নজর বিডি

যুদ্ধ থামাতে ঐতিহাসিক চুক্তি, তবু ইরানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর, তবে হামলা পুনরায় শুরুর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পেরদীর্ঘ সংঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। বুধবার প্রকাশিত অন্তর্বর্তীকালীন এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও চুক্তি লঙ্ঘিত হলে পুনরায় হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরান যদি চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে আমরা আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেব।” একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৬০ দিনের আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং জ্বালানি তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে।চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরান সরকারও একে কার্যকর ঘোষণা করেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন ও ইরানি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরযুক্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি প্রকাশ্যে এলো বলে জানা গেছে।ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, “সামরিক অভিযানের মাধ্যমে যা অর্জন করা সম্ভব ছিল, আলোচনার মাধ্যমে আমরা তার চেয়েও বেশি অর্জন করেছি।” চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি জানান।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। সংঘাত দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয় এবং ইরান ও লেবাননে সাত হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দেয়।১৪ দফার এই অন্তর্বর্তী চুক্তিতে এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে। এতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে।এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলার খবর পাওয়া গেছে। জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে লেবাননেও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।চুক্তির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমে গেলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। সূত্র: রইটার্স

যুদ্ধ থামাতে ঐতিহাসিক চুক্তি, তবু ইরানকে সতর্কবার্তা ট্রাম্পের