নজর বিডি

এনবিআরকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গঠন করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের আরও বেশি কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হবে।মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত রাজস্ব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বক্তব্য দেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রাজস্ব সম্মেলনকে তিনি সাধারণ কোনো সম্মেলন হিসেবে দেখছেন না। এনবিআরের কার্যক্রমের সাফল্যের ওপর সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই আগামী দিনে আরও সাফল্যের পথনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।দীর্ঘদিনের শাসন-শোষণের কারণে রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে কাউকে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা এনবিআরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটির ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়।তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। জনগণ বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করেন। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এ আস্থা অর্জন সম্ভব।এনবিআরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। সরকার এনবিআরসহ পুরো রাজস্ব কাঠামোকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।তিনি বলেন, শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে সরকার বিশ্বাসী নয়। তাই অভ্যন্তরীণ আয়ের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে।রাজস্ব বাড়াতে সরকার গণমুখী উৎপাদননীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে দেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে। মানুষের আয় বৃদ্ধি ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এসব ক্ষেত্রে এনবিআরের দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত ধরন এবং নতুন নতুন ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক কর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রচলিত কর আইন সম্পর্কে জানলেই আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন সম্ভব নয়। অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে কর প্রদান পদ্ধতিকে সহজ, দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে, যাতে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিতে পারেন।তিনি বলেন, যথানিয়মে কর আদায় করা করদাতা ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ইতিবাচক। কর্মকর্তাদের আচরণ ও কার্যক্রমের মাধ্যমে করদাতাদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হলে কর আদায়ও সহজ হবে।একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি টেকসই নয় মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথ নিয়মে করের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল ও আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।তিনি বলেন, দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনবিআরকে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যাকে মানুষ ভয় নয়, বরং বিশ্বাস করবে। দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।রাজস্ব আহরণের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের পরিমাণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, এনবিআরের কর্মকর্তারা সক্ষম এবং আন্তরিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে আরও ভালো ফল অর্জন সম্ভব।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু প্রয়োজন দেশপ্রেম আর আন্তরিকতা।’

এনবিআরকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী