নজর বিডি

ইমাম বুখারির মহাকাব্যিক জীবন

ইমাম বুখারি—ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। শৈশবে পিতাকে হারিয়ে এতিম হওয়া, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পরে অভাবনীয় মেধার জোরে বিশ্ব জয় করা এই হাদিস সম্রাটের জীবনসংগ্রাম কেবল অনুপ্রেরণাই নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য নিদর্শন।১৯৪ হিজরিতে উজবেকিস্তানের বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম, যিনি ইতিহাসে ইমাম বুখারি নামে পরিচিত। তার অলৌকিক স্মৃতিশক্তির একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত হলো—ছাত্রজীবনে সহপাঠীরা যখন লিখতেন, তিনি তখন কেবল শুনতেন। পরে ১৫ হাজার হাদিসের ভুল সংশোধন করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে, তার মেধার কোনো তুলনা নেই। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি জ্ঞান অর্জনে মক্কা, মদিনা, বাগদাদসহ বিশ্বের বড় বড় জ্ঞানকেন্দ্রে ছুটে যান।দীর্ঘ ১৬ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইমাম বুখারি সংকলন করেন ইসলামের ইতিহাসের বিশুদ্ধতম গ্রন্থ ‘আল-জামিউস সহিহ’। ৬ লাখ হাদিসের ভাণ্ডার থেকে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে মাত্র ৭ হাজার ২৭৫টি হাদিস তিনি এই গ্রন্থে স্থান দিয়েছেন। হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তার বেঁধে দেওয়া দুটি শর্ত—বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা এবং শিক্ষক-ছাত্রের সরাসরি সাক্ষাতের প্রমাণ—আজও হাদিস শাস্ত্রের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।জ্ঞান ও খ্যাতির শিখরে পৌঁছানোর পর তাকে সমসাময়িক কিছু আলেমের ঈর্ষার শিকার হতে হয়। এছাড়া, বুখারার গভর্নরের রাজপ্রাসাদে গিয়ে হাদিস শোনানোর নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করায় তাকে জন্মভূমি থেকে নির্বাসিত হতে হয়। শেষ জীবনে তিনি সমরখন্দের কাছে ‘খরতঙ্ক’ নামক এক ছোট্ট গ্রামে আশ্রয় নেন।নির্বাসিত জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাহাজ্জুদের নামাজে তিনি আল্লাহর কাছে ইহজগত থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন। সেই দোয়ার পর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পর তার কবর থেকে ছড়িয়ে পড়া কস্তুরীর সুবাস এবং আকাশে শুভ্র আলোর স্তম্ভ দেখার অলৌকিক ঘটনা আজও ইতিহাসবিদদের স্মৃতিতে অম্লান।শত শত বছর পেরিয়ে আজও মুসলিম উম্মাহর কাছে ইমাম বুখারি ও তার গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ এক অমূল্য সম্পদ। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানির ‘ফাতহুল বারি’-সহ অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ আজও তার প্রজ্ঞার স্বাক্ষর বহন করছে।

ইমাম বুখারির মহাকাব্যিক জীবন