পর্দায় তাঁর গ্ল্যামার আর অভিনয়ের জাদুতে মুগ্ধ দুই বাংলা। কিন্তু লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের ঝলমলে দুনিয়া পেরিয়ে তিনি যে কতটা মাটির মানুষ, তা আবারও প্রমাণ করলেন নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জয়াকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন নেটিজেনরা।ভিডিওটিতে দেখা যায়, কোনো মেকআপ ছাড়াই, সাদামাটা পোশাকে খালি পায়ে রীতিমতো কৃষিকাজে ব্যস্ত এই তারকা। একজন সহায়তাকারীকে সঙ্গে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নিজ হাতে কোদাল চালিয়ে বাগানের মাটি প্রস্তুত করছেন তিনি। মাটির উর্বরতা বাড়াতে গোবর সার মেশাতেও দেখা গেছে তাঁকে। কায়িক শ্রমের এই ব্যস্ততার মাঝেই বেশ আনন্দের সঙ্গে নেটিজেনদের ঘুরিয়ে দেখান নিজের বাগান। পরিচয় করিয়ে দেন জবা, ঘুমন্ত জবাসহ তাঁর প্রিয় সব গাছপালার সঙ্গে।চিরতরুণী জয়া আহসানের ফিটনেস এবং সৌন্দর্য বরাবরই ভক্তদের কাছে এক বড় বিস্ময়। তবে এই ফিটনেস ধরে রাখতে তিনি কোনো কঠোর জিম বা কঠিন ডায়েটের ওপর নির্ভর করেন না। এর আগে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়া নিজেই জানিয়েছিলেন তাঁর এই ব্যতিক্রমী জীবনযাত্রার কথা।"জিম করা যে দরকার, তা অস্বীকার করি না। কিন্তু নিয়মিত জিম করা আমার হয় না। আসলে যে যার মতো করে ফিট থাকার চেষ্টা করেন। আমি যেমন চাষ করি, সে সময়ে মাটি তৈরি করা থেকে শুরু করে দরকারে কোদাল দিয়ে মাটি কোপানোর কাজও নিজে করি।"তিনি জানান, কোনো নতুন সিনেমার শুটিং শুরুর কয়েক মাস আগে প্রয়োজনভেদে পিলাটিজ বা শরীরচর্চা করলেও, দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ ও স্লিম থাকতে ঘরের এবং বাগানের কায়িক শ্রমেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি।পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে এভাবে কোদাল হাতে মাটির কাছাকাছি রূপে দেখে মুগ্ধ তাঁর অনুরাগীরা। ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে জয়াকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে শুভাকাঙ্ক্ষীরা। একজন লিখেছেন, ‘কোদাল দিয়ে কাজ করলে মনে হয় বয়স ধরে রাখা সম্ভব।’ অন্য একজনের মন্তব্য, ‘সুন্দর আর স্লিম থাকার রহস্যই হলো কাজ করা।’ অনেকেই তাঁকে ‘মাটির মানুষ’ বা ‘মাটির সঙ্গে বন্ধুত্ব, এটা সুন্দর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, ‘আর আমাদের কিছু সখিনা আছে, তারা নিজেদের ফ্যামিলির রান্না করার জন্য বাহানা খোঁজে।’পশুপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে জয়া আহসানের সুখ্যাতি দীর্ঘদিনের। তবে নিজের বাড়ির আঙিনায় বীজ বোনা থেকে শুরু করে ফসল ফলানো পর্যন্ত তাঁর এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধারণ জীবনযাপন ভক্তদের হৃদয়ে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিল।