জ্বালানি সংকট, কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবেশগত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে ইট শিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে কুষ্টিয়ায় ‘বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমাবেশ-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।শনিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির কার্যালয়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি আয়োজিত অনুষ্ঠানে খুলনা বিভাগ ও বিভিন্ন জেলার ইটভাটা মালিক ও ব্যবসায়ী নেতারা অংশ নেন।কুষ্টিয়া জেলা ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সভাপতি মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মোহা. জিয়ারুল ইসলাম জিয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির আহ্বায়ক কাজী নাজীর আহম্মেদ মুন্নু।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. শাহজাহান জমাদ্দার ও সদস্য সচিব খাজা নাসির উদ্দীন শান্তি। এছাড়া আজিজুর রহমান মোড়ল, কাজী কামরুল ইসলাম, মাওলানা তৌফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।সমাবেশে ইট শিল্পের সংকট মোকাবিলায় বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে জিগজ্যাগ ও আধুনিক গ্রিন-টেকনোলজি ব্যবহারে সরকারি নীতিগত সহায়তা ও সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করা।কৃষিজমি রক্ষা করে বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং ড্রেজিংয়ের মাটির সুষম ব্যবহারের বিষয়েও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন নেতৃবৃন্দ।এছাড়া ইটভাটার লাইসেন্স নবায়ন ও পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করে দ্রুত ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস’ চালুর দাবি জানানো হয়।সমাবেশে প্রধান অতিথি কাজী নাজীর আহম্মেদ মুন্নু বলেন, ইট শিল্প দেশের অবকাঠামো ও অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পরিবেশগত বাধ্যবাধকতার কারণে এ শিল্প কঠিন সময় পার করছে। খুলনা বিভাগের সব জেলার মালিকদের ঐক্যবদ্ধ করে শিল্পটিকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সমস্যাগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যেই এ আয়োজন।খাজা নাসির উদ্দীন শান্তি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে ইট ব্যবসা করতে চান না তারা। সরকারের পরিবেশবান্ধব নীতির সঙ্গে তারা একমত। তবে রাতারাতি সবকিছু বন্ধ না করে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য পর্যাপ্ত সময় ও সহজ শর্তে অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জেলার ইটভাটা মালিকদের সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এসব সমস্যা নিয়ে শিগগিরই বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।সমাবেশ শেষে সভাপতি মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং ইট শিল্প রক্ষা ও টেকসই নির্মাণের স্বার্থে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।