নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় সুমনা ফেরদৌসী (৩৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার স্বামী লিমন মল্লিককে (২৭) আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বামী।গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের দিঘলিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত সুমনা ফেরদৌসী নারায়ণগঞ্জ জেলার বাসিন্দা এবং তিনি অভিযুক্ত লিমন মল্লিকের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে লোহাগড়া থানা পুলিশ খবর পায় যে দিঘলিয়া এলাকায় এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় সুমনা ফেরদৌসীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায় পুলিশ। এতে মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুলিশ নিহতের স্বামী লিমন মল্লিককে আটক করে। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে লিমন তার স্ত্রীকে মারধর করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন।এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ওসি মো. আব্দুর রহমান বলেন,“সোমবার রাতে এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তবে প্রাথমিকভাবে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় বিষয়টি আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামীকে আটক করা হলে তিনি স্ত্রীকে মারধরের কথা স্বীকার করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”পুলিশ জানায়, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।