চীনের শানডং প্রদেশে পাঁচ দিনব্যাপী সফর করেছে বিদেশি গণমাধ্যমের একটি প্রতিনিধিদল। সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও বিভিন্ন দেশের বন্ধুদের প্রদেশটির প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পরিবেশ সুরক্ষা ও উচ্চমানের উন্নয়ন কার্যক্রম কাছ থেকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়।গত ১০ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সফরের আয়োজন করে চায়না মিডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সিআরআই অনলাইন, ছিংতাও পৌর গণসরকারের তথ্য দপ্তর এবং তোংইং পৌর গণসরকারের তথ্য দপ্তর।সফরকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিংতাও ও তোংইং ভ্রমণ করেন। তারা স্থানীয় সম্প্রদায়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শানডংয়ে উদ্ভাবন প্রসার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সবুজ উন্নয়ন বাস্তবায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।সফরের কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বুদ্ধিমান উৎপাদন, জৈবপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক শিল্প, গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, নগর নবায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।ছিংতাওয়ে প্রতিনিধিদল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করেন। শিল্প ও দৈনন্দিন জীবনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে বাড়ছে, সে বিষয়েও তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক পর্যটনের সমন্বয় এবং উপকূলীয় শহরটির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিবেশও তারা ঘুরে দেখেন।প্রতিনিধিদলটি গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন, সাংস্কৃতিক পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা-ভিত্তিক শিল্পের বিকাশ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করে। ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও চা সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলো কীভাবে স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক সমাজে নতুনভাবে বিকশিত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ করেন তারা।তোংইং পর্বে সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল হলুদ নদী। নদীর মোহনায় অবস্থিত এ শহর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নদী, স্থানীয় সংস্কৃতি, শিল্প উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের পারস্পরিক সম্পর্ক পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেয়।তোংইং সফরের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় ছিল হলুদ নদী। প্রতিনিধিদল নদীটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে জানার পাশাপাশি এর পরিবেশগত সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যক্ষ করে।এ সময় তারা তোংইংয়ের শিল্প ঐতিহ্য এবং আরও উদ্ভাবনী ও টেকসই উন্নয়নের পথে শহরটির চলমান রূপান্তর সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেন।সফরে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্ব পায়। লবণাক্ত-ক্ষারীয় জমির উদ্ভাবনী ব্যবহার থেকে শুরু করে হলুদ নদীর বদ্বীপের জলাভূমি সংরক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশগত চ্যালেঞ্জকে কীভাবে টেকসই উন্নয়নের সুযোগে পরিণত করার চেষ্টা চলছে, তা প্রতিনিধিদল প্রত্যক্ষ করেন।সফরে বাংলাদেশ, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তানের বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক বন্ধুরা অংশ নেন।পাঁচ দিনের এ সফরের মধ্য দিয়ে শানডংয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সবুজ উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন দিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।