নজর বিডি

এক বছরেই আবার ভরাট তালতলা নদী, পুনঃখননের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের সুন্দরবুনিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী তালতলা নদীটি পুনঃখননের মাত্র এক বছরের মধ্যেই আবারও পলি জমে প্রায় সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেছে। সদ্য খনন করা নদীটি বর্তমানে সমতল ভূমিতে পরিণত হওয়ায় স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।স্থানীয়দের আশঙ্কা, নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিতে পারে। এতে কয়েকশ একর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়বে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীটির স্বাভাবিক নাব্য ফিরিয়ে আনা এবং এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে গত বছর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীটির পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন করে। তবে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে নদীটিতে বিপুল পরিমাণ পলি জমে তা আবারও আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। এতে খননকাজের গুণগত মান, পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী।এ বিষয়ে আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন বলেন, তালতলা নদীটি এ এলাকার কৃষিকাজ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছর নদীটি খননের সময় মানুষ আশা করেছিল, এবার হয়তো জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই নদীটি আবার পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে যদি এক বছরের মধ্যেই নদী সমতল হয়ে যায়, তাহলে এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে কারিগরি সমীক্ষার মাধ্যমে পুনঃখনন এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।অন্যদিকে, নদীটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, জোয়ার-ভাটার প্রবণতা এবং পলি প্রবাহের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের নদীগুলোতে পলি জমার হার অনেক বেশি। তালতলা নদীর পলি ভরাটের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান ও নদীর প্রবাহ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নদীটিকে পুনরায় প্রবাহমান করতে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আমাদের টেকনিক্যাল টিম খুব শিগগিরই এলাকা পরিদর্শন করবে।স্থানীয় বাসিন্দা শ্রীকান্ত, বলরাম, রফিকুল ইসলাম ও সবিতা রানী জানান, দ্রুত পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আশপাশের কয়েকশ একর ফসলি জমি জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা নদীটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।এলাকাবাসীর দাবি, শুধু পুনঃখনন নয়, নদীর দীর্ঘমেয়াদি নাব্যতা রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পলি ব্যবস্থাপনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

 এক বছরেই আবার ভরাট তালতলা নদী, পুনঃখননের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন