কোনো টিকাই পায়নি অথবা আংশিক টিকা পেয়েছে।তবে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের জন্য এককভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী করা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দীর্ঘদিন জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন না হওয়াসহ একাধিক কারণ একসঙ্গে পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।এদিকে, WHO বলছে, বাংলাদেশ অতীতে হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমআর টিকার (MR Vaccine) ঘাটতি এবং টিকাদান কাভারেজ কমে যাওয়ায় নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বর্তমানে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা এবং বাদ পড়া শিশুদের টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
অনলাইন জরিপ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল—টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, প্রতিটি প্রান্তে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যে নামটি সবসময় অগ্রভাগে থাকে। আর এই যুবদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হলো ঢাকা মহানগর উত্তর। এই ইউনিটের এক লড়াকু, বিশ্বস্ত এবং রাজপথ কাঁপানো নেতার নাম শিমুল আহমেদ। যিনি মাঠ পর্যায় থেকে নিজের যোগ্যতা, ত্যাগ আর সততার প্রমাণ দিয়ে আজ যুব রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন।রাজনীতি মানেই যেখানে ত্যাগ, সেখানে শিমুল আহমেদ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিগত সরকারের দমন-পীড়নের মুখে কোনো দিন মাথানত করেননি তিনি। দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মতিঝিলের রাজপথ থেকে শুরু করে পল্টনের দলীয় কার্যালয়—প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তাকে দমনের চেষ্টা করেছে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।কারাভোগের খতিয়ানই বলে দেয় দলের প্রতি তার আনুগত্য কতটা গভীর দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৮ দিন কারাভোগ। ২০২৩ সালের আগস্টে পল্টন থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৬ দিন রাজবন্দী হিসেবে কাটানো। ২০১০ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাবরণ। চব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরা ৭ থানার প্রতিটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করে দমনের চেষ্টা করা হয়।সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টি রচিত হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সফল করতে শিমুল আহমেদ সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন, যার ফলশ্রুতিতে তার ওপর নেমে আসে অসংখ্য মামলার বেড়াজাল। কিন্তু কোনো ভয় বা প্রলোভন তাকে রাজপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।শিমুল আহমেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিক শ্রমের ফসল। ২০০২ সালে বৃহত্তর উত্তরা থানার দক্ষিণখান ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে (জসিম ও সাইফুল আলম নিরব কমিটির সময়ে) তার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।তিনি উত্তরা মডেল থানা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব) অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মিরপুর জোনের টিম প্রধান হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষমতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি তার দক্ষতার ছাপ রেখেছেন।বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যারা বারবার জেল খেটেছেন এবং যারা রাজপথের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন—তাদেরই এখন নেতৃত্বে আসা সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী করতে সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদের জন্য শিমুল আহমেদ একজন অত্যন্ত যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।উত্তরা পশ্চিম থানার স্থায়ী বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম ও মোসা: শহীদা বেগমের এই সন্তান সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে জনপ্রিয়। বৃহত্তর উত্তরা এলাকার প্রতিটি সামাজিক ও মানবিক সংকটে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, শিমুল আহমেদ কেবল একজন নেতাই নন, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের প্রতিটি কর্মীর আস্থার প্রতীক। মাঠের কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এই নেতা আগামী দিনে যুবদলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তর যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। রাজপথের এই পরীক্ষিত নেতৃত্বই হোক আগামী দিনের প্রেরণা।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক নারী, তার তিন শিশুসন্তান ও ভাইকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত পরিবারের পশে গোপালগঞ্জ ২ আসনের এমপি ডা. কেএম বাবর। নিহত শারমিন আক্তারের ভাইদের চাকুরী দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় নিহত রসুল ও শারমিন আক্তারের গ্রামের বাড়ি পাইককান্দি গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নেয় এমপি। এ সময় গোপালগঞ্জ ২ আসনেন সংসদ সদস্য ডা. কেএম বাবর নিহত শারমিন আক্তারের বাবা শাহাদাত মোল্লাকে আশ্বস্ত করেন তাদের পরিবারে যোগ্য কেউ থাকলে তকে চাকুরী ব্যাবস্থা করে দেওয়া হবে জানান, এতে নিহত পরিবার আর্থিকভাবে স্বাচ্ছন্দে থাকতে পারবে বলে জানান তিনি। এসময় গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক নারী, তার তিন শিশুসন্তান ও ভাইকে ১০ মে রাতে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে। নিহতরা হলেন—শারমিন আক্তার (৩৫), তার তিন সন্তান মিম আক্তার (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (১) এবং তার ভাই রসুল হোসেন। শারমিন আক্তার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লা চৌকিদারের মেয়ে। তারা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করতেন।ঘটনার পর থেকেই নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, তিনিই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা যাকে যে অবস্থানে রাখেন, তার মাঝেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত থাকে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো আন্তরিকতার সাথে দ্বীনের জন্য কাজ করে যাওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সবসময় সন্তুষ্ট থাকা।"বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় শিক্ষা শিবিরের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষা শিবিরে সারা দেশ থেকে আসা নারী নেত্রীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পরকালীন মুক্তি। দুনিয়ার সাময়িক কোনো প্রাপ্তি বা অভাব যেন ঈমানের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইবাদত শুধু নামাজে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর আইন অনুযায়ী পরিচালনা করাই প্রকৃত দ্বীনদারী।মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার আহ্বান জানান। তিনি কর্মীদের আদর্শ, তাকওয়া এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মন। দেশের সকল জেলা থেকে বাছাইকৃত নারী দায়িত্বশীলরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ১৪ মে শুরু হওয়া এই শিক্ষা শিবির চলবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত।অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের স্বাস্থ্যখাত এখন সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, এই খাতের লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় 'প্রাক হেলথ কেয়ার'-এর ২য় সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নাগরিকের শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, যার জন্য জনগণ কর দেয়। কিন্তু সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধানে আসন্ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত দ্বীনদার ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যমূলক ও হয়রানিমূলক বদলি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্যসেবায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে (ডিএনসিসি) একটি স্বাস্থ্যবান্ধব ও বৈষম্যহীন জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন তিনি। বিশেষ করে সামর্থ্যহীনদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন।প্রাক হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) প্রফেসর ডা. জেহাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের এডমিন ইনচার্জ মো. জুবায়ের হোসাইন রাজন এবং শিক্ষা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর মো. রায়হান উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর সফরে যাচ্ছেন। বুধবার (১৩ মে) দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডা. শফিকুর রহমান রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে স্থানীয় রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা ও থানা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। একই দিনে তিনি ওই অঞ্চলের টিম সদস্য এবং জেলা ও মহানগর আমিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।সফরকালে দুপুরে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন।বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ডা. শফিকুর রহমান সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করবেন।জামায়াত আমিরের এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন সংগঠনের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম এবং স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যরা।
বিগত সরকারের দমন-নিপীড়ন ও জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ফ্রাঙ্কেস্টাইন পদ্ধতিতে দেশ শাসন করা ভয়ঙ্কর শাসক হাসিনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া ছিল সম্পূর্ণ আল্লাহর হুকুম। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।সাবেক এই ছাত্রনেতা তার দীর্ঘ জেল জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে হাসিনার আমলে প্রায় ১২-১৩ বার কারাবরণ করেছি। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে ৫ আগস্ট বের হই। ১ আগস্টও আমাদের মনে হয়নি যে আমরা মুক্তি পাব। ৫ আগস্ট যখন রেডিওতে শুনলাম হাসিনা পালিয়ে গেছে, তখন আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে কেঁদে ফেলেছিলাম।”আন্দোলনের দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “৪ আগস্ট জেলখানা থেকে খবর পেলাম লক্ষ্মীপুরে একদিনেই ১৩ জন মারা গেছে। ফাসিঁবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকা ৮ জন এবং পরবর্তীতে গডফাদার তাহেরের বাড়িতে জনতার দেওয়া আগুনে পুড়ে আরও ৬-৭ জন মারা যায়। এই মৃত্যুর মিছিল দেখে আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহর হুকুম ও উসিলা হিসেবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই এই স্বৈরশাসকের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে।”উপস্থিত জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে, তা যেন রাজপথেও অটুট থাকে। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলেমিশে যেভাবে কথা বলি, সেভাবেই যেন বাইরেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলতে পারি।”মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে কারাজীবনের ঘনিষ্ঠ স্মৃতিচারণ করে এ্যানি বলেন, “উনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আড্ডা, নামাজ ও খাওয়া-দাওয়ার স্মৃতি রয়েছে। উনার দাওয়াত পেয়ে জেল জীবনের সেই দিনগুলোর কথা বলতে আমি চলে এসেছি।” এছাড়া কারান্তরীণ অবস্থায় মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, সাঈদী সাহেব এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ারের লেখা পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইগুলো হলো— লৌহকপাটের অন্যজীবন, মুমিনের জীবনে নিয়ামত ও মুসিবত, কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.), ঈমানের উন্নতি এবং মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার সালাত ও সবর।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।