নজর বিডি
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার গোপীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা ও মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সোহরাব-উন-নুর ছিরু মিয়া নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছেন।মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পরে তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, কে বা কার মাধ্যমে আমাকে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। ১৫ জুন ১৯৯৮ সালে মুকসুদপুরে অনুষ্ঠিত বিএনপির উপজেলা সম্মেলনে তিনি মুকসুদপুর থানা জাতীয়তাবাদী দলের একজন ডেলিগেট হিসেবে মনোনীত হন (ক্রমিক নং-১৯, টেংরাখোলা ইউনিয়ন)সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বলেন, তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মাধ্যমে। ১০ অক্টোবর ২০০৩ সালে বিএনপির দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হলে তিনি সহ-সভাপতি (ক্রমিক নং-০৬) হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।তিনি জানান, পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর ২০০৩ সালে সাবেক শিল্পমন্ত্রী মোঃ আব্দুস সালাম পিন্টু এবং গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম.এইচ. খান মঞ্জুর অনুমোদনে মুকসুদপুর পৌরসভা বিএনপির দুই বছর মেয়াদি কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হলে তিনি সহ-সভাপতি (ক্রমিক নং-০৬) হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।১৮ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে মুকসুদপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, ওই কমিটিতে তাকে প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়।এর ধারাবাহিকতায়, ১৮ ডিসেম্বর ২০০৪ সালে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এম.এইচ. খান মঞ্জু এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুর রহমান হরপের অনুমোদনক্রমে মুকসুদপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে তাকে প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়।২৭ জানুয়ারি ২০০৫ সাল, প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের তৃণমূল পর্যায়ের পৌর, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভা সফলভাবে আয়োজন করতে ভূমিকা রাখেন।ছিরু মিয়া আরও বলেন, তিনি মুকসুদপুর পৌর বিএনপির প্রথম যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২৭ জানুয়ারি ২০০৫ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ স্টেডিয়ামে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের তৃণমূল পর্যায়ের পৌর, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সভা সফলভাবে আয়োজন করতে ভূমিকা রাখেন।১২ মে ২০০৬ সালে মুকসুদপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড কমিটির কর্মীসভাও তার সক্রিয় অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন হয় ।এছাড়া, ১২ মে ২০০৬ সালে মুকসুদপুর পৌর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ড কমিটির কর্মীসভাও তার সক্রিয় অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি বিএনপির থানা কমিটির দপ্তর সম্পাদক ছিলাম এবং ২০০৫ সালে মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু কে বা কার মাধ্যমে আমাকে পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।” তিনি আরও জানান, তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদের টোকেন সংগ্রহ করেছেন।লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবেন। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইন-শৃঙ্খলার সুরক্ষা, সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সার্বভৌমত্বের সংকট

প্রফেসর ড. আসিফ মিজানউপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয় (সোমালিয়া) এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষকএকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সুশাসন (Governance) ও আইনের শাসন (Rule of Law) প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা, কার্যকারিতা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সংঘটিত সহিংস হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন আইন-শৃঙ্খলার ঘটনা নয়; বরং তা রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব, জননিরাপত্তা এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।সাম্প্রতিক সময়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় সংঘটিত হামলার ঘটনাটি সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি মামলার আসামিকে আটক করার পর তার হেফাজতে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে থানায় হামলা, ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। এসব তথ্যের পূর্ণ সত্যতা ও দায় নির্ধারণ অবশ্যই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।অপরাধবিজ্ঞানের আলোচনায় গুজব (Rumour), বিভ্রান্তিমূলক তথ্য (Misinformation) এবং জনউত্তেজনা প্রায়ই সহিংসতার অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। কোনো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আগেই আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া কিংবা সংগঠিত সহিংসতা সমাজে আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং অপরাধপ্রবণতাকে উৎসাহিত করতে পারে।আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে, জনগণের অভিযোগ থাকলে তারও আইনসম্মত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। এই দুই নীতিই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খান সম্পর্কে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইতিবাচক মূল্যায়ন পাওয়া যায়। অনেকের মতে, তিনি দায়িত্ব পালনে আন্তরিক, জনবান্ধব ও পেশাদার মনোভাবের পরিচয় দিয়ে আসছেন। তবে কোনো সরকারি কর্মকর্তার কর্মদক্ষতা কিংবা কোনো অভিযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত প্রমাণ, তদন্ত এবং প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়ন।অপরাধবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো—রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা কেবল ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ও কর্তৃত্বের ওপরও আঘাত। থানা, আদালত কিংবা অন্য কোনো সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং সরকারি সম্পদ বিনষ্টের মতো কর্মকাণ্ড কখনোই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হতে পারে না। যদি এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।একই সঙ্গে সমাজের সচেতন নাগরিক, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখা, গুজব প্রতিরোধ করা এবং মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানো। সামাজিক দায়িত্বশীলতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমাজে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।নিরাপদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং জবাবদিহিমূলক পুলিশ ব্যবস্থা—দুইটিই পরস্পর পরিপূরক। একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেমন পুলিশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, তেমনি জনগণের অধিকার রক্ষায় পুলিশের জবাবদিহিতাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হয়। এই ভারসাম্যই সুশাসনের প্রকৃত ভিত্তি।পরিশেষে, আগৈলঝাড়া থানার ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে গুজব মোকাবিলা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রধান ভিত্তি।

জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রনায়কের রূপকল্প

অধ্যাপক ড. আসিফ মিজানউপাচার্য, দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়া এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষকবাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জনমুখী নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সম্পর্ক সবসময়ই সহজ ছিল না। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। লেখকের মতে, এই প্রেক্ষাপটে জনগণের প্রত্যাশা, সুশাসন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্ন নতুনভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।লেখকের দৃষ্টিতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার দাবি ক্রমশ জোরালো হয়েছে। তিনি মনে করেন, প্রশাসনিক দক্ষতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ছাড়া টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবকে তিনি একটি বৃহত্তর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের চিন্তার অংশ হিসেবে দেখেছেন।এক নতুন পরিকল্পনার প্রত্যাশালেখক উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও উন্নয়নমুখী বাংলাদেশ গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। তিনি “আমার একটি পরিকল্পনা আছে” ধরনের রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সংস্কারকে কেন্দ্র করে যে উদ্যোগগুলোর কথা আলোচিত হচ্ছে, সেগুলোকে লেখক জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখেছেন।জনকল্যাণমুখী উদ্যোগলেখকের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে পরিবারভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি, কৃষকবান্ধব নীতি এবং সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি মনে করেন, মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচি সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।একইভাবে কৃষিখাতের আধুনিকায়ন, ভর্তুকি ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর এবং কৃষকদের তথ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারে বলে তিনি মত দিয়েছেন।প্রশাসনিক সংস্কার ও মেধাতন্ত্রলেখক বিশেষভাবে প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণা বা তোষামোদির সংস্কৃতির পরিবর্তে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বাড়ানো গেলে সেবার মান উন্নত হবে এবং দুর্নীতি কমবে।এই প্রেক্ষাপটে তিনি মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের স্বপ্নএকজন আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অপরাধ বিশ্লেষক হিসেবে লেখক বিশ্বাস করেন, টেকসই উন্নয়ন কেবল অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; বরং প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ এবং নাগরিক আস্থার ওপরই এর সাফল্য নির্ভর করে।তাঁর মতে, একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে ব্যক্তিপূজার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে গণতান্ত্রিক রাখতে হবে এবং প্রশাসনে মেধা ও নৈতিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।সবশেষে লেখক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জনমুখী নীতির সমন্বয়ে বাংলাদেশ একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।

সহজ ভাষায় বাজেট কী?

বাজেট এমন একটি পরিকল্পনা, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আয় কত হবে এবং সেই আয় কোথায়, কীভাবে ব্যয় করা হবে তার হিসাব করা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বাজেট হলো আয় ও ব্যয়ের একটি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা।বাজেট শুধু সরকারই করে না; প্রতিটি পরিবার, প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি একজন ব্যক্তিও নিজের আয়-ব্যয়ের হিসাব ঠিক রাখতে বাজেট তৈরি করতে পারে। বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো সীমিত আয়ের মধ্যে সঠিকভাবে খরচ পরিচালনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা।পরিবারের বাজেটের বাস্তব উদাহরণধরা যাক, একটি পরিবারের মাসিক আয় ৩০ হাজার টাকা। পরিবারটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করল—খাদ্য খাতে ১২ হাজার টাকাবাড়ি ভাড়ায় ৮ হাজার টাকাশিক্ষা খাতে ৩ হাজার টাকাচিকিৎসায় ২ হাজার টাকাযাতায়াতে ২ হাজার টাকাসঞ্চয়ে ৩ হাজার টাকাএভাবেই তারা মাসের শুরুতে আয় ও ব্যয়ের একটি পরিকল্পনা তৈরি করল। এটিই হলো পারিবারিক বাজেট। বাজেট অনুযায়ী চললে পরিবারটি অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়িয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে।রাষ্ট্রের বাজেট কীভাবে কাজ করে?একটি দেশের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। সরকার প্রতি অর্থবছরে দেশের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের হিসাব করে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করে।সরকারের আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো—কর ও ভ্যাটশুল্কবিভিন্ন সরকারি ফিরাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের আয়বৈদেশিক অনুদান ও ঋণঅন্যদিকে সরকারের ব্যয় হয়—শিক্ষা খাতেস্বাস্থ্যসেবায়কৃষি উন্নয়নেঅবকাঠামো নির্মাণেসামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায়জাতীয় বাজেটের একটি সহজ উদাহরণধরা যাক, সরকার এক বছরে ১০ লাখ কোটি টাকা আয়ের পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু দেশের উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে ১২ লাখ কোটি টাকা।এ ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় আয়ের চেয়ে ২ লাখ কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থ ঋণ বা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এটিকে বলা হয় ঘাটতি বাজেট (Deficit Budget)।আবার যদি আয় ও ব্যয় সমান হয়, তাকে সুষম বাজেট (Balanced Budget) এবং আয় ব্যয়ের চেয়ে বেশি হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট (Surplus Budget) বলা হয়।কেন বাজেট গুরুত্বপূর্ণ?বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। কোন খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে, কোথায় নতুন বিনিয়োগ হবে, কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এসব বিষয় বাজেটের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়।একইভাবে ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে বাজেট মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে, সঞ্চয় বাড়াতে এবং আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।সাধারণ মানুষের জীবনে বাজেটের প্রভাবজাতীয় বাজেট ঘোষণার পর অনেক সময় বিভিন্ন পণ্যের দাম, করহার, আমদানি-রপ্তানি নীতি এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধায় পরিবর্তন আসে। ফলে বাজেটের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়ে।উদাহরণস্বরূপ, কোনো পণ্যের ওপর কর কমানো হলে তার দাম কমতে পারে। আবার নতুন কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু হলে নিম্ন আয়ের মানুষ উপকৃত হতে পারেন।অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, বাজেট একটি দেশের অর্থনৈতিক রোডম্যাপ। তবে সহজ ভাষায় বলা যায়, একটি পরিবার যেমন মাসিক আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা করে চলে, ঠিক তেমনি একটি দেশও উন্নয়ন ও জনকল্যাণের লক্ষ্যে প্রতিবছর জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করে। তাই বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং দেশের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা।

সাংবাদিকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নীরবতা কেন?

মোহাম্মদ সুমন চৌধুরীসভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটি (কেন্দ্রীয় কমিটি)একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন করেন এবং জনগণের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে—যারা আইন প্রণয়ন করেন, তাদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড কী?একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীকেও চাকরিতে প্রবেশের আগে শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হয়। অথচ জাতীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যতামূলক মানদণ্ড থাকে না। ফলে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাদের হাতে, তাদের জন্য কি কোনো যোগ্যতার মাপকাঠি থাকা উচিত নয়?সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে। যদি সত্যিই পেশাগত মানোন্নয়নের স্বার্থে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, তবে একই যুক্তিতে জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শিক্ষাগত ও নৈতিক যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। মেম্বার থেকে শুরু করে সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী—সবার অতীত কর্মকাণ্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য কার্যকর আইন থাকা উচিত বলে মনে করেন অনেক সচেতন নাগরিক।অন্যদিকে সাংবাদিকতা পেশা দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের চাপ ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড তুলে ধরার কারণে অনেক সাংবাদিক হয়রানি, হামলা-মামলা ও বিভিন্ন ধরনের চাপের শিকার হন। সমাজের অসঙ্গতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলম এবং ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়ানো সাংবাদিকদের জন্য কাজের পরিবেশ সবসময় সহজ থাকে না।গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়। কারণ, জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে জবাবদিহিতার সেতুবন্ধন তৈরি করে গণমাধ্যম। অনেক ক্ষেত্রে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দুর্নীতি উন্মোচন, অপরাধের তথ্য প্রকাশ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য।তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে জনপ্রতিনিধি, আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একটি পেশাকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সমানভাবে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে একটি কার্যকর ও ন্যায়সঙ্গত পথ।জনগণের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলবে যেখানে জনপ্রতিনিধিদের যোগ্যতা, আমলাদের জবাবদিহিতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা—সবকিছুই সমান গুরুত্ব পাবে। কারণ শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য যেমন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও নির্ভীক গণমাধ্যম।রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষার স্বার্থে এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই আজ সময়ের দাবি।

জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক

জিয়াউর রহমান: বাংলাদেশের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক— প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, রাজনীতি বিশ্লেষক।বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাংবিধানিক বিকাশের ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত নাম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি দেশের প্রথম সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারী একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক, যিনি পরবর্তীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৮ সালের ৩ জুন প্রথমবারের মতো সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী।নির্বাচনের ফলাফলে জিয়াউর রহমান বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নজির প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে তিনি দেশের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন।এর আগে স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সাংবিধানিক, রাজনৈতিক বা বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মনোনীত হন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসীন হন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে খন্দকার মোশতাক আহমদ ও বিচারপতি এ.এস.এম. সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা হয়েও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন।মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে জিয়াউর রহমানই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সরাসরি রণাঙ্গনে নেতৃত্বদানকারী এবং রাষ্ট্রীয় বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের অবদান মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর নির্বাচনী বৈধতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসের এসব অধ্যায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।তাদের মতে, ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন এবং তথ্যভিত্তিক আলোচনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিকাশ সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা দিতে সহায়তা করবে।

বিবেকহীন আধুনিকতা: ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি বিপন্ন মানবতা

প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।। রাজনীতি বিশ্লেষকআজ একবিংশ শতাব্দীর চরম উৎকর্ষের যুগে দাঁড়িয়ে আমাদের একটি রূঢ় সত্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে—আমরা প্রযুক্তিতে যতটা এগিয়েছি, মানবিকতায় ঠিক ততটাই পিছিয়েছি। চারপাশের বাহ্যিক চাকচিক্য আর যান্ত্রিক উন্নয়ন দেখে মনে হতে পারে, আমরা সভ্যতার চূড়ায় আরোহণ করছি। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম ক্যানভাসে তাকালে দেখা যায়, আমাদের ভেতরের ‘মানুষ’টি দিন দিন এক অনুভূতিহীন রোবটে পরিণত হচ্ছে। মানবতা আজ দিশেহারা হয়ে দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছে, অথচ একটু আশ্রয় দেওয়ার মতো সহানুভূতিশীল হৃদয়ের বড় অভাব।সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন কিছু মর্মান্তিক দৃশ্য আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠছে, যা বিবেকসম্পন্ন যেকোনো মানুষকে স্তব্ধ করে দিতে বাধ্য। স্বামীর কাঁধে স্ত্রীর নিথর লাশ, আর চারপাশের একদল মানুষ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে শুধু তা দেখছে। কেউ এগিয়ে আসছে না, কেউ সান্ত্বনার দুটি বাক্যও বলছে না। এর চেয়েও বেদনাদায়ক দৃশ্য দেখা যায়—এক হাতে অসুস্থ শিশু ও অন্য হাতে আরেকটি অবুঝ সন্তান নিয়ে এক অসহায় মানুষ সাহায্যের জন্য রাজপথে আর্তনাদ করছে, আর আশেপাশের কিছু মানুষ পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে সেই যন্ত্রণার ভিডিও ধারণে ব্যস্ত!সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সস্তা লাইক, কমেন্ট ও ভিউয়ের আকাঙ্ক্ষা আজ আমাদের মানবিক বোধকে গ্রাস করে ফেলেছে। একটি মানুষের জীবনের চেয়ে, তার বুকফাটা আর্তনাদের চেয়ে আজ মোবাইল ক্যামেরার লেন্স বড় হয়ে উঠেছে। মুমূর্ষু মানুষকে বাঁচানোর চেয়ে সেই যন্ত্রণাদায়ক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করাই যেন সমাজের একাংশের প্রধান দায়িত্বে পরিণত হয়েছে।প্রশ্ন জাগে—মানুষের বিবেক আজ কোন অতল গহ্বরে হারিয়ে গেল? কোথায় আজ সেই মানবতার ফেরিওয়ালারা, যারা বিপদে-আপদে অন্যের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতে দ্বিধা করতেন না?এই ব্যাধি শুধু কোনো একক ব্যক্তির নয়; এটি পুরো সমাজব্যবস্থার নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত। যখন সহানুভূতির চেয়ে যান্ত্রিক প্রদর্শনীবাদ বড় হয়ে ওঠে, তখন বুঝতে হবে সমাজের ভিতটাই ধীরে ধীরে পচে যাচ্ছে। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, তাসের ঘর ভেঙে পড়তে সময় লাগে না। মানবতা যদি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়, তবে সেই সমাজ কখনো টিকে থাকতে পারে না।আজ যে মহামারী, দুর্ঘটনা বা আকস্মিক বিপদ অন্য কারো দরজায় কড়া নাড়ছে, কাল তা আপনার কিংবা আমার জীবনেও নেমে আসতে পারে। কারণ বিপর্যয় কখনো কারো অনুমতি নিয়ে আসে না।এখনই সময় এই আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়াল ভেঙে ফেলার। ভার্চুয়াল জগতের ক্ষণস্থায়ী জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে আমাদের বাস্তব পৃথিবীর রক্ত-মাংসের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আসুন, ক্যামেরার লেন্স বন্ধ করে আগে হৃদয়ের চোখ খুলে দিই। মানুষের বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।কারণ, দিনশেষে মানুষ মানুষের জন্যই। আর এই চিরন্তন সত্য ভুলে গেলে আমাদের অস্তিত্বই একদিন বিপন্ন হয়ে পড়বে।

মনস্তাত্ত্বিক উপনিবেশ ও সাদা চামড়ার প্রটোকল: আত্মমর্যাদার সংকটে বাংলাদেশ?

ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মনোজগতে আজও ‘উপনিবেশিক শাসনের শিকল’ রয়ে গেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন বিদেশি ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে রাষ্ট্রের তিনজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বৈঠককে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রটোকল এবং আত্মমর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য ও ‘ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’, ড. আসিফ মিজান তার বিশ্লেষণে ফ্রান্তজ ফানোর ‘ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস’ গ্রন্থের সূত্র ধরে বলেন, সাদা চামড়ার প্রতি এই অহেতুক ভক্তি মূলত ‘পোস্ট-কলোনিয়াল ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’ বা উপনিবেশিক হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ। একজন জুনিয়র বিদেশি কূটনীতিকের সামনে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের এই অবস্থানকে তিনি ‘মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। [caption id="attachment_26657" align="alignnone" width="300"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption] ভঙ্গ হচ্ছে কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচার, ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন এবং দেশের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ উল্লেখ করে তিনি জানান, একজন দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কূটনীতিক যখন পূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে টেবিলে বসেন, তখন তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। যেখানে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা একজন সচিবের সাক্ষাৎ পেতে হিমশিম খান, সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি জুনিয়র কূটনীতিকদের মন্ত্রী পর্যায়ে সহজলভ্য ‘অ্যাক্সেস’ আমাদের দরকষাকষির সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রটোকল লঙ্ঘনের প্রভাব ও উত্তরণ নিবন্ধে, এই ধরনের চর্চাকে ‘ইনস্টিটিউশনাল ডিভ্যালুয়েশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এর ফলে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিদেশি শক্তিগুলো যথাযথ প্রটোকল মানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। উত্তরণের পথ হিসেবে ড. মিজান ‘ডিকলোনাইজেশন অব মাইন্ড’ বা মানসিক বি-উপনিবেশায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাদা চামড়াকে ভাগ্যবিধাতা ভাবার মাদকতা থেকে বের হতে হবে। সমমর্যাদার নীতি (Principle of Reciprocity) কঠোরভাবে পালন করাই হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা।”

ক্ষমতার বসন্তে নিঃস্ব তৃণমূল: বিএনপির মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। তবে ক্ষমতার এই মধুচন্দ্রিমার আড়ালে দলের মূল চালিকাশক্তি—তৃণমূল নেতাকর্মীরা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটে নিমজ্জিত। সম্প্রতি এক নিবন্ধে এমন চাঞ্চল্যকর ও গঠনমূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। ড. আসিফ মিজান তাঁর বিশ্লেষণে টেড রবার্ট গারের ‘আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৫ বছর যারা জেল-জুলুম ও পদ্ধতিগত নিপীড়নে নিঃস্ব হয়েছেন, আজ ক্ষমতার সুফল যখন ‘বসন্তের কোকিল’ বা সুবিধাভোগীদের হাতে পুঞ্জীভূত হতে দেখছেন, তখন সেই ক্ষোভ বিদ্রোহের দিকে মোড় নিতে পারে। ত্যাগী কর্মীদের ‘রাজনৈতিক পুঁজি’ আজ কিছু নেতার ‘আর্থিক পুঁজি’র কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যা দলে এক নতুন ‘রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র’ তৈরি করছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে অনুপ্রবেশকারীদের দাপট এখনো বিদ্যমান। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর এবং স্থানীয় দলীয় কাঠামোতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনকে রাজপথের কর্মীরা ‘আদর্শিক বেইমানি’ হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলো মূলত হাইব্রিডদের দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এক অলিখিত যুদ্ধ। টেকসই শাসন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয় সুসংহত করতে ড. আসিফ মিজান চারটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন: ১. কঠোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: বিতর্কিত ও চাঁদাবাজদের দমনে বিশেষ ‘ইনভেস্টিগেশন সেল’ গঠন। ২. আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র: পকেট কমিটি প্রথা ভেঙে স্বচ্ছ পারফরম্যান্স রিভিউয়ের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন। ৩. জাতীয় বীরদের পুনর্বাসন: গুম-খুন ও পঙ্গুত্ব বরণকারী পরিবারগুলোর জন্য ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ নিশ্চিত করা। ৪. জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি: ড্রয়িংরুম রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম তৈরি। লেখক সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যে দল দুর্দিনের কাণ্ডারিদের অবমূল্যায়ন করে, ক্ষমতার উত্তাপে তার ভিত্তি দ্রুত শিথিল হয়ে যায়। বিএনপির ক্ষমতার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থার ওপর। হাইব্রিডদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে মাঠের প্রকৃত যোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়াই হবে দীর্ঘমেয়াদী সুশাসনের চাবিকাঠি।

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ মে ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপনি কি জুলাই সনদের পক্ষে?

আপনি কি জুলাই সনদের পক্ষে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

পুরুষের শুক্রাণু বাড়াতে কার্যকরী ২০টি সুপারফুড

চুল পড়া কমবে ঘরোয়া উপায়ে: প্রাকৃতিক যত্নে ফিরিয়ে আনুন চুলের স্বাস্থ্য

ইয়াবা সেবন করে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার কথা স্বীকার ঘাতক সোহেলের

লালমনিরহাটে ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে নদীতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

ভূমিকম্প : ছোট ছোট কম্পন বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা!

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়: ড. আসিফ মিজানের অভিনন্দন

মুকসুদপুরে নিখোঁজের ৫ দিন পর ইজিবাইকচালকের মরদেহ উদ্ধার

সনদসর্বস্ব শিক্ষার বৃত্ত ভেঙে: লক্ষ্য হোক সুপ্ত প্রতিভার উন্মেষ ও মানুষ গঠন

হীরক জয়ন্তী উদযাপনে প্রস্তুতি শুরু, মিঠাপুর বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভা

১০

আছিয়া থেকে রামিসা: বিচারহীনতার রাজনীতি আর কতদিন?

জনপ্রিয় সব খবর

শারজাহে নিখোঁজ দুই কাজাখ বোনের মরদেহ উদ্ধার

নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভিসি ড. আসিফ মিজানের শুভেচ্ছা

জনবান্ধব কাজ করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ভোলাহাট সীমান্তে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক, হেরোইন-ইয়াবা জব্দ

সোনামসজিদ আইসিপিতে ৫৯ বিজিবির অভিযান,ভারতীয় পণ্য জব্দ

নারায়ণগঞ্জ ভূমি অফিসে আগাম হাজিরা, ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী

মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার আত্মপ্রকাশ, সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সম্পাদক রবি

১০

দুবাইয়ের আল মিনহাদ এয়ারবেসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ভিত্তিহীন

সর্বশেষ সব খবর

সারাদেশ

মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার আত্মপ্রকাশ, সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সম্পাদক রবি

মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম ঢাকার আত্মপ্রকাশ, সভাপতি শাহীনুর ইসলাম, সম্পাদক রবি

রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় কর্মরত মাগুরা জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’-এর আত্মপ্রকাশ হয়েছে।নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিক শাহীনুর ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন এটিএন নিউজের রবিউল ইসলাম রবি।আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ঢাকায় কর্মরত মাগুরা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ ও পেশাজীবী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম।বক্তারা ঢাকায় কর্মরত মাগুরার সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং জেলার সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।নবগঠিত মাগুরা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা ঢাকায় কর্মরত মাগুরা জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ, ঐক্য ও পেশাগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শব্দ ও বায়ুদূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ১১ হাজার টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শব্দ ও বায়ুদূষণবিরোধী মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ১১ হাজার টাকা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় অনুমোদিত মাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী ৮টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী মহাসড়কের দ্বারিয়াপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।অভিযানে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এর ৬(২) ধারা লঙ্ঘন করে যানবাহনে অনুমোদিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় চারটি ট্রাক ও দুটি বাসের চালক/প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে আটটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী অনাবৃত অবস্থায় পরিবহনের দায়ে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী আরও ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।মোবাইল কোর্টে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ চন্দ্র। প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ।অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।অভিযানকালে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে শব্দদূষণবিরোধী স্টিকারও সাঁটানো হয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ জানান, জনস্বার্থে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শিবগঞ্জে ৫৯ বিজিবির বিশেষ অভিযান, চিহ্নিত মাদক কারবারি আটক

শিবগঞ্জে ৫৯ বিজিবির বিশেষ অভিযান, চিহ্নিত মাদক কারবারি আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২২ পুরিয়া গাঁজা ও একটি বাইসাইকেলসহ মো. তুহিন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেলকুপি বিওপির একটি বিশেষ টহল দল এ অভিযান পরিচালনা করে। শিবগঞ্জ উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের তেলকুপি গ্রামের পাকা রাস্তায়, সীমান্ত পিলার ১৮০/৮-এস থেকে আনুমানিক দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।আটক মো. তুহিন শিবগঞ্জ উপজেলার তেলকুপি গ্রামের মৃত মুজাফরের ছেলে। বিজিবি সূত্রের দাবি, তিনি একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি এবং ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে গাঁজা এনে বাংলাদেশে বিক্রি করতেন।অভিযানে তার কাছ থেকে ২২ পুরিয়া গাঁজা, যার মোট ওজন ৯ গ্রাম, এবং একটি বাইসাইকেল জব্দ করা হয়।মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নড়াইলে বিএনপির যৌথ প্রস্তুতি সভা

নড়াইলে বিএনপির যৌথ প্রস্তুতি সভা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সফল করতে নড়াইল জেলা বিএনপির উদ্যোগে যৌথ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নড়াইল শহরের চৌরাস্তা এলাকায় জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি ও নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার ইজাজুল হাসান বাবু।সভায় আগামী ১লা সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি সফল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মসূচির শুরুতে ভোরে জেলা ও উপজেলার দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এরপর নড়াইল জেলা সদরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দেশ ও দলের কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।প্রস্তুতি সভায় নড়াইল জেলা পরিষদ প্রশাসক ও নড়াইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আলেক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক টিপু সুলতান, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জুলফিকার মন্ডল, সাবেক সহ-সভাপতি আসাদুজ্জামান, সাবেক সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আলী হাসান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রিজভী জর্জ, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম আব্দুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুর রহমান পলাশ, নড়াইল পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি তেলায়েত হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার ফশিয়ার রহমান,জেলা যুবদলের সভাপতি মশিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক শায়দাত কবীর রুবেল, জেলা ছাত্রদলের আহŸায়ক খন্দকার মাহমুদুল হাসান সনি, সদস্য সচিব মামুন গাজী, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ফরিদ বিশ্বাসসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়া সভায় জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি এবং যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদল ও মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।#

আন্তর্জাতিক

শারজাহে নিখোঁজ দুই কাজাখ বোনের মরদেহ উদ্ধার

শারজাহে নিখোঁজ দুই কাজাখ বোনের মরদেহ উদ্ধার

শারজাহে নিখোঁজ দুই কাজাখ বোনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।২০ ও ২২ বছর বয়সী ওই দুই বোন এক বছরেরও কম সময় আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এসে বসবাস ও কাজ শুরু করেছিলেন।নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর শারজাহ পুলিশ তদন্ত ও অনুসন্ধান শুরু করে। পরে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, দুই বোনের সঙ্গে এক রুশভাষী কাজাখ ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল এবং তিনি তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টও মুছে ফেলা হয়েছিল বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শারজাহ পুলিশ।গত ২৮ আগস্ট দুই বোনের মরদেহ কাজাখস্তানে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কাজাখ কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করেছে শারজাহ পুলিশ।নজর বিডি | Nazar BDসংযুক্ত আরব আমিরাত

১১ ঘন্টা আগে

রাজধানী

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫ কেজি কুশসহ ২ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

শাহজালাল বিমানবন্দরে ৫ কেজি কুশসহ ২ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা আবদুল রহমান (৪৬) ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারি (৪৫)।বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে বিমানবন্দরের নিচতলার আগমনী হলের গ্রিন চ্যানেল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। বিমানবন্দর সার্কেলের পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।ডিএনসি সূত্র জানায়, ব্যাংকক থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজের (টিজি-৩২১) একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় অবতরণ করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর সহকারী পরিচালক ড. মো. আবু সাঈদ মিয়ার নেতৃত্বে একটি দল আগে থেকেই গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তাদের আটকের পর সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের উপস্থিতিতে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে কাপড়ের নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশ উদ্ধার করা হয়।অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২টি ভারতীয় পাসপোর্ট, ৫০০ মার্কিন ডলার, ১০ হাজার ভারতীয় রুপি, ৩টি স্মার্টফোন এবং ২টি বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়।এ বিষয়ে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানায়, পরিদর্শক শাহরিয়া শারমিন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এ একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

২৮ আগস্ট ২০২৬

রাজনীতি সংবাদ

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: তুরাগবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: তুরাগবাসীকে আব্দুর রহমান বুলুর শুভেচ্ছা

অভিযানে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এর ৬(২) ধারা লঙ্ঘন করে যানবাহনে অনুমোদিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করায় চারটি ট্রাক ও দুটি বাসের চালক/প্রতিনিধির বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে আটটি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রী অনাবৃত অবস্থায় পরিবহনের দায়ে বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী আরও ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।মোবাইল কোর্টে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ চন্দ্র। প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ।অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেন।অভিযানকালে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন যানবাহনে শব্দদূষণবিরোধী স্টিকারও সাঁটানো হয়।পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু সাঈদ জানান, জনস্বার্থে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ও মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বিএনপির দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন ইমন হোসেন মনির

বিএনপির দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন ইমন হোসেন মনির

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মো. মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ভূমিকা রাখছেন তুরাগ থানা ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের রানাভোলা ইউনিট বিএনপির সভাপতি এবং তুরাগ থানা আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদের সভাপতি মো. ইমন হোসেন মনির।বিএনপির দুঃসময়ে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে ইমন হোসেন মনির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। ওই সময়ে কোনো সভা-সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর নিরাপদে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা ছিল না। অনেক নেতাকর্মী সভা-সমাবেশে গিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।তিনি বলেন, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কোনো সভা-সমাবেশ বা মিছিল বাদ দেননি। বরাবরই সামনের সারিতে থেকে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। মৃত্যুকে কখনো ভয় করেননি। বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে—এটা জেনেও কোনো ধরনের ভয় না করে রাজপথে থেকেছেন এবং প্রতিটি সভা-সমাবেশ সফল করতে ভূমিকা রেখেছেন।ইমন হোসেন মনির বলেন, “আমি নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত বিএনপি কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছি। আমার রাজনৈতিক অভিভাবক হাজী মো. মোস্তফা জামান ভাইয়ের হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা। যতদিন রাজনীতি করব, ততদিন তার পাশে থেকে, তার হাত ধরেই রাজনীতি করে যাব—ইনশাআল্লাহ।”নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও জানতে ‘ঢাকা উত্তর বিএনপি সমর্থক’ নামের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডিটি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি। সেখানে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলেও জানান ইমন হোসেন মনির।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা উৎসাহের সঙ্গে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। ফরম বিক্রিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন কার্যালয় এলাকায় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।প্রার্থীরা নিজ নিজ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন। এ সময় প্রার্থী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন কার্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোন্নাফ মুকুল বলেন, “দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ থাকবে না।”তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা অনুসরণ করে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সকল প্রার্থী ও ভোটারের সহযোগিতায় একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।

দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি

ডুমুরিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে বিশাল প্রস্তুতি সভা

আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে খুলনার ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপি’র উদ্যোগে এক বিশাল প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটায় উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল আজিজ মোড়লের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ ফরহাদ হোসেন। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা মশিউর রহমান।প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ ফরহাদ হোসেন বলেন, "আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপি আজ যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুসংগঠিত। নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণ বিএনপির সঙ্গেই রয়েছে। পহেলা সেপ্টেম্বরের প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে আমরা সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও জনগণকে একসূত্রে গাঁথতে চাই।"প্রধান বক্তা মোল্লা মশিউর রহমান বলেন, "যুবদল সর্বদা রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। পহেলা সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে ঐতিহাসিক রূপ দিতে যুবদল ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধভাবে সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।"সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আজিজ মোড়ল বলেন, "তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে শক্তিশালী করে পহেলা সেপ্টেম্বরের প্রতিটি কর্মসূচিকে বর্ণাঢ্য ও সাফল্যমণ্ডিত করতে সদর ইউনিয়নের সর্বস্তরের নেতাকর্মী প্রস্তুত রয়েছে।"সভায় অন্যান্যের মধ্যে শেখ ফরিদ হোসেন, হাফেজ মতিউর রহমান, মোল্লা মনিরুল ইসলাম, ওলিয়ার রহমান খান, নজরুল ইসলাম হালদার, সোরাব হোসেন, শেখ আব্দুল খালেকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষান্তে উপস্থিত সব নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সকল কর্মসূচি সফল করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ডুমুরিয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে বিশাল প্রস্তুতি সভা

হরমুজ প্রণালিতে সব মাইন সরানোর দাবি ট্রাম্পের, নতুন করে মাইন বসালে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব মাইন বিস্ফোরিত করে ধ্বংস অথবা সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, নতুন করে কোনো জাহাজ বা নৌযান থেকে মাইন পাতা হলে সেটি ধ্বংস করা হবে।মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স হরমুজ প্রণালির ‘প্রতিটি বর্গইঞ্চি’ পর্যবেক্ষণ করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে মাইন পাতা ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে বলেও জানান তিনি।হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক বাহিনী পরস্পরের ওপর বিমান হামলা না চালালেও প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশই কৌশলগত এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছে।জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে এই পরিমাণ ছিল দৈনিক ২ কোটি ব্যারেলেরও বেশি। অর্থাৎ বর্তমানে বৈশ্বিকভাবে ব্যবহৃত প্রতি পাঁচ ব্যারেল তেলের মধ্যে প্রায় এক ব্যারেলের সমপরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন হচ্ছে।হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে সব মাইন সরানোর দাবি ট্রাম্পের, নতুন করে মাইন বসালে ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

জামায়াত আমিরের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স) জাওয়াদ আজাউই এবং সিনিয়র পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার লুবাইন চৌধুরী মাসুম উপস্থিত ছিলেন।বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতায় নেদারল্যান্ডস সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত সংসদে বিরোধী দলের গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রদূতকে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন গ্রাফিতি ঘুরে দেখান।এ সময় বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

জামায়াত আমিরের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

অর্থনীতি

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

কৃষি,সাক্ষাৎকার

সমন্বিত খামারে যুবক রাহুলের বাজিমাত, বছরে আয় ১৫-২০ লাখ টাকা

সমন্বিত খামারে যুবক রাহুলের বাজিমাত, বছরে আয় ১৫-২০ লাখ টাকা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বান্দা গ্রামে সমন্বিত কৃষি ও মৎস্য খামার গড়ে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস। রঙিন সৌখিন মাছের পোনা উৎপাদন, উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষ, বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন এবং পশুপাখি পালন—সব মিলিয়ে তাঁর ‘বিশ্বাস এগ্রো প্রজেক্ট ও মৎস্য হ্যাচারি’ এখন এলাকার অন্যতম আলোচিত কৃষি উদ্যোগ। এসব কার্যক্রম থেকে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা করছেন তিনি।ডুমুরিয়া সদর থেকে পিচঢালা সড়ক ধরে প্রায় চার কিলোমিটার এগোলেই চোখে পড়ে ছায়া-সুনিবিড় বান্দা গ্রাম। রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে রাহুলের সমন্বিত কৃষি ও মৎস্য প্রকল্প। খামারে ঢুকতেই দেখা যায় নানা রঙ ও আকৃতির সৌখিন মাছের পোনা উৎপাদনের ব্যস্ততা।হ্যাচারির অফিসের সামনে গিয়ে এক শিক্ষার্থীকে সাদা, কালো, হলুদ ও কমলা রঙের সৌখিন মাছের জোড়া কিনতে দেখা যায়। প্রিয় বন্ধুকে উপহার দেওয়ার জন্য মাছ কিনতে এসেছেন তিনি। রাহুলের হাসিমুখে আতিথেয়তা ও সুলভ মূল্যে মাছ বিক্রির বিষয়টিও নজর কাড়ে।কৃষি কলেজে পড়াশোনার সময় থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় রাহুল বিশ্বাসের। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফলতা পাওয়ার পর অ্যাকুরিয়ামের সৌখিন মাছের ব্যাপক চাহিদা তাঁকে নতুন করে ভাবায়। প্রায় দুই বছর আগে তিনি বাণিজ্যিকভাবে অর্নামেন্টাল ফিশ বা সৌখিন মাছ চাষের উদ্যোগ নেন।গত বছর তিনটি হাউস, আধুনিক পানির পাম্প ও ছয়টি পুকুর নিয়ে গড়ে তোলেন বিশেষায়িত সৌখিন মাছের হ্যাচারি। বর্তমানে সেখানে মলি, মুন্টেল, কমেন্ট, শেখ পোলার, অ্যাঞ্জেল, গাপ্পি, গোল্ডফিশ, কৈ-কার্প, বাটারফ্লাই ও টেট্রাসহ প্রায় ২০টি প্রজাতির রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন হচ্ছে।খুলনার খালিশপুর থেকে ঢাকার কাটাবন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা নিয়মিত তাঁর কাছ থেকে মাছ সংগ্রহ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার এলে অক্সিজেন প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে নিরাপদে মাছ পাঠানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। জাতভেদে এসব সৌখিন মাছ প্রতি জোড়া বা পিস ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।রাহুল বিশ্বাস জানান, সৌখিন মাছের বাজার সারা বছরই সচল থাকে। তবে তাঁর উদ্যোগ শুধু রঙিন মাছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পারিবারিক ১৬ বিঘা জমির ওপর রয়েছে মোট নয়টি বড় পুকুর। এর মধ্যে আটটিতে আধুনিক প্রযুক্তিতে শুধু পুরুষ জাতের (অল-মেল) গলদা এবং একটি পুকুরে ‘সিপি’ আধুনিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন তিনি।পুকুরের পাড় ও আইলে চাষ করা হচ্ছে শসা, বরবটি, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের বিষমুক্ত সবজি। পাশাপাশি প্রকল্পে রয়েছে গরুর প্রজনন কেন্দ্র, উন্নত বিদেশি জাতের কুকুর পালন এবং বাড়ির ছাদে বাহারি জাতের কবুতর প্রজনন ও বিপণন কেন্দ্র।নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে তরুণ উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস বলেন, “আমার এই খামারে বর্তমানে ছয়জন নিয়মিত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে আমিও সার্বক্ষণিক শ্রম দিই। সব ধরনের আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা থাকে।”রাহুলের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। ডুমুরিয়ার সফল গলদা-বাগদা চাষি ও কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ মণ্ডল বলেন, “রঙিন মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও বাণিজ্যিক বিপণনে রাহুল যে উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, তা এই অঞ্চলের বেকার যুবকদের জন্য অনুকরণীয়। চিংড়ি ও সবজি চাষেও তিনি দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন।”ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রিগ্যান বলেন, “চিংড়ি প্রধান ডুমুরিয়ায় সৌখিন রঙিন মাছ চাষের ধারণাটি বেশ সম্ভাবনাময়। রাহুল বিশ্বাস যেভাবে পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল-মেল গলদা ও রঙিন মাছের সমন্বিত চাষ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা তাঁর মতো উদীয়মান উদ্যোক্তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত কৃষি ও মৎস্য চাষের পাশাপাশি নতুন ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে রাহুল বিশ্বাস শুধু নিজেই স্বাবলম্বী হননি, বরং অন্য তরুণদের জন্যও তৈরি করেছেন আত্মকর্মসংস্থানের অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন