উত্তরা-তুরাগে ময়লার গাড়ি থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভ।রাজধানীর উত্তরা-তুরাগ এলাকায় ময়লা সংগ্রহকারী গাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের চাঁদা দাবির কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।অভিযোগকারীদের ভাষ্য, প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তুরাগের বিভিন্ন মহল্লা থেকে ময়লা সংগ্রহকারী গাড়ি থামিয়ে টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটকে রাখা কিংবা ময়লা সংগ্রহ ও নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে বাধা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ভাটুলিয়া ও নয়ানীচালা ইউনিট বিএনপির সভাপতি হাজী মো. আবুল কাশেম, সাবেক বিএনপি নেতা মো. ওমর আলী, বিএনপি নেতা মো. লিটন ও মো. ফারুকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, চাঁদার টাকা পরিশোধ না করায় গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি এলাকায় ময়লা জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।তুরাগের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা ট্যাক্স দিই, সিটি কর্পোরেশনকে ফি দিই। এরপরও কেন গাড়িপ্রতি আলাদা করে টাকা দিতে হবে?”স্থানীয়দের অভিযোগ, ময়লা সংগ্রহের মতো নাগরিক সেবাকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অর্থ দাবি অব্যাহত থাকলে পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ যাতে না ওঠে, সে জন্য থানা ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।