নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক, যাদের অনেকেই পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশটির রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খাসহ বিভিন্ন এলাকায় এ দুর্যোগ আঘাত হানে। ভয়াবহ পানির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কারণে এ বন্যা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তী বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, বরং হিমবাহ ও পাথরের ধস থেকেই বিপুল পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় প্রবল পানির কারণে হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযানও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি। তাঁদের মধ্যে ভারতের ১৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭, যুক্তরাজ্যের ৩৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ এবং কানাডার ২৪ জন রয়েছেন। নিখোঁজদের অনেকে পবিত্র কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।এদিকে সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বত অঞ্চলেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে সেখানে অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।দুর্যোগের পর নেপাল ও চীন উভয় দেশেই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও জরুরি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।