নজর বিডি
সর্বশেষ

জাতীয়

মতামতমতামত

মনস্তাত্ত্বিক উপনিবেশ ও সাদা চামড়ার প্রটোকল: আত্মমর্যাদার সংকটে বাংলাদেশ?

ব্রিটিশ শাসন শেষ হওয়ার সাত দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মনোজগতে আজও ‘উপনিবেশিক শাসনের শিকল’ রয়ে গেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একজন বিদেশি ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে রাষ্ট্রের তিনজন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার বৈঠককে কেন্দ্র করে জাতীয় প্রটোকল এবং আত্মমর্যাদার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য ও ‘ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’, ড. আসিফ মিজান তার বিশ্লেষণে ফ্রান্তজ ফানোর ‘ব্ল্যাক স্কিন, হোয়াইট মাস্কস’ গ্রন্থের সূত্র ধরে বলেন, সাদা চামড়ার প্রতি এই অহেতুক ভক্তি মূলত ‘পোস্ট-কলোনিয়াল ইনফিওরিটি কমপ্লেক্স’ বা উপনিবেশিক হীনম্মন্যতার বহিঃপ্রকাশ। একজন জুনিয়র বিদেশি কূটনীতিকের সামনে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের এই অবস্থানকে তিনি ‘মনস্তাত্ত্বিক দৈন্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। [caption id="attachment_26657" align="alignnone" width="300"] ছবি: নজরবিডি.কম[/caption] ভঙ্গ হচ্ছে কূটনৈতিক রাষ্ট্রাচার, ১৯৬১ সালের ভিয়েনা কনভেনশন এবং দেশের ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ উল্লেখ করে তিনি জানান, একজন দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির কূটনীতিক যখন পূর্ণ মন্ত্রীদের সঙ্গে টেবিলে বসেন, তখন তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম লঙ্ঘন। যেখানে বিদেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা একজন সচিবের সাক্ষাৎ পেতে হিমশিম খান, সেখানে বাংলাদেশে বিদেশি জুনিয়র কূটনীতিকদের মন্ত্রী পর্যায়ে সহজলভ্য ‘অ্যাক্সেস’ আমাদের দরকষাকষির সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রটোকল লঙ্ঘনের প্রভাব ও উত্তরণ নিবন্ধে, এই ধরনের চর্চাকে ‘ইনস্টিটিউশনাল ডিভ্যালুয়েশন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এর ফলে প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিদেশি শক্তিগুলো যথাযথ প্রটোকল মানার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে না। উত্তরণের পথ হিসেবে ড. মিজান ‘ডিকলোনাইজেশন অব মাইন্ড’ বা মানসিক বি-উপনিবেশায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সাদা চামড়াকে ভাগ্যবিধাতা ভাবার মাদকতা থেকে বের হতে হবে। সমমর্যাদার নীতি (Principle of Reciprocity) কঠোরভাবে পালন করাই হবে সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা।”

ক্ষমতার বসন্তে নিঃস্ব তৃণমূল: বিএনপির মনস্তাত্ত্বিক সংকট ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। তবে ক্ষমতার এই মধুচন্দ্রিমার আড়ালে দলের মূল চালিকাশক্তি—তৃণমূল নেতাকর্মীরা এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক সংকটে নিমজ্জিত। সম্প্রতি এক নিবন্ধে এমন চাঞ্চল্যকর ও গঠনমূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। ড. আসিফ মিজান তাঁর বিশ্লেষণে টেড রবার্ট গারের ‘আপেক্ষিক বঞ্চনাবোধ’ তত্ত্বের উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৫ বছর যারা জেল-জুলুম ও পদ্ধতিগত নিপীড়নে নিঃস্ব হয়েছেন, আজ ক্ষমতার সুফল যখন ‘বসন্তের কোকিল’ বা সুবিধাভোগীদের হাতে পুঞ্জীভূত হতে দেখছেন, তখন সেই ক্ষোভ বিদ্রোহের দিকে মোড় নিতে পারে। ত্যাগী কর্মীদের ‘রাজনৈতিক পুঁজি’ আজ কিছু নেতার ‘আর্থিক পুঁজি’র কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে, যা দলে এক নতুন ‘রাজনৈতিক অভিজাততন্ত্র’ তৈরি করছে। নিবন্ধে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে অনুপ্রবেশকারীদের দাপট এখনো বিদ্যমান। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর এবং স্থানীয় দলীয় কাঠামোতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনকে রাজপথের কর্মীরা ‘আদর্শিক বেইমানি’ হিসেবে দেখছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ কোন্দলগুলো মূলত হাইব্রিডদের দখদারিত্বের বিরুদ্ধে তৃণমূলের এক অলিখিত যুদ্ধ। টেকসই শাসন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিজয় সুসংহত করতে ড. আসিফ মিজান চারটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন: ১. কঠোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান: বিতর্কিত ও চাঁদাবাজদের দমনে বিশেষ ‘ইনভেস্টিগেশন সেল’ গঠন। ২. আভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র: পকেট কমিটি প্রথা ভেঙে স্বচ্ছ পারফরম্যান্স রিভিউয়ের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন। ৩. জাতীয় বীরদের পুনর্বাসন: গুম-খুন ও পঙ্গুত্ব বরণকারী পরিবারগুলোর জন্য ‘সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী’ নিশ্চিত করা। ৪. জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি: ড্রয়িংরুম রাজনীতি ছেড়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের তৃণমূলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম তৈরি। লেখক সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যে দল দুর্দিনের কাণ্ডারিদের অবমূল্যায়ন করে, ক্ষমতার উত্তাপে তার ভিত্তি দ্রুত শিথিল হয়ে যায়। বিএনপির ক্ষমতার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে তৃণমূলের স্বতঃস্ফূর্ত আস্থার ওপর। হাইব্রিডদের ঝেঁটিয়ে বিদায় করে মাঠের প্রকৃত যোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়াই হবে দীর্ঘমেয়াদী সুশাসনের চাবিকাঠি।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অনুদান ও শ্রমিকের প্রতি অবজ্ঞা: তদন্তের দাবি ড. আসিফ মিজানের

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এবং এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ কর্তৃক গ্রহণ করা সরকারি-বেসরকারি অনুদানের অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। সোমালিয়ার দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভাইস চ্যান্সেলর অভিযোগ করেছেন, আলোকিত মানুষ গড়ার নাম করে মূলত একটি বিশেষ 'এলিট' শ্রেণির বিকাশ ঘটানো হচ্ছে, যেখানে মেহনতি মানুষের কোনো স্থান নেই। এক বিবৃতিতে ড. আসিফ মিজান বলেন, "আমরা জানতাম না যে স্যার (আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ) সরকার থেকে কোটি কোটি টাকা অনুদান নিয়ে কেবল উচ্চবিত্ত বা এলিট শ্রেণির শহুরে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। জনকল্যাণ ও শিক্ষার প্রসারের নামে প্রাপ্ত এই বিপুল অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।" বিবৃতিতে তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের আচরণ নিয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের পুরনো একটি বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান। যেখানে আবু সায়ীদ বলেছিলেন, বিমানে শ্রমিকদের আচরণ দেখে মনে হয় না তারা সভ্য জগতের সাথে পরিচিত। এই মন্তব্যের সমালোচনা করে ড. আসিফ মিজান বলেন, "আমাদের অর্থনীতির প্রাণভোমরা শ্রমিক শ্রেণির প্রতি তাঁর এই তীব্র ক্ষোভ আমাদের ব্যথিত করে। এই প্রবাসী শ্রমিকদের তো আর আপনার ‘বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র’ থেকে বই নিয়ে তথাকথিত বিড়ালতপস্বী হওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। তাই বলে কি তাদের আপনি অসভ্য বা রুচিহীন বলবেন?" তিনি আরও বলেন, "আলোকিত মানুষ হওয়ার প্রথম শর্তই হলো মানুষকে মর্যাদা দিতে শেখা। রাষ্ট্রীয় অনুদান নিয়ে একশ্রেণির মানুষকে আলোকিত করবেন আর মূল কারিগর শ্রমিকদের অবজ্ঞা করবেন—তা হতে পারে না। এই অর্থের বণ্টন এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে উচ্চতর তদন্ত এখন সময়ের দাবি।" ড. মিজান সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানান।

রাজনীতি, নীতি-আদর্শের সেবা নাকি পকেট ভরার হাতিয়ার?

রাজনীতি মানেই নীতি ও আদর্শ" এই ধ্রুব সত্যটি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। "রাজনীতি মানেই নীতি ও আদর্শ" এই ধ্রুব সত্যটি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও জনকল্যাণের মহান ব্রত নিয়ে রাজনীতির যাত্রা শুরু হলেও, একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে অনেক ক্ষেত্রে রাজনীতি পরিণত হয়েছে ব্যক্তিগত আখের গোছানোর হাতিয়ারে। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় সর্বত্রই এখন প্রশ্ন উঠছে: রাজনীতি কি আসলেও জনসেবা, নাকি দ্রুত বিত্তবান হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় রাজনীতি হলো জনগণের অধিকার নিশ্চিত করার একটি পবিত্র প্রক্রিয়া। একজন জনপ্রতিনিধি যখন কয়েক হাজার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হন, তখন তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং হাজারো পরিবারের আশা-আকাঙ্ক্ষার ‘আমানতদার’। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, সেই আমানত রক্ষার চেয়ে ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনই অনেকের কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসেবার আড়ালে সিন্ডিকেট তৈরি, টেন্ডারবাজি এবং খাস জমি দখলের মতো অভিযোগগুলো এখন আর গোপন কোনো বিষয় নয়। একটি বিপজ্জনক প্রবণতা,রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে এক শ্রেণির মানুষের কাছে রাজনীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘বিনিয়োগের মাধ্যম’। নির্বাচনের আগে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয় মূলত পরে তার বহুগুণ উসুল করার লক্ষ্য নিয়ে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ যখন জনকল্যাণে ব্যয় না হয়ে প্রভাবশালী নেতাদের পকেটে যায়, তখন রাজনীতির মূল ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এই ‘ব্যবসায়িকীকরণ’ কেবল নৈতিক অবক্ষয়ই ঘটাচ্ছে না, বরং সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতি থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। পেশিশক্তি ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ, রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হওয়ার কথা ছিল সহনশীলতা এবং ন্যায়ের পক্ষে আপসহীন অবস্থান। অথচ বাস্তবতা হলো, সাধারণ মানুষ যখন তাদের ন্যায্য অধিকার বা সুশাসনের দাবি তোলে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই পেশিশক্তি বা প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এটি গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। ইতিহাসের শিক্ষা ও গণজাগরণ, ইতিহাস সাক্ষী দেয়, বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই অধিকার সচেতন। তারা সাময়িকভাবে নীরব থাকলেও যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন ব্যালট মাধ্যমে জবাব দিতে ভুল করে না। বিগত বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন প্রমাণ করেছে যে, জনগণের ভালোবাসা ছাড়া কেবল ক্ষমতার জোরে টিকে থাকা অসম্ভব। যারা ভোটারদের তুচ্ছজ্ঞান করেছেন, সময় তাদের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করতে দ্বিধা করেনি। আদর্শিক রাজনীতির প্রত্যাবর্তন জরুরি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সচেতন নাগরিকদের দাবি—রাজনীতিকে শখের বিষয় বা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার সিঁড়ি বানানো বন্ধ করতে হবে। রাজনীতির মঞ্চে এখন এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন যারা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে স্থান দেবেন। দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়াবেন। ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু না ভেবে পবিত্র ‘আমানত’ মনে করবেন। পরিশেষে, রাজনীতি না বুঝে বা নীতি বিসর্জন দিয়ে যারা ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখেন, তাদের সমাজ থেকে বর্জন করার সময় এসেছে। যে রাজনীতি মানুষের চোখে জল আনে, তা কখনোই টেকসই হতে পারে না। প্রকৃত রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ বিলাসবহুল গাড়ি-বাড়ি নয়, বরং সাধারণ মানুষের নিঃস্বার্থ দোয়া ও ভালোবাসা। বাংলাদেশের আগামীর রাজনীতি হোক নীতি-আদর্শের, পেশিশক্তির নয়—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

সময় কম কিন্তু প্রভাব অনেক

২ মিনিটের ট্রেন যাত্রাবিরতি, মুকসুদপুরে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সম্ভাবনা গোপালগঞ্জ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের দুই মিনিটের যাত্রাবিরতি চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে এলাকায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সময়ের দিক থেকে সংক্ষিপ্ত হলেও এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের নিয়মিত যাত্রাবিরতি চালু হওয়া মানে সেখানে একটি ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে ওঠার ভিত্তি তৈরি হওয়া। মুকসুদপুর স্টেশনেও তার ব্যতিক্রম হবে না। যাত্রী ওঠানামা শুরু হলে স্টেশনকেন্দ্রিক চা-স্টল, রেস্টুরেন্ট, ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসা দ্রুত বিস্তার লাভ করবে। এতে স্বল্প পুঁজি নিয়ে নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা তৈরি করবে। অন্যদিকে, এই যাত্রাবিরতি স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। এতদিন আন্তঃনগর ট্রেন ধরতে যাত্রীদের গোপালগঞ্জ সদর, ফরিদপুর বা পার্শ্ববর্তী জেলায় যেতে হতো। এতে অতিরিক্ত সময় ও পরিবহন ব্যয় বহন করতে হতো। এখন মুকসুদপুর থেকেই সরাসরি ট্রেনে ওঠার সুযোগ তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের সময় ও অর্থ—উভয়েরই সাশ্রয় হবে। অর্থনীতির ভাষায়, এটি ব্যক্তিগত সঞ্চয় বৃদ্ধি এবং ভোগব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়াবে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে শ্রমবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মুকসুদপুরের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এখন ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে সহজে যাতায়াত করতে পারবে, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ করবে। অনেক ক্ষেত্রে দৈনিক বা সাপ্তাহিক যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হওয়ায় গ্রামীণ এলাকার মানুষের শহরমুখী স্থায়ী অভিবাসনের চাপও কিছুটা কমতে পারে। এর ফলে গ্রাম ও শহরের মধ্যে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে। কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলের জন্য ট্রেন যাত্রাবিরতি একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহনের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষিপণ্য ঢাকাসহ বড় বাজারে পাঠানো সহজ হবে। বিশেষ করে শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এমন পণ্যের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবহন সময় কমে গেলে পণ্যের গুণগত মান বজায় থাকবে এবং কৃষকরা ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সাধারণত রিয়েল এস্টেট খাতকে সক্রিয় করে তোলে। মুকসুদপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জমির চাহিদা বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। নতুন আবাসন প্রকল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং গুদাম বা স্টোরেজ সুবিধা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি আধা-নগরায়িত অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি হতে পারে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে। যোগাযোগ সুবিধা বাড়লে নতুন ব্যবসা শুরু করা, পণ্য সরবরাহ করা এবং বাজার সম্প্রসারণ করা সহজ হয়। ফলে পরিবহন, আবাসন, খাদ্যসেবা ও খুচরা ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বহুগুণক প্রভাব সৃষ্টি করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। স্টেশন এলাকায় যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা, সড়ক যোগাযোগ এবং পণ্য পরিবহনের সুবিধা বাড়াতে না পারলে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না। এছাড়া আরও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করা গেলে এর প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এই অর্জনের পেছনে মূল কৃতিত্ব স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিমের। মুকসুদপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি রেলমন্ত্রীর নজরে আনেন। সেলিমুজ্জামান এর কার্যকর পদক্ষেপের ফলেই রেল মন্ত্রণালয় ঢাকা–বেনাপোল রুটে চলাচলকারী আন্তঃনগর ‘রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের মুকসুদপুরে ২ মিনিটের যাত্রাবিরতির অনুমোদন দেয়। স্থানীয় জনগণের প্রতি তাঁর এই দায়বদ্ধতা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দৃঢ়তা মুকসুদপুরের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। যদিও সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম এখানেই থেমে থাকতে চান না, তিনি ইতিমধ্যে খুলনা–ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘জাহানাবাদ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানোনোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যা এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বর্তমানে মাত্র দুই মিনিটের যাত্রাবিরতি থাকায় বড় আকারে পণ্য ওঠানামা বা লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা কিছুটা সীমিত থাকবে। তবে এটি ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে, মুকসুদপুরে আন্তঃনগর ট্রেনের এই যাত্রাবিরতি শুধু একটি পরিবহন সুবিধা নয়; এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক রূপান্তরের সূচনা। যথাযথ পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই ছোট উদ্যোগই ভবিষ্যতে বৃহৎ আঞ্চলিক উন্নয়নের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠতে পারে। সভাপতি, মুকসুদপুর প্রেসক্লাব।

মুকসুদপুর প্রেসক্লাব সভাপতির পক্ষ থেকে উপজেলাবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা

বাংলাদেশ প্রকাশ: সুমাইয়া নূর প্রভা (স্টাফ রিপোর্টার) গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ছিরু মিয়া, গোপালগঞ্জ - ১ আসনের মেম্বার অব পার্লামেন্ট সেলিমুজ্জামান সেলিমের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মুকসুদপুর উপজেলাবাসীসহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।   এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে অনাবিল আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা। এই পবিত্র দিনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   উল্লেখ্য মো: ছিরু মিয়া বাংলাদেশের প্রথম সারির পত্রিকা- যায়যায়দিন, খবর,ঢাকা ট্রিবিয়ন এবং নজরবিডি ডট কমের মতো গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় নিয়মিত কাজ করে আসছেন, এছাড়াও তিনি গোপিনাথপুর (পশ্চিম পাড়া ),দারুল উলূম (সু-গ-ম) নূরানীয়া হাফিজয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার আজীবন সদস্য, (সাধারণ সদস্য ও জীবন সদস্য),মুকসুদপুর উপেজলা শিল্পকলা একাডেমি। পাশাপাশি তিনি মুকসুদপুর পৌরসভার একজন ১ম শ্রেনীর ঠিকাদার। মোঃ ছিরু মিয়া আরও বলেন, সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ঈদের শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়বে এবং একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করবে।   তিনি মুকসুদপুর উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও শান্তি কামনা করে সকলের সুস্বাস্থ্য, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানান।   শেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনা সহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বলেন, “পবিত্র ঈদুল ফিতর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি।”

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব ও সরকারের কর্মপরিকল্পনা

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব এবং বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা -ড. মোহাম্মদ নূরুল হক বাংলাদেশ একটি জলবায়ু-সংবেদনশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বনভূমি ও বৃক্ষ আচ্ছাদন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং গ্রামীণ জীবিকা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণ পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃক্ষ শুধু অক্সিজেন সরবরাহই করে না, বরং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে বৃক্ষ মাটি ক্ষয় রোধ, পানি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কাঠ, ফল এবং ঔষধি গাছ মানুষের আয়ের উৎস সৃষ্টি করে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। বর্তমান সরকার বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব অনুধাবন করে একটি জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ২০২৬ সাল থেকে শুরু করে পাঁচ বছরে মোট ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন ২২.৩৭ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ চারা সরবরাহ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এ ছাড়া জাতীয় বননীতি–২০১৬, ফরেস্ট্রি মাস্টার প্ল্যান (২০১৬–২০৩৬) এবং অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (২০২১–২০২৫) টেকসই বন ব্যবস্থাপনা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ------------ড. মোহাম্মদ নূরুল হকসিনিয়র প্রভাষকপদার্থবিজ্ঞান বিভাগক্যামব্রিয়ান কলেজ। ঢাকা

সাংবাদিকরা কেন সব দায় ‘দুর্বৃত্তদের’ ঘাড়ে চাপান?

কলাম: জাহিদ ইকবাল বাংলাদেশে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলেই সংবাদমাধ্যমে একটি শব্দ প্রায়ই চোখে পড়ে—“দুর্বৃত্ত”। আগুন লাগানো, হামলা, গুলি চালানো কিংবা ভাঙচুরের সংবাদে বারবার লেখা হয়—“দুর্বৃত্তদের হামলা”, “দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে”, “দুর্বৃত্তদের আগুনে ক্ষতি”। কিন্তু সাধারণ পাঠকের মনে তখন একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে—এই দুর্বৃত্ত কারা? কেন সাংবাদিকরা আসল অপরাধীর নাম প্রকাশ করেন না এবং সব দায় যেন রহস্যময় ‘দুর্বৃত্তদের’ ওপরই চাপিয়ে দেন? বাস্তবে এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, আইনি ঝুঁকি একটি বড় বিষয়। বাংলাদেশে মানহানি আইনসহ বিভিন্ন আইনি বিধান রয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া অভিযোগ প্রকাশ করলে সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। মানহানির মামলা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতাকেও প্রভাবিত করে। ফলে অনেক সময় “দুর্বৃত্ত” শব্দটি সাংবাদিকদের কাছে এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাবও একটি বড় বাস্তবতা। অনেক সহিংস ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও সরাসরি তাদের নাম প্রকাশ করা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। হুমকি, চাপ, এমনকি শারীরিক আক্রমণের ঘটনাও সাংবাদিকদের জীবনে নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে স্থানীয় সাংবাদিকরা এ ধরনের ঝুঁকির মুখে বেশি থাকেন। তাই অনেক সময় আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবেই সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা হয়। তৃতীয়ত, পুলিশ বা প্রশাসনের ভাষা সংবাদে বড় প্রভাব ফেলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা পুলিশের ব্রিফিং বা থানার তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সংবাদ তৈরি করেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রায়ই বলে—“অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত” বা “অজ্ঞাত ব্যক্তি”। সেই ভাষাই অনেক সময় সংবাদে হুবহু চলে আসে। ফলে “দুর্বৃত্ত” শব্দটি ধীরে ধীরে সংবাদভাষার একটি প্রচলিত অংশ হয়ে উঠেছে। চতুর্থত, তথ্যের সীমাবদ্ধতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। অনেক হামলা ঘটে রাতের অন্ধকারে, অথবা খুব দ্রুততার সঙ্গে। হামলাকারীরা মুখ ঢেকে রাখে বা দ্রুত পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরাও অনেক সময় নিশ্চিতভাবে কাউকে শনাক্ত করতে পারেন না। এই অবস্থায় যাচাই-বাছাই ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ডিজিটাল যুগে সংবাদ প্রকাশের গতি বহুগুণ বেড়ে গেছে। অনলাইন পোর্টালগুলোতে অনেক সময় ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংবাদ প্রকাশ করতে হয়। দ্রুততার এই চাপের কারণে সব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয় না। ফলে নিশ্চিত তথ্য না থাকলে “দুর্বৃত্ত” শব্দ ব্যবহার করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং পরবর্তীতে তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করা হয়। তবে “দুর্বৃত্ত” শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। অনেকের মতে, এটি অপরাধের প্রকৃত চিত্র আড়াল করে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও কখনও এতে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। পাঠক তখন পুরো সত্যটি জানতে পারেন না। গণমাধ্যমের দায়িত্ব শুধু ঘটনা জানানো নয়; সত্য অনুসন্ধান করা এবং দায় নির্ধারণে সমাজকে সহায়তা করা। তাই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্ব এখানে অনেক বেশি। ঘটনার পরবর্তী সময়ে তদন্তভিত্তিক প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা তুলে ধরা প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, সংবাদে “দুর্বৃত্ত” শব্দের ব্যবহার সাংবাদিকদের ভয়, আইনি সীমাবদ্ধতা, তথ্যের অভাব এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। তবে একই সঙ্গে এটি আমাদের গণমাধ্যমের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলোকেও তুলে ধরে। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা যখন আরও বিকশিত হবে, তখন হয়তো সংবাদে এই রহস্যময় “দুর্বৃত্ত” শব্দের ব্যবহার কমে আসবে। তখন অপরাধীরা পরিচয়সহ চিহ্নিত হবে, দায় নির্ধারণ হবে এবং নাগরিকরা সত্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে। সেদিন সংবাদ শুধু তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম থাকবে না; বরং তা হবে সামাজিক ন্যায়, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শক্তিশালী দিকনির্দেশক।

ব্যক্তিপূজার রাজনীতি ও ‘পায়ে সালাম’ সংস্কৃতি নিয়ে উদ্বেগ

নজরবিডি। মতামত বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় এসেছে ‘পায়ে সালাম’ বা নেতার পা ছুঁয়ে আনুগত্য প্রকাশের সংস্কৃতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল মনে করেন, এই প্রবণতা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার, রাজনৈতিক নৈতিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ—সবকিছুর সঙ্গেই সাংঘর্ষিক। একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছু নেতা-কর্মীর মধ্যে নেতাদের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করার প্রবণতা নতুন করে দেখা যাচ্ছে। এটি কেবল ব্যক্তিপূজার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং একটি স্বৈরাচারী মানসিকতার জন্ম দেয়, যেখানে যোগ্যতার বদলে আনুগত্যই হয়ে ওঠে রাজনীতির প্রধান মানদণ্ড। জাহিদ ইকবাল উল্লেখ করেন, বিগত দেড় দশকে ক্ষমতার কেন্দ্রকে তুষ্ট করার জন্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতারাও আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এই সংস্কৃতিতে যুক্ত ছিলেন। এর ফলে নেতা ও কর্মীর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক নষ্ট হয়ে দাসত্বের এক অসুস্থ পরিবেশ তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই ধরনের আচরণ উৎসাহিত হয়নি, যা তার রাজনৈতিক রুচি ও ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কিছু অতিউৎসাহী নেতা-কর্মীর আচরণে আবারও সেই পুরোনো সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও ‘পায়ে সালাম’ সংস্কৃতিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে বলে মত দেন তিনি। ইসলামে সালাম হলো দোয়া ও সম্মানের প্রকাশ; কিন্তু কাউকে সম্মান জানাতে গিয়ে মাথা নত করা বা পা স্পর্শ করা ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নবী করিম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের জীবনাচরণে এমন নজির পাওয়া যায় না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকের মতে, রাজনীতি মানুষের কল্যাণের মাধ্যম হওয়া উচিত, ব্যক্তিপূজার নয়। নেতাদের উচিত স্পষ্ট নির্দেশনার মাধ্যমে এই ধরনের আচরণ বন্ধ করা এবং নেতা-কর্মীর সম্পর্ককে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, “একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সমাজ ও রাজনীতি থেকে ‘পায়ে ধরা’ সংস্কৃতি উপড়ে ফেলতে হবে। মানুষের মাথা নত হবে কেবল সৃষ্টিকর্তার সামনে—কোনো ব্যক্তির সামনে নয়।”

অনলাইন জরিপ অনলাইন জরিপ

১৩ মে ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আপনি কি জুলাই সনদের পক্ষে?

আপনি কি জুলাই সনদের পক্ষে?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়: ড. আসিফ মিজানের অভিনন্দন

ডিগ্রীর ক্ষুদ্র গণ্ডিতে তাঁকে বাঁধা অমূলক — ড. আসিফ মিজান

উত্তরায় রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

রাজনীতির মাঠ থেকে এমপি,এবার মন্ত্রীর খাতায় নাম দেখতে চান গোপালগঞ্জবাসী

মুকসুদপুরে চুরির ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ

সংবাদপত্রের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান ড. আসিফ মিজানের

জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করতে চাই- বাবলু

যাত্রা শুরু করল আধুনিক “হেয়ার কাট জেন্টস পার্লার”

নড়াইলে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালিত

১০

লালপুরে দেড় কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়ম

জনপ্রিয় সব খবর

হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিতর্ক: টিকাদান ব্যাহত হওয়ার দায় নিয়ে প্রশ্ন

মুকসুদপুরে “রাজ দরবার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট” এর যাত্রা শুরু

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার

রাজপথ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক শিমুল আহমেদের ত্যাগ ও নেতৃত্বের গল্প

সবুজ-পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই: ডিএসসিসি প্রশাসক

গোপালগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত রিকশাচালক

ডুমুরিয়ায় লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়: ড. আসিফ মিজানের অভিনন্দন

১০

সাটুরিয়ায় জমি বিরোধে ‘নয়া দিগন্ত’ প্রতিনিধির ওপর হামলা, হত্যার চেষ্টার অভিযোগ

সর্বশেষ সব খবর

সারাদেশ

মুকসুদপুরে “রাজ দরবার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট” এর যাত্রা শুরু

মুকসুদপুরে “রাজ দরবার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট” এর যাত্রা শুরু

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নিশাতলা এলাকায় যাত্রা শুরু করলো “রাজ দরবার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট”। আজ শুক্রবার (১৫ মে) বিকাল ৪টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রেস্টুরেন্টটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম; ছবি: নজরবিডি ডট কমউদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড্রিমওয়ে গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোঃ মিজানুর রহমান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ড্রিমওয়ে গ্রুপের ডিরেক্টর আবু সুফিয়ান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল হাই, মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ছিরু মিয়া, দিগনগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম লিটু এবং করোনা ফ্যাশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কাজী আবু বক্কার।রাজ দরবার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট” এর স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম রাজ; ছবি: নজরবিডি ডট কমএসময় “রাজ দরবার হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট” এর স্বত্বাধিকারী আবুল কাশেম রাজ শুভেচ্ছা বক্তব্যে অতিথিদের ধন্যবাদ জানান এবং রেস্টুরেন্টটির সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃ ওহিদুল ইসলাম, সরকারি মুকসুদপুর কলেজের সাবেক জিএস মিজানুর রহমান মন্টু মৃধা, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আসলাম মুন্সী, কাশালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অশোক মৃধা, খান্দারপাড় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ ইমারত শেখসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কেটে রেস্টুরেন্টটির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

বগুড়ায় স্ত্রীর পরকীয়া ও অন্যত্র বিয়ের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন রাহুল যাদব (৩২) নামে এক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।নিহত রাহুল যাদব বগুড়া শহরের নামাজগড় ডালপট্টি এলাকার নিরঞ্জন গোয়ালার একমাত্র ছেলে। তিনি দেশে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের ডাল আমদানির ব্যবসা করতেন।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে রাহুল যাদবের স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে আট বছরের মেয়েকে রেখে অন্য এক যুবককে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তিনি তীব্র মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন রাহুল। পরে দুপুর ২টার দিকে নিজ বাড়িতে বিষাক্ত ট্যাবলেট সেবন করলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল সাদিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।"

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দেহবিহীন মানুষের একটি মাথার খুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে গত শনিবার একই ইউনিয়নের নতুন আশ্রয়ণ এলাকার একটি টিলা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।আজ শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশের একটি টিলার খাদ থেকে এই মাথার খুলিটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, শুক্রবার উদ্ধার হওয়া খুলিটি আগের সেই মরদেহের অংশ হতে পারে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাইন্দং ডলু আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা শিরু আক্তার দুপুরে ছাগল খুঁজতে গিয়ে টিলার খাদে সাদা রঙের একটি বস্তু দেখতে পান। কাছে গিয়ে সেটি মানুষের মাথার খুলি বলে বুঝতে পেরে আতঙ্কিত হয়ে তিনি পাশের দোকানদার আজমকে বিষয়টি জানান। পরে খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।ঘটনাস্থল থেকে শিরু আক্তার বলেন, “ছাগল খুঁজতে গিয়ে নিচে সাদা রঙের মাথার মতো কিছু দেখতে পাই। কাছে গিয়ে বুঝতে পারি এটি মানুষের মাথার খুলি। ভয় পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসি। পরে সবাইকে জানালে তারা পুলিশকে খবর দেয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।”ফটিকছড়ি থানার পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “দেহবিহীন একটি মানুষের মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কয়েকদিন আগে একই এলাকায় উদ্ধার হওয়া মাথাবিহীন মরদেহের অংশ। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ বিশ্লেষণ করা হবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।”

 গোপালগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত রিকশাচালক

গোপালগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল যুবকের, আহত রিকশাচালক

একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন রিকশাচালক সামিউল মোল্লা। বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট সড়কের সদর উপজেলার ভেড়ারবাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর এলাকা থেকে রিকশাযোগে শহরের দিকে যাচ্ছিলেন মৃদুল শেখ। পথে ভেড়ারবাজার এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক রিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃদুল শেখের মৃত্যু হয় এবং রিকশাচালক সামিউল মোল্লা গুরুতর আহত হন।দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে আহত সামিউল মোল্লাকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত মৃদুল শেখ সদর উপজেলার খাটিয়াগড় উত্তরপাড়া গ্রামের ফেলান শেখের ছেলে।

আন্তর্জাতিক

২৭ মে হতে পারে ঈদুল আজহা: আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পূর্বাভাস

২৭ মে হতে পারে ঈদুল আজহা: আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পূর্বাভাস

পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সম্ভাব্য তারিখ এবং সেই অনুযায়ী ঈদুল আজহার সময় নিয়ে আগাম তথ্য দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্র (আইএসি)।সংস্থাটির গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী ২৭ মে (বুধবার) বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক প্রতিবেদনে আইএসি এই তথ্য জানায়।আইএসির জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিবেদনে জিলহজ মাসের চাঁদ নিয়ে নিম্নোক্ত তথ্যগুলো দেওয়া হয়েছে  আগামী ১৭ মে মুসলিম দেশগুলো জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার প্রস্তুতি নেবে।ওই দিন পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ থেকে টেলিস্কোপের সাহায্যে চাঁদ দেখা যেতে পারে। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার অধিকাংশ অঞ্চল থেকে খালি চোখেও চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।গাণিতিক গণনা অনুযায়ী, ১৮ মে (সোমবার) থেকে হিজরি ১৪৪৭ সালের জিলহজ মাস শুরু হতে পারে।সাধারণত জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালিত হয়। সেই হিসেবে আরাফাত দিবস (৯ জিলহজ): ২৬ মে (মঙ্গলবার)। ঈদুল আজহা (১০ জিলহজ): ২৭ মে (বুধবার)।উল্লেখ্য, এটি একটি গাণিতিক পূর্বাভাস মাত্র। ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট দেশের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।

১৭ ঘন্টা আগে

রাজধানী

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়: ড. আসিফ মিজানের অভিনন্দন

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নীল প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়: ড. আসিফ মিজানের অভিনন্দন

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের (নীল প্যানেল) ঐতিহাসিক ও নিরঙ্কুশ বিজয়ে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন দারু সালাম বিশ্ববিদ্যালয়, সোমালিয়ার ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।নির্বাচনে সভাপতি পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীসহ ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টিতেই জয়লাভ করেছে নীল প্যানেল। এই গৌরবোজ্জ্বল বিজয় উপলক্ষে দেওয়া এক অভিনন্দন বার্তায় ড. আসিফ মিজান গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।অভিনন্দন বার্তায় প্রফেসর ড. আসিফ মিজান উল্লেখ করেন, "এই জয় কেবল একটি প্যানেলের বিজয় নয়; বরং এটি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সুশাসনের পক্ষে সচেতন আইনজীবীদের কণ্ঠস্বরের প্রতিফলন। বিজ্ঞ আইনজীবীদের এই গণরায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, দেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমাজ সর্বদা আপসহীন ও অতন্দ্র প্রহরী।"তিনি আরও বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অনন্য মাইলফলক। নবনির্বাচিত এই মেধাবী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তাঁদের সততা ও অকুতোভয় সাহসিকতার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মর্যাদা ও ঐতিহ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।ড. আসিফ মিজান নবনির্বাচিত কমিটির সাফল্য কামনা করে বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, এই কমিটি সাধারণ বিচারপ্রার্থী মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।"বার্তার শেষাংশে তিনি নবনির্বাচিত সকল কর্মকর্তা ও কার্যনির্বাহী সদস্যকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সকল জনকল্যাণমুখী ও পেশাগত উদ্যোগের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

১০ ঘন্টা আগে

রাজনীতি সংবাদ

রাজপথ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক শিমুল আহমেদের ত্যাগ ও নেতৃত্বের গল্প

রাজপথ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু সৈনিক শিমুল আহমেদের ত্যাগ ও নেতৃত্বের গল্প

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল—টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, প্রতিটি প্রান্তে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যে নামটি সবসময় অগ্রভাগে থাকে। আর এই যুবদলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট হলো ঢাকা মহানগর উত্তর। এই ইউনিটের এক লড়াকু, বিশ্বস্ত এবং রাজপথ কাঁপানো নেতার নাম শিমুল আহমেদ। যিনি মাঠ পর্যায় থেকে নিজের যোগ্যতা, ত্যাগ আর সততার প্রমাণ দিয়ে আজ যুব রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছেন।রাজনীতি মানেই যেখানে ত্যাগ, সেখানে শিমুল আহমেদ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিগত সরকারের দমন-পীড়নের মুখে কোনো দিন মাথানত করেননি তিনি। দলীয় চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মতিঝিলের রাজপথ থেকে শুরু করে পল্টনের দলীয় কার্যালয়—প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তাকে দমনের চেষ্টা করেছে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।কারাভোগের খতিয়ানই বলে দেয় দলের প্রতি তার আনুগত্য কতটা গভীর দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৮ দিন কারাভোগ। ২০২৩ সালের আগস্টে পল্টন থেকে গ্রেপ্তার হয়ে ৫৬ দিন রাজবন্দী হিসেবে কাটানো। ২০১০ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় দীর্ঘ ১৬ মাস কারাবরণ। চব্বিশের নির্বাচনের আগে উত্তরা ৭ থানার প্রতিটি রাজনৈতিক মামলায় তাকে এজাহারভুক্ত আসামি করে দমনের চেষ্টা করা হয়।সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়টি রচিত হয় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে। ঢাকা মহানগর উত্তরের রাজপথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সফল করতে শিমুল আহমেদ সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন, যার ফলশ্রুতিতে তার ওপর নেমে আসে অসংখ্য মামলার বেড়াজাল। কিন্তু কোনো ভয় বা প্রলোভন তাকে রাজপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।শিমুল আহমেদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি দীর্ঘ দুই দশকের ধারাবাহিক শ্রমের ফসল। ২০০২ সালে বৃহত্তর উত্তরা থানার দক্ষিণখান ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে (জসিম ও সাইফুল আলম নিরব কমিটির সময়ে) তার যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ তাকে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে।তিনি উত্তরা মডেল থানা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব) অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মিরপুর জোনের টিম প্রধান হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার ক্ষমতা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচন পরিচালনা কমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি তার দক্ষতার ছাপ রেখেছেন।বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, যারা বারবার জেল খেটেছেন এবং যারা রাজপথের কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন—তাদেরই এখন নেতৃত্বে আসা সময়ের দাবি। এই বাস্তবতায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলকে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী করতে সাধারণ সম্পাদক বা সদস্য সচিব পদের জন্য শিমুল আহমেদ একজন অত্যন্ত যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।উত্তরা পশ্চিম থানার স্থায়ী বাসিন্দা মো: শহিদুল ইসলাম ও মোসা: শহীদা বেগমের এই সন্তান সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে জনপ্রিয়। বৃহত্তর উত্তরা এলাকার প্রতিটি সামাজিক ও মানবিক সংকটে তিনি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মতে, শিমুল আহমেদ কেবল একজন নেতাই নন, তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের প্রতিটি কর্মীর আস্থার প্রতীক। মাঠের কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এই নেতা আগামী দিনে যুবদলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন—এমনটাই প্রত্যাশা উত্তর যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। রাজপথের এই পরীক্ষিত নেতৃত্বই হোক আগামী দিনের প্রেরণা।

গাজীপুরে নিহত পরিবারের পাশে এমপি বাবর

গাজীপুরে নিহত পরিবারের পাশে এমপি বাবর

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক নারী, তার তিন শিশুসন্তান ও ভাইকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় নিহত পরিবারের পশে গোপালগঞ্জ ২ আসনের এমপি ডা. কেএম বাবর। নিহত শারমিন আক্তারের ভাইদের চাকুরী দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ মে)  সন্ধ্যায় নিহত রসুল ও শারমিন আক্তারের গ্রামের  বাড়ি পাইককান্দি গিয়ে পরিবারের খোঁজ খবর নেয় এমপি। এ সময় গোপালগঞ্জ ২ আসনেন সংসদ সদস্য  ডা. কেএম বাবর নিহত শারমিন আক্তারের বাবা শাহাদাত মোল্লাকে আশ্বস্ত করেন তাদের পরিবারে যোগ্য কেউ থাকলে তকে  চাকুরী ব্যাবস্থা করে দেওয়া হবে জানান, এতে নিহত পরিবার আর্থিকভাবে স্বাচ্ছন্দে থাকতে পারবে বলে জানান তিনি। এসময় গোপালগঞ্জ জেলা ও উপজেলা  বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক নারী, তার তিন শিশুসন্তান ও ভাইকে ১০ মে রাতে  গলা কেটে হত্যা করা হয়।  নিহতদের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে। নিহতরা হলেন—শারমিন আক্তার (৩৫), তার তিন সন্তান মিম আক্তার (১৫), মারিয়া (১২) ও ফারিয়া (১) এবং তার ভাই রসুল হোসেন। শারমিন আক্তার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লা চৌকিদারের মেয়ে। তারা দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরে বসবাস করতেন।ঘটনার পর থেকেই নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, তিনিই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। 

আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের কাজ

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আল্লাহ তাআলা যাকে যে অবস্থানে রাখেন, তার মাঝেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত থাকে। আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো আন্তরিকতার সাথে দ্বীনের জন্য কাজ করে যাওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সবসময় সন্তুষ্ট থাকা।"বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে রাজধানীর আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় শিক্ষা শিবিরের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শিক্ষা শিবিরে সারা দেশ থেকে আসা নারী নেত্রীদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে বলেন, মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পরকালীন মুক্তি। দুনিয়ার সাময়িক কোনো প্রাপ্তি বা অভাব যেন ঈমানের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।অনুষ্ঠানে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইবাদত শুধু নামাজে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি কাজ আল্লাহর আইন অনুযায়ী পরিচালনা করাই প্রকৃত দ্বীনদারী।মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার আহ্বান জানান। তিনি কর্মীদের আদর্শ, তাকওয়া এবং সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মন। দেশের সকল জেলা থেকে বাছাইকৃত নারী দায়িত্বশীলরা এতে অংশ নিচ্ছেন। ১৪ মে শুরু হওয়া এই শিক্ষা শিবির চলবে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত।অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকাই মুমিনের কাজ

স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ করা সময়ের দাবি: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

দেশের স্বাস্থ্যখাত এখন সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাতে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, এই খাতের লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় 'প্রাক হেলথ কেয়ার'-এর ২য় সেন্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, নাগরিকের শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দেওয়া সরকারের দায়িত্ব, যার জন্য জনগণ কর দেয়। কিন্তু সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা সমাধানে আসন্ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত দ্বীনদার ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যমূলক ও হয়রানিমূলক বদলি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাস্থ্যসেবায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে (ডিএনসিসি) একটি স্বাস্থ্যবান্ধব ও বৈষম্যহীন জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ব্যক্ত করেন তিনি। বিশেষ করে সামর্থ্যহীনদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেন।প্রাক হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) প্রফেসর ডা. জেহাদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের এডমিন ইনচার্জ মো. জুবায়ের হোসাইন রাজন এবং শিক্ষা বিভাগের কো-অর্ডিনেটর মো. রায়হান উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।

স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি বন্ধ করা সময়ের দাবি: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন

শুক্রবার রংপুর সফরে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর সফরে যাচ্ছেন। বুধবার (১৩ মে) দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফরের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ডা. শফিকুর রহমান রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের উদ্যোগে স্থানীয় রংপুর মডেল কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত উপজেলা ও থানা আমির সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। একই দিনে তিনি ওই অঞ্চলের টিম সদস্য এবং জেলা ও মহানগর আমিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।সফরকালে দুপুরে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকে মিলিত হবেন।বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে একটি সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ডা. শফিকুর রহমান সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করবেন।জামায়াত আমিরের এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন সংগঠনের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম এবং স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যরা।

শুক্রবার রংপুর সফরে যাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

‘আল্লাহর হুকুমেই শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে’: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

বিগত সরকারের দমন-নিপীড়ন ও জুলাই বিপ্লবের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ফ্রাঙ্কেস্টাইন পদ্ধতিতে দেশ শাসন করা ভয়ঙ্কর শাসক হাসিনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া ছিল সম্পূর্ণ আল্লাহর হুকুম। বুধবার (১৩ মে) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।সাবেক এই ছাত্রনেতা তার দীর্ঘ জেল জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমি ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে হাসিনার আমলে প্রায় ১২-১৩ বার কারাবরণ করেছি। সর্বশেষ গত ২৫ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে ৫ আগস্ট বের হই। ১ আগস্টও আমাদের মনে হয়নি যে আমরা মুক্তি পাব। ৫ আগস্ট যখন রেডিওতে শুনলাম হাসিনা পালিয়ে গেছে, তখন আমরা একে অপরকে আলিঙ্গন করে কেঁদে ফেলেছিলাম।”আন্দোলনের দিনগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “৪ আগস্ট জেলখানা থেকে খবর পেলাম লক্ষ্মীপুরে একদিনেই ১৩ জন মারা গেছে। ফাসিঁবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে থাকা ৮ জন এবং পরবর্তীতে গডফাদার তাহেরের বাড়িতে জনতার দেওয়া আগুনে পুড়ে আরও ৬-৭ জন মারা যায়। এই মৃত্যুর মিছিল দেখে আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহর হুকুম ও উসিলা হিসেবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই এই স্বৈরশাসকের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে।”উপস্থিত জামায়াত নেতাদের উদ্দেশ্যে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে, তা যেন রাজপথেও অটুট থাকে। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মিলেমিশে যেভাবে কথা বলি, সেভাবেই যেন বাইরেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে চলতে পারি।”মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঙ্গে কারাজীবনের ঘনিষ্ঠ স্মৃতিচারণ করে এ্যানি বলেন, “উনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আড্ডা, নামাজ ও খাওয়া-দাওয়ার স্মৃতি রয়েছে। উনার দাওয়াত পেয়ে জেল জীবনের সেই দিনগুলোর কথা বলতে আমি চলে এসেছি।” এছাড়া কারান্তরীণ অবস্থায় মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, সাঈদী সাহেব এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাটানো নানা মুহূর্তের স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।অনুষ্ঠানে মিয়া গোলাম পরওয়ারের লেখা পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইগুলো হলো— লৌহকপাটের অন্যজীবন, মুমিনের জীবনে নিয়ামত ও মুসিবত, কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.), ঈমানের উন্নতি এবং মুমিনের শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার সালাত ও সবর।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম। এছাড়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

‘আল্লাহর হুকুমেই শেখ হাসিনার বিদায় হয়েছে’: শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

অর্থনীতি

সকল জেলার খবর

আর্কাইভ

কৃষি,সাক্ষাৎকার

ডুমুরিয়ায় লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা / ডুমুরিয়ায় লবণাক্ত জমিতেও সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন

দেশে ভোজ্যতেলের সিংহভাগই আমদানিনির্ভর, যার কারণে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়। এই আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে খুলনাঞ্চলের পতিত ও লবণাক্ত জমিতে সূর্যমুখী চাষে বড় ধরনের সফলতা আসছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় উপকূলীয় অঞ্চলের চাষিদের হাত ধরে এখন লবণাক্ত জমিতে হাসছে সূর্যমুখী।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের সহায়তায় খুলনা অঞ্চলের কৃষকদের সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উচ্চফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট—এই চার জেলা নিয়ে গঠিত খুলনা অঞ্চলের প্রায় ৫৭ শতাংশ জমিই লবণাক্ত। সাধারণত আমন ধান কাটার পর খরিপ–১ মৌসুমে (নভেম্বর থেকে মার্চ) প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি পতিত থাকে।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, “সাধারণত ৮ ডিএস পার মিটার লবণাক্ততা থাকলে জমিকে চাষের অনুপযোগী বলা হয়। কিন্তু সূর্যমুখী ১৫ ডিএস পার মিটার পর্যন্ত লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ফলে উপকূলের পতিত জমি আবাদের আওতায় আনার জন্য সূর্যমুখী এখন অন্যতম সম্ভাবনাময় ফসল।”খুলনাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদর্শনী মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, বিশাল বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সূর্যমুখীর চোখজুড়ানো ফলন হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন প্রকৃতিতে হলুদ রঙের গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। মাঠে বাতাসে দুলছে বারি সূর্যমুখী-৩ জাতের হাজার হাজার ফুল।বাগেরহাটের মোল্লারহাট উপজেলার আটজুড়ী গ্রামের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমলা বিশ্বাস জানান, তাঁর এলাকার পেয়ারী বেগম, বাচ্চু মিয়া, নিজাম মোল্লাসহ কয়েকজন কৃষক ২ একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। সেখানে একেকটি ফুলের পরিধি প্রায় ১৫ ইঞ্চি এবং প্রতিটি হেটের (বীজের চাকতি) ওজন এক কেজিরও বেশি হয়েছে।নড়াইল সদর উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, “আগে আমন কাটার পর লবণ ওঠার ভয়ে জমি পতিত রাখতাম। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে প্রথমবার সূর্যমুখী করে বাম্পার ফলন পেয়ে আমি নিজেই অবাক!” একই সুর খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর ইউনিয়নের আলকা গ্রামের চাষি রেজাউল করিমের। তিনি বলেন, “সূর্যমুখীতে সেচের পানি খুব কম লাগে। এবার ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হবে আশা করছি।”কৃষি কর্মকর্তাদের হিসাবে, এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে বারি-৩ জাতের সূর্যমুখী চাষ করতে বীজ, সার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সরকারি প্রণোদনা (বীজ ও সার) পেলে কৃষকের নিজস্ব খরচ হয় মাত্র সাড়ে তিন হাজার টাকার মতো।ফলন ভালো হলে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৭ থেকে ৮ মণ (প্রায় ৩০০ কেজি) বীজ পাওয়া যায়। এক কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে ৪০০ গ্রাম তেল নিষ্কাশন সম্ভব। সেই হিসাবে এক বিঘা জমি থেকে প্রায়১৩০ লিটার তেল পাওয়া যাবে। প্রতি লিটার তেলের বাজারমূল্য ২৫০ টাকা ধরলে কমবেশি ৩২ হাজার টাকার তেল পাওয়া সম্ভব। এছাড়া সূর্যমুখীর খৈল ও শুকনো গাছ জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করা যায়।খুলনার ফুলতলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা আরিফ হোসেন জানান, সাধারণ কৃষকদের অনীহা কাটাতে প্রথমে ক্যান্টনমেন্ট ও পুলিশ লাইন্সের পতিত জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। সেই ফলন দেখে এখন সাধারণ মানুষ উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।কৃষিবিদরা বলছেন, সূর্যমুখী চাষে জমির উর্বরতাও বাড়ে। ধানের শিকড় যেখানে মাত্র ৬-৮ ইঞ্চি গভীরে যায়, সূর্যমুখীর শিকড় যায় ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত। এর পাতা মাটিতে পচে চমৎকার জৈব সার তৈরি করে, যা পরবর্তী ফসলের খরচ কমিয়ে দেয়। ৮৫-১০৫ দিনের জীবনকাল হওয়ায় আমন ও বোরো ধানের মধ্যবর্তী সময়ে এই চাষ করে এরপর পাট, তিল বা মুগডাল চাষ করা সম্ভব।পার্টনার প্রকল্পের খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, “দেশে বছরে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ভোজ্যতেল আমদানি করতে হয়। চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ স্থানীয়ভাবে মেটানো সম্ভব হয়। যদি আমরা আমন পরবর্তী সময়ে পতিত ও লবণাক্ত জমির মাত্র ৫০ শতাংশেও সূর্যমুখীর আবাদ বাড়াতে পারি, তবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং আমরা তেল আমদানিকারকদের হাত থেকে রক্ষা পাব।”তিনি আরও জানান, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলে ১ হাজার ৬শ হেক্টর জমি সূর্যমুখী চাষের আওতায় এসেছে। 'পার্টনার' প্রকল্পের আওতায় ৪০টি ব্লকে কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খুলনা অঞ্চলের কৃষি অভিযোজন প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৩০টি উপজেলার জন্য ৮টি তেল নিষ্কাশন মেশিন দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিটি উপজেলাতেই এই মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।পার্টনার প্রকল্পের কর্মসূচি সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খুলনা অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সূর্যমুখী চাষের এই সুন্দর উদ্যোগ অনাবাদি জমির পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর সূর্যমুখী তেলকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করবে।”

ইভেন্ট

লা লিগা
লা লিগা
ইপিএল
ইপিএল
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ লিগ
ফ্রেঞ্চ ওপেন
ফ্রেঞ্চ ওপেন
উইম্বলডন
উইম্বলডন
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ
বুন্দেসলিগা
বুন্দেসলিগা
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউরোপা লিগ
ইউএস ওপেন
ইউএস ওপেন