নজর বিডি

দক্ষিণ বালুরচরে মরদেহ রাখার খাট আনা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫-৬

কেরানীগঞ্জের দক্ষিণ বালুরচরে মৃত ব্যক্তির মরদেহ রাখার খাট আনা নিয়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পারভেজ, শাহাবুদ্দিন, আলকাছ, রিপন ও জনিসহ ৫ থেকে ৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। আহতদের মধ্যে শাহাবুদ্দিন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দক্ষিণ বালুরচর প্রথম বাইতুন নূর জামে মসজিদ থেকে এক মৃত ব্যক্তির মরদেহ রাখার জন্য একটি খাট আনা হচ্ছিল। এ সময় দক্ষিণ বালুরচর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে খাট আনার কাজে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বলেন, বাইতুন নূর জামে মসজিদ থেকে আনা ওই খাটে মরদেহ রাখা যাবে না। এ নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।এ ঘটনায় শাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে পারভেজ, শাহাবুদ্দিন, আলকাছ, রিপন ও জনির নাম জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাদের ওপর অতিরিক্ত হামলা চালানো হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়রা বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার মরদেহ রাখার খাট আনা নিয়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।ভুক্তভোগীদের অভিযোগে হামলার ঘটনায় শফিকের ছেলে হৃদয়, খালেকের ছেলে আকাশ, আতাউর ও কাজুসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক, কিশোর গ্যাং ও ভূমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ভুক্তভোগীরা জানান, ঘটনার বিষয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।স্থানীয়দের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক প্রভাব ব্যবহার করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।মৃত ব্যক্তির মরদেহ রাখার খাট আনা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাকে শুধু স্থানীয় বিরোধ হিসেবে না দেখে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয় হিসেবেও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

দক্ষিণ বালুরচরে মরদেহ রাখার খাট আনা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৫-৬